পলাশ ফুলের মালা – সুরাইয়া মাহমুদ

গল্পের_নামঃ পলাশ ফুলের মালা

 

প্রায় সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। এ সময় একজন মাঝবয়সী মহিলা খুবই দ্রুত হেঁটে আসছিলেন তার বাড়ির দিকে।তার চোখে মুখে কেমন যেন ভয়ের ছাপ। তিনি বলছেন-“দিনকাল তো তেমন ভালো যাইতেছে না, না জানি কহন কোন বিপদ আইয়া পরে। তাড়াতাড়ি বাড়িত যাওন গেলেই বাঁইচা যাই। বাড়িত পোলাডা আমার একলা রইছে”। এমন সময় মনে হল যেন পাশের একটা ঝোপের আড়াল থেকে কান্নার আওয়াজ আসছে। মহিলাটি খুব ভয়ে ভয়ে কান পেতে শোনার চেষ্টা করলেন। অবশেষে যখন বুঝলেন কোন একটা মেয়ের কান্নার আওয়াজ তখন তিনি আর দাঁড়িয়ে থাকতে পারলেন না, ছুটে গেলেন ঝোপের কাছে। গিয়ে দেখলেন একটা মেয়ে, বয়স নয়-দশের এর মত। চোখ মুখে ভয়ের ছাপ,চোখ মলিন হয়ে আছে, খাওয়া হয়নি কিছু এটা স্পষ্ট। আর মেয়েটির হাতে একটা শুকনো পলাশ ফুলের মালা। মহিলাটি মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করলেন-তুমি ক্যাডা গো মাইয়া? মেয়েটি বলল “আমি মণি”
-তো এইহানে একলা বইসা কানতাছো ক্যান? বেলা যে ফুইরা আইলো।
-আইজ আমার ভাইয়ের কথা আর মায়ের কথা খুব মনে পড়তাছে। সারাডা দিন আমি আমার ভাইরে খুঁইজা বেড়াইছি। সেই যে ভাই আমার চইলা গেছে আর ফিইরা আসে নাই। বলে মনি কেঁদে ফেলল।
-তোমার ভাই কোনহানে চইলা গেছে?
-আমারে কইয়া গেছে মায়ের ভাষারে ফিরিয়া আনার লাইগা মিছিলে যামু। সেই যে গেল ভাই আমার, আইজ পর্যন্ত ফিইরা আইলোনা।
-আর তোমার মায়ে কোনহানে গেছে?
-মা তো আমারে ছোট রাইখাই মইরা গেছে।
-হ্যাঁগো মাইয়া, তোমার বাড়িত ক্যাডা ক্যাডা রইছে?
-আমার কেউ নাই এ দুনিয়াত। ভাবি আছিল, ভাই চইলা যাওনের পর ভাবিও কই যে চইলা গেল আর খোঁজ পাই নাই তার। আইজ যদি আমার মায়ে বাঁইচা থাইকতো, আমারে এভাবে পথে পথে ঘুইরা বেড়ান লাইগতো না। মণি কাঁদতে লাগল।
-ও মাইয়া, তুমি আমার বাড়িত চলো আমার লগে। কিছু খাইয়া লইবা, দিন দুয়েক তো মনে হয় পেটে দানা পানি পড়ে নাই। চলো মাইয়া চলো।
মহিলাটি মণিকে ধরে তুললেন। এক পা বাড়াতেই মণি চিৎকার করে বলে উঠলো, “আমার মালা, আমার পলাশ ফুলের মালাডা কই গেল”?
-মালাডা তো শুকাইয়া গেছে। ওইডা দিয়া করবা ডা কি?
মণি কাঁদতে কাঁদতে বলল-ওই মালাডা আমার ভাইরে দেওনের লাইগা………. বলেই অজ্ঞান হয়ে গেল মণি। মহিলাটি মণিকে ওনার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দিলেন। মহিলাটি মণির জন্য কিছু খাবার বানালেন।তিনি ভাবছেন-মাইয়াডা মনে হয় জানে না যে ওর ভাই মিছিলে যাইয়া মইরা গেছে, আর ফিইরা আইবো না। আইলে এতদিন ফিইরা আইতো। হে খোদা, মাইয়াডারে বুঝ দেও তুমি। ওরে বুঝাও যে ওর ভাই আর কোনোদিনও ফিইরা আইবো না। বলেই মহিলাটি দীর্ঘনিঃস্বাস ফেললেন।

মণি স্বপ্ন দেখছে-ওর বাড়িতে অনেক লোক। সবাই কান্নাকাটি করছে। মণিও কাঁদছে খুব। এমন সময় কতগুলো লোক রক্তে মাখা কাকে যেন নিয়ে এলো। রক্তে লাল হয়ে গেছে মাটি। গুলি লেগেছে মনে হয়, বুকের কাছের ছিদ্র দিয়ে রক্ত চুইয়ে পরছে। সেই দৃশ্যটা দেখার মতো না। মণির ভাবি পাগলের মতো ছুটে এসে লাশের ওপর পড়লো। রক্তে মাখা লাশের দিকে তাকিয়ে মণির ভাবি যেন নির্বাক প্রতিমার মত বসে রইল। চোখে বিন্দুমাত্র পানি নেই, চোখের পাতাও নড়ছে না। প্রতিবেশীরা মণির ভাবিকে বোঝাতে লাগলো। “ও বউ, কতা কও। চুপ কইরা থাইকো না। চোক্ষের পানি ছাইড়া দাও বউ। তোমারে বুঝতে হইবো আমগো মালেক আর এ দুনিয়াত নাই। মিছিলে যাইয়া গুলি লাইগা ও খোদার কাছে চইলা গেছে। ও বউ, কান্দো, কতা কও”। এই বলে পাশের বাড়ির আমেনা চাচি মণির ভাবিকে ধাক্কা দিলেন। মণির ভাবির যেন কিছুটা চেতনা ফিরে এলো। একবার করুণ চোখে আমেনা চাচির দিকে তাকালো, তারপর তার স্বামীর রক্তে লাল হওয়া লাশের দিকে তাকাতেই অজ্ঞান হয়ে গেল। আমেনা চাচি চিৎকার করে উঠলেন, “ওগো তোরা ক্যাডা কোনহানে আছিস, পানি দে রে, বউ তো জ্ঞান হারাইয়া ফেলছে”। কে যেন পানি নিয়ে এসে মণির ভাবির মুখে ছিটে দিল। মনির ভাবি চোখ মেলে চিৎকার করে প্রলাপ বকতে শুরু করলো-“ও গো…….. তুমি আমারে একলা রাইখা কোনহানে চইলা গেলা? তুমি ছাড়া তো আমার আর কেউ নাই এ দুনিয়াত, তুমি আমারে ছাইড়া যাইবার পারোনা, তুমি আর একটি বার ফিইরা আইসা আমারেও লইয়া যাও, তাইলে আমি আর তোমারে ফিইরা আইতে কমু না”। মণির ভাবি বলতে লাগলো-“তুমি না মিছিলে যাওনের আগে কইছিলা ফিইরা আইসা আমগো পোলার মুখ দেইখবা, তাইলে আমগো পোলা দুনিয়াত আওনের আগেই তুমি কোন দ্যাশে চইলা গেলা? আমি আমগো পোলারে কি জবাব দিমু? তুমি একটিবার আইসা আমারে কইয়া যাও। ওগো, তুমি চুপ কইরা রও ক্যান? আমারে জবাব দেও তুমি, জবাব দেও”। মণির ভাবি আবার অজ্ঞান হইয়া গেল। আর তারপরেই মণি দেখতে পেল ওর ভাইয়ের লাশের ওপর অসংখ্য পলাশ ফুলের মালা। ওর ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত হওয়া লাশের সাথে লাল টুকটুকে পলাশ ফুলের মালা গুলো মিলে মিশে যেন একাকার হয়ে গেল। মণি চোখ বুজেই ছটফট করতে লাগল স্বপ্নটা দেখে। এমন সময় মণি দেখল ওর ভাই ওকে বলছে-“ও মণি, তুই আর আমারে খুঁজিস না বইন। আমারে মাঠে-ঘাটে ঘুইরা ঘুইরা খুঁজিলে কি পাবি রে? আমি তো আর তগো মাঝে থাকব্যার পারমু না। তোরে তো আমি যাওনের আগে কইয়া গেছিলাম আমি ভাষার লাইগা মিছিলে যাইতেছি, আমগো বাংলা মারে ফিরিয়া আইনতে যাইতেছি, যারা আমগো ভাষারে কাইড়া লইতে চায় তাগো বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করনের লাইগা যাইতেছি।তাতে যদি আমি মইরাও যাই, আর যদি ফিইরা নাও আসি, তুই কাঁন্দিবি না, তুই মনে করবি তোর ভাই তোগো মুখের ভাষার লাইগা শহীদ হইয়া গেছে। তুই মনে করবি তুই শহীদের বইন। হ তুই শহীদের বইন”। এসব বলে তার ভাই তার হাতে কতগুলো লাল টুকটুকে পলাশ ফুল দিয়ে বলল-“বইন, তুই হেইগুলা দিয়া মালা গাঁথিস, লাল টুকটুকে পলাশ ফুলের মালা”।
এইবার মণি চিৎকার করে উঠে বললো, “আমার মালা কই, আমার ভাই আমারে কইয়া গেছে, আমার মালা কই”? এবার মহিলাটি দৌড়ে এসে বললেন-কি হইছে গো মাইয়া? কাঁনতাছো ক্যান?
– আমার মালাডা দেন না খালাম্মা,
মহিলাটি মনির হাতে একটি শুকনো পলাশ ফুলের মালা তুলে দিল। মণি মালাটি নিজের হাতে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ল। মহিলাটি নিজের সন্তানের মতো করেই মণিকে খাইয়ে দিলেন। তারপর নিজের কোলে মণির মাথা রেখে মণিকে জিজ্ঞেস করলেন, ওগো মাইয়া, আমি তো তোমার মায়ের মতই। তুমি কও ত মা, তুমি কেন এই মালাডারে তোমার কাছছাড়া করো না? মণি বলল, “আমি ছোটো থাইকতেই ফুল কুড়াইতে ভালোবাইসতাম। অামার ভাইও অামারে মেলা ফুল অাইনা দিইতো। কতদিন তো ভাবিও অামার লগে বইসা মালা গাঁইথতো। অামগো দিন ভালোই যাইতেছিল। হঠাৎ একদিন শুনি কাড়া যানি অামগো মুখের ভাষা কাইড়া লইতে চায়, অামগো ভাষায় নাহি অামগো কতা কইতে দিবো না। উর্দুতে নাহি কতা কইতে হইবো, তাগো সাতে নাহি লড়াই করতে হইবো। একদিন পাশের বাড়ির সালাম ভাইয়ে অামার ভাইরে অাইসা কইলো- সারাদ্যাশে তো ধর্মঘট আর মিছিল চলতাছে। কাইল তো বাংলা ফাগুন মাসের ৮ তারিখ, কাইল সারাদ্যাশে সাধারণ ধর্মঘট ও রাষ্ট্রভাষা দিবস পালনের সিদ্ধান্ত লওয়া হইছে। কিন্তু আইজ সরকারি এক ঘোষণায় ১৪৪ ধারা জারি কইরা সভা-সমাবেশ, মিছিল এক মাসের লাইগা নিষিদ্ধ করা হইছে। কাইল সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এক সভায় ১০ জন কইরা মিছিল বাইর করার সিদ্ধান্ত লওয়া হইবো। তুই কি যাবি মিছিলে? মালেক বলল, হ, ক্যান যামু না? আমার মায়ের ভাষার লাইগা আমি মরবারও পারমু, আমি আছি তগো লগে।
এই কথা শুনে সালাম ভাই চলে গেলো। আমি তো তহন অতো কিছু বুঝবার পারি নাই। ভাইরে যাওনের সময় কইলাম- ও ভাই, তুমি যে যাইতাছো আমারে এহন ফুল ক্যাডায় অাইনা দিবো?এহন তো ফাগুন মাস, দূরের ঐ গাছডাতে রক্তের মতোন লাল পলাশ ফুল ফুইটা রইছে, তুমি যাওনের আগে কি আমারে ফুলগুলা আইনা দিবার পারবা? আমি এইকটু মালা গাঁইথতাম। ভাই আমারে যাওনের আগে কত্তগুলা পলাশ ফুল আইনা দিয়া কইলো- নে, এহন মালা গাঁথ। আমি ফিইরা আইলে আমারে দেখাইস, আর যদি না আসি তাইলে তোর কাছেই রাইখা দিস। হেইডা অামার শেষ স্মৃতি হইয়া তোর কাছে থাইকবো।
-ভাই তুমি আইবা না মানে? কি কও তুমি? তুমি ছাড়া তো আমার আর কেউ নাই।
তহন ভাইয়ে কইলো-যদি আমগো ভাষার লাগি আমারে জেবন দিতে হয় তুই কাঁন্দিবি না বইন, ক অামারে? তাইলে আমার আত্মা শান্তি পাইবো না।
মণি একটু থেমে বলতে লাগলো- জানেন খালাম্মা, ভাবি আমার ভাইয়ের মুখের দিক চাইয়া কত্ত কাঁন্দিলো, তাও আমার ভাইয়ের মন গইললো না। ভাই অামার সব ছাইড়া চইলা গেলো। আমি কাঁইন্দা কাঁইন্দা ভাইয়ের আইনা দেওয়া ফুলগুলা দিয়া মালা গাঁইথতে বইসলাম। ভাইয়ের কথা তহন আমার খুব মনে পড়তাছিলো,হেইডাও মনে হইতেছিল ভাই যদি আর ফিইরা না আসে……. মহিলাটি অশ্রুসিক্ত নয়নে মণির কথা শুনছিলেন।
তারপর বিকাল বেলা ক্যাডা ক্যাডা যানি অামার ভাইয়ের লাশ লইয়া আইলো। অামার ভাইয়ের বুকে নাহি গুলি লাইগছিলো, বুকের একপাশে ছিদ্র দিয়া রক্ত গইড়া গইড়া পড়তেছিল।
মণি কেঁদে কেদে বললো- পরে সালাম ভাইয়ের থেইকা শুনছি আমার ভাইয়েরা ১৪৪ ধারা জারি ভাইঙ্গলে পুলিশ নাহি মিছিলে গুলি চালাইছে। তহন ই হেই গুলিডা অামার ভাইয়ের বুকে অাইয়া লাগছে, আমার ভাই না জানি কতই কষ্ট পাইছে।
মণি কেঁদে উঠে বললো- আমি তো আর সহ্য করতে পারতাছি না খালাম্মা। মহিলাটিও মণিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেললেন। মণি আবার বলতে লাগলো-ভাইরে কবর দেওয়নের পর ভাবি দিনে রাইতে ওখানে চাইতে চাইতো, ভাবিরে কেউ যাইতে দিত না, একদিন সকালে উইঠা দেহি ভাবি নাই, কোনহানে যে চইলা গেল আর খোঁজ পাইলাম না। আর তহন আমিও বিশ্বাস করবার পারি নাই যে আমার ভাই মইরা গেছে, আর আইবো না। তার লাইগা আমিও ভাইরে পাগলের মতো খুঁইজা বেড়াইছি। আইজ ভাই আমারে স্বপনে কইয়া গেছে আমি যদি আর তারে না খুঁজি, ভাই আমার শহীদ হইয়া গেছে। আচ্ছা খালাম্মা, মইরা যাওন গেলেই কি শহীদ হওন যায়?
খালাম্মা চোখের পানি ছেড়ে বললেন কি করলা-না গো মাইয়া। তোমার ভাই আমগো মুখের ভাষার লাইগা জেবন দিইছে। দ্যাশের মাইনষের লাইগা লড়াই করতে যায়া জেবন দিছে। তার লাইগা তোমার ভাই শহীদ হইয়া গেছে। তুমিতো শহীদের বইন, তোমার ভাই মইরা গিয়াও মরে নাই। হেই দ্যাশের মাইনষের মনে বাঁইচা আছে, হেই বাংলা ভাষার মধ্যে বাঁইচা আছে। তুমি কাঁইন্দোনা, মা।
আমার দুনিয়াত কেউ নাই হেই পোলাডা ছাড়া। তুমি আমার লগেই থাইকো মাইয়া। আমারে মায়ের মত কইরাই দেইখো। মণি কাঁদতে কাঁদতে জড়িয়ে ধরলো মহিলাটিকে।

এই ভাষার জন্য জীবন দিতে গিয়ে কত না মায়ের বুক খালি হয়েছে। কত না বোন হারিয়েছে তার ভাইকে, কত না স্ত্রী আজও প্রলাপ বকে যায় তার স্বামী ফিরে আসেনি বলে। তারা সবাই বেঁচে থাকে তাদের দিয়ে যাওয়া শেষ স্মৃতি নিয়ে। কত না মা আজও অপেক্ষায় থাকে কখন খোকা এসে মা বলে ডাকবে, কত না বোন আজো পথ পানে চেয়ে থাকে ভাই আসবে বলে। এই ফাগুন মানুষের থেকে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। কেড়ে নিয়েছে তাদের প্রিয়জনদের। তাই ফাগুন এলেই সেই প্রিয়জন হারা মানুষদের মনে আগুন জ্বলে। ফাগুন এলে মায়ের চোখে অশ্রু ঝরে, মণির মত ভাইহারা বোনের বুকে জ্বালা ধরে। এই ফাগুন এলেই মণি জানালায় মাথা রেখে অশ্রুসিক্ত চোখে দূরের ওই পলাশ গাছের দিকে তাকিয়ে বলে, “ভাই বছরখানি তো ঘুইরাই গেল, তুমি সত্যই আর ফিইরা আইলা না? হেই বোনডারে কি তোমার মনে পড়ে না ভাই? হেই পলাশ ফুলের মালাডাই শুকাইয়া গেলো তবু তুমি আইলা না। তোমারে আমি আর খুঁজুম না ভাই, আর খুঁজুম না। কারণ তুমি হেই পলাশ ফুলের মালাডাত ই মিইশা আছো, হ ভাই! এই পলাশ ফুলের মালাডাত…..

নাম: সুরাইয়া মাহমুদ শিশির
কলেজ: সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ, বগুড়া

Leave a Comment