নবম দশম শ্রেণির জীববিজ্ঞানের ১ম অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

ক নং প্রশ্ন (জ্ঞানমূলক)

জীববিজ্ঞানের ধারণা ও শাখাসমূহ

প্রশ্ন-১. বায়োইনফরমেটিক্স কাকে বলে?

উত্তর: কম্পিউটার প্রযুক্তি নির্ভর জীববিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্যকেই বায়োফরমেটিক্স বলে।

প্রশ্ন-২. হিস্টোলজি কী?

উত্তর: জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের টিস্যু সমূহের গঠন, বিন্যাস ও কার্যাবলী নিয়ে আলোচনা করা হয় সে শাখাই হলাে হিস্টোলজি।

প্রশ্ন-৩. প্রত্নতত্ত্ববিদ্যা কী?

উত্তর: প্রাগৈতিহাসিক জীবের বিবরণ এবং জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলাে প্রত্নতত্ত্ববিদ্যা বা জীবাশ্মবিজ্ঞান।

প্রশ্ন-৪. এন্ডোক্রাইনোলজি কী?

উত্তর: জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক জ্ঞানই হলাে এন্ডোক্রাইনোলজি।

জীবের শ্রেণিবিন্যাস

প্রশ্ন-৫. শ্রেণিবিন্যাসের লক্ষ্য কী?

উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের লক্ষ্য হলো বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জীবজগৎকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা ।

প্রশ্ন-৬. আদিকোষ কী?

উত্তর: যে কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত নয় তাই আদিকোষ।

প্রশ্ন-৭. প্রকৃত কোষ কাকে বলে?

উত্তর: যে কোষে সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিদ্যমান থাকে তাকেই প্রকৃত কোষ বলে।

প্রশ্ন-৮. শ্রেণিবিন্যাস কাকে বলে? 

উত্তর: পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে জীবকে সাজানাে বা বিন্যাস করাকে বলা হয় শ্রেণিবিন্যাস।

দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি

প্রশ্ন-৯. ICZN এর পূর্ণরূপ লেখাে?

উত্তর: ICZN এর পূর্ণরূপ হলাে International Code of Zoological Nomenclature.

প্রশ্ন-১০. দ্বিপদ নামকরণ কী?

উত্তর: গণ ও প্রজাতি নামক দুইটি পদের সমন্বয়ে বৈজ্ঞানিক নামকরণই হলাে দ্বিপদ নামকরণ।



প্রশ্ন-১১. ধানের বৈজ্ঞানিক নাম কী?

উত্তর; ধানের বৈজ্ঞানিক নাম Oryza sativa

প্রশ্ন-১২. বাংলাদেশের সোনালী আঁশের বৈজ্ঞানিক নাম কী?

উত্তর: বাংলাদেশের সোনালী আঁশের বৈজ্ঞানিক নাম Corchorus capsularis.

প্রশ্ন-১৩. শাপলা উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম লেখাে । 

উত্তর: শাপলা উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali.

প্রশ্ন-১৪.মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম কী?

উত্তর: মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম Homo sapiens.

প্রশ্ন-১৫. দ্বিপদ নামকরণ কে প্রবর্তন করেন?

উত্তর: দ্বিপদ নামকরণ প্রবর্তন করেন ক্যারোলাস লিনিয়াস।



প্রশ্ন-১৬. ICBN কী? 

উত্তর: উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক নামকরণের আন্তর্জাতিক নীতিমালাই হলাে ICBN।

প্রশ্ন-১৭. ম্যালেরিয়া জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম কী?

উত্তর: ম্যালেরিয়া জীবাণুর বৈজ্ঞানিক নাম Plasmodium vivar.

প্রশ্ন-১৮, কুনোব্যাঙের বর্তমান বৈজ্ঞানিক নাম কী?

উত্তর: কুনোব্যাঙের বর্তমান বৈজ্ঞানিক নাম হলো Duttaphrynus melanostictus.

প্রশ্ন-১৯, আরশোলার বৈজ্ঞানিক নাম কী?

উত্তর: আরশােলার বৈজ্ঞানিক নাম Periplaneta americana

 

খ নং প্রশ্ন (অনুধাবনমূলক)  

 

জীবের শ্রেণিবিন্যাস

 



প্রশ্ন-১. ব্যাকটেরিয়াকে আদিকোষী জীব বলা হয় কেন?

উত্তর: ব্যাকটেরিয়া কোষে কোনাে সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। এ কোষের নিউক্লিয়াস কোনাে পর্দা দিয়ে আবৃত থাকে না, তাই নিউক্লিওৰস্তু সাইটোপ্লাজমে ছড়ানাে থাকে। এর কোষে মাইটোকন্ড্রিয়া, প্লাস্টিড, এন্ডােপ্লাজমিক রেটিকুলাম ইত্যাদি অঙ্গাণু থাকে না তবে রাইবােজোম থাকে। ব্যাকটেরিয়ার ক্রোমােজোমে

কেবল DNA থাকে। এ সকল কোষীয় বৈশিষ্ট্যসমূহ আদিকোষী জীবের প্রাককেন্দ্রিক কোষের অনুরূপ বলে ব্যাকটেরিয়াকে আদিকোষী জীব বলা হয় ।

 

প্রশ্ন-২. ব্যাকটেরিয়াকে মনেরা জগঞ্জে অন্তর্ভুক্তির কারণ ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর: ব্যাকটেরিয়াকে মনেরা জগতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কারণ ব্যাকটেরিয়া প্রাককেন্দ্রিক, এককোষী আণুবীক্ষণিক জীব । এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই কিন্তু রাইবোজোম আছে। ব্যাকটেরিয়া সাধারণত দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় সংখ্যা বৃদ্ধি করে। এই বৈশিষ্ট্যগুলাে মনেরা জগতের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যাওয়ার কারণেই ব্যাকটেরিয়াকে মনেরা জগতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

 

প্রশ্ন-৩. অ্যামিবা কোন রাজ্যের অন্তর্গত?

উত্তর: অ্যামিবা প্রােটিস্ট রাজ্যের অন্তর্গত। কারণ অ্যামিবার বৈশিষ্ট্য হলো – এরা এককোষী, সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট, কোষের ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার

পর্দা বেষ্টিত এবং DNA, RNA ও প্রােটিন সমৃদ্ধ, অযৌন প্রজনন ও কনজুগেশনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন সম্পন্ন হয়, যা প্রােটিস্টা রাজ্যের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়।

 

প্রশ্ন-৪. শ্রেণিবিন্যাস বলতে কী বােঝায়?

উত্তর: সুবিশাল জীব জগতকে বৈজ্ঞানিক উপায়ে জানা, বোঝা ও শেখার সুবিধার্থে সুষ্ঠুভাবে বিন্যাস করা বা সাজানােকেই শ্রেণিবিন্যাস বলা হয়।

শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য হলাে জীবজগতের ভিন্নতার প্রতি আলােকপাত করে আহরিত জ্ঞানকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা। সর্বোপরি জীবন ও মানব কল্যাণে প্রয়োজনীয় জীব সমূহকে শনাক্ত করে তাদের সংরক্ষণ অথবা প্রজাতিগত সংখ্যা বৃদ্ধির ব্যবস্থা নেয়া।

 

প্রশ্ন-৫. Protista এর বৈশিষ্ট্যগুলাে কী কী?

উত্তর: প্রােটিস্টা রাজ্যের জীব গুলো এককোষী বা বহুকোষী, একক বা কলােনিয়াল বা ফিলামেন্টাস এবং সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট। কোষের ক্রোমাটিন বস্তু নিউক্লিয়ার পর্দা দ্বারা পরিবৃত্ত থাকে।ক্রোমাটিন বস্তুতে DNA, RNA ও প্রােটিন থাকে। কোযে সকল ধরনের অঙ্গাণু বিদ্যমান।

 

প্রশ্ন-৬. শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য বলতে কী বােঝ?

উত্তর: শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য হলাে প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করা। জীবজগতের ভিন্নতার দিকে আলােকপাত করে আহরিত জ্ঞানকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা, পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা, সর্বোপরি জীবজগৎ এবং মানবকল্যাণে প্রয়োজনীয় জীবগুলােকে শনাক্ত করে তাদের সংরক্ষণে সচেতন হওয়া।



 

দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি

 

প্রশ্ন-৭. দ্বিপদ নামকরণ বলতে কী বােঝায়?

উত্তর: একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত হয়। প্রথম অংশটি তার গণের নাম ও দ্বিতীয় অংশটি তার প্রজাতির নাম। যেমন: রুই মাছের বৈজ্ঞানিক নাম Labeo rohita । এখানে Labeo গণের নাম ও rollita প্রজাতির নাম, এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকে দ্বিপদ নাম এবং নামকরণকে দ্বিপদ নামকরণ বলে।

 

প্রশ্ন-৮. বাংলাদেশের জাতীয় ফুল, ফল, মাছ ও পশুর বৈজ্ঞানিক নাম লেখ?

উত্তর: বাংলাদেশের জাতীয় ফুল, মাছ, ফল ও পশু হলাে যথাক্রমে শাপলা, ইলিশ, কাঁঠাল ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার ।

শাপলা – Nymphaea noucinal

ইলিশ – Tenualosa ilisha

কাঁঠাল – Artocarpus heterophyllus

রয়েল বেঙ্গল টাইগার – Panthera tigris

Leave a Comment