বীর ছেলে – বিনিতা ঘোষ

গল্প: বীর ছেলে

সাল১৯৫২ ।গ্রামের ছেলে রিয়াদ । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে সে । ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে সে থাকে। আর তার মা বাবা থাকে গ্রামে ।ফেব্রুয়ারি মাস , সারা দেশ ছুরে চলছে মিছিল । বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্র ভাষা করার জন্য হচ্ছে আন্দোলন । রিয়াদ এগুলো নিয়ে ভাবছে না। তবুও সে নিজের ভাষাকে খুব ভালো বাসে যতই হোক মায়ের ভাষা বলে কথা। একদিন রিয়াদ তার হলের বাইরে পুকুর ধারে বসে ছিলো ।সে একটা আওয়াজ শুনতে পেল । বড় গাছের কাছে যেতেই সে শুনতে পেল কারা যেন কথা বলছে । সে কথা গুলো শুনোতে চেষ্টা করলো,,,,

১ম জন : কাল মনে হয় আরো পুলিশ আসবে। আর অনেক লাঠি চার্জ করা হতে পারে।
২ য় জন: তার সাথে গুলি ও ছুরতে পারে।
১ ম জন : হয় তো আমাদের সম্ভাবনা খুব কম ।
৩ য় জন : কিন্ত ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসলে হবে না লরতে হবে আমাদের ।

১ম জন : নিজেদের মাতৃভাষা কে হারাতে দেব না আমরা ।
২য় জন : প্রাণ গেলে যাবে তবুও জানাবো দেশের জন্য কিছু করতে পেরেছি।
৩ য় জন : আয় আমরা শপথ করি মাতৃভাষা কে রাষ্ট্র ভাষা করবোই।

তারা তিনজন শপথ করলো । আর এই সব আড়ালে দেখছিলো রিয়াদ । তার চোখ দিয়ে যেন পানি পরছে ।সে ভাবছে তাদেরও পরিবার আছে তবুও পরিবারের কথা চিন্তা না করে তারা মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত ।
রিয়াদ এই বিষয় নিয়ে সারা রাত ভাবলো আর চিন্তা করলো । ভোর ৫ টার দিক রিয়াদ একটা চিঠি লিখতে বসলো,,,,,

প্রিয় মা,
মা তুমি আর বাবা আমার সালাম নিও । মা আমি জানি তোমরা অনেক কষ্ট করে আমার পড়ালেখার ব্যবস্থা করছো । তোমরা আমার জন্য অনেক কিছু করছো । মা গো ছেলে বেলায় তোমার কাছে প্রথম বাংলা বুলি শিখি। এই ভাষাটা কত যে মধুর বোঝাতে পারবো না । মা গো ওই পাকিস্তানি আমাদের ভাষা কিরে নিতে চাই । কেমনে তাদের কেরে নিতে দেই বলো মা । আজ কিছু ছেলেদের দেখলাম যারা আমার মতো তাদের প্রাণের ভয় নেই । তারা মাতৃভাষার জন্য প্রাণ ও দিতে পারে । মা গো আমিও এই আন্দোলন অংশ নিতে চাই। নিজের ভাষাকে রক্ষা করতে চাই । জানি না যত দিনে তোমার কাছে এই চিঠি যাবে জীবিত থাকবো কিনা। মা গো আমার জন্য দোয়া করো আমাকে নিয়ে যেন তোমরা গর্ব করতে পারো । বাবার খেয়াল রেখ । আমি সেই দিনের অপেক্ষায় রইলাম যে দিন তোমরা আমাকে নিয়ে গর্ব করবে ।

ইতি
তোমার রিয়াদ

সকাল সকাল রিয়াদ চিঠিটা পোস্ট করলো। তারপর সে মিছিলে যাওয়ার জন্য তৈরি হলো । তারিখ ১৯ ফেব্রুয়ারি রিয়াদ তার পরিচিত ভাই রহিমের সাথে বেরিয়ে পরলো মিছিলের উদ্দেশ্যে । তারা সবাই এক জায়গায় দারিয়ে মিছিলের জন্য বের হলো । মিছিল যখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছি লো এক দল পুলিশ সামনে এসে কাতানে গ্যাস ছুরতে লাগলো। তার সাথে লাঠি চার্জ করতে লাগল
। পুলিশ যখন দেখলো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না তখন গুলি ছুরতে লাগলো । এক বৃদ্ধ কে তাক করে পুলিশ গুলি ছুরলো রিয়াদ সেটা বুঝতে পারে । পুলিশের বুন্দকের সামনে এসে দারায় । আর পুলিশের ছোরা গুলি তার লাগে । রক্ত বৃদ্ধ অবস্থায় সে মাটিতে পরে যায় । তবুও সে বলে যাচ্ছে রাষ্ট্র ভাষা বাংলা চাই। তাকে মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলো। তার অবস্থা খুব খারাপ । ঠিক একদিন পর রিয়াদের চিঠি গ্রামে পৌছালো । তার মা বাবা চিঠি পাওয়া মাএ ছুটে আসলো ঢাকায় । জানতে পারলো রিয়াদ ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি রয়েছে । তার মা বাবা ছুটে গেলো দেখার জন্য কিন্তু তার আগেই রিয়াদ মারা গিয়েছিলো। তার মা বাবা তাকে শেষ দেখা দেখতে পারো না। সারা মেডিকেল জুরে যেন রিয়ালের মায়ের আর্তনাদ শোনা যায় । রিয়াদের বাবা যেন নিথর হয়ে গেছে যেন কথা বলতে পারে না। রিয়াদের মা রিয়াদের মর দেহ জরিয়ে বলছে বাবা তুই আমাদের গর্ব রে বাবা। তোর মতো ছেলে যেন প্রত্যেক মা পায়। তার মা অনবরত কেদেই চলেছে ।

সন্ধ্যার সময় রিয়াদ কে দাফন করা হলো মসজিদের পাশে। আজ তার মা বাবার তাকে নিয়ে আজ গর্ব করছে ।সে শুধু তার মা বাবার গর্ব নয় সে আমাদের দেশের গর্ব । রিয়াদ একজন বীর শহিদ।এদেশের একজন সাহসী ছেলে। এরকম হাজারো রিয়াদের গল্প রয়েছে যারা কিনা নিজের জীবনের মায়া না করে দেশের জন্য মাতৃভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে । তাদের জন্য আজ আমরা স্বাধীন ভাবে বাংলায় কথা বলতে পারছি । বিশ্বের বুকে আমরাই প্রথম জাতি যারা কিনা মাতৃভাষার জন্য লড়াই করেছি। তাই এই বাংলা ভাষার প্রতি রয়েছে অসংখ্য শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা । শুধু মা এ ২১ ফেব্রুয়ারি নয় প্রত্যেক টি দিন যেন এই ভাষাকে সমান করতে পারি ।
আমার লেখায় কোনো ভুল হলে ক্ষমা করবেন।
ধন্যবাদ ,,,,,,

নাম : বিনীতা ঘোষ
স্কুল: পুলিশ লাইন স্কুল আন্ড কলেজ বগুড়া ।

Leave a Comment