মিঠাপুকুরে হচ্ছে না স্বাস্থ্য পরীক্ষা, বৃষ্টি নেই সেচেই চাষ ~ টপ নিউজ

মিঠাপুকুরে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় না হোটেল শ্রমিকদেরঃ

রংপুরের মিঠাপুকুরের হোটেল ও রেস্টুরেন্টে কর্মরত শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় না। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে সনদ নেওয়ার বিষয়টি জানেন না তারা।

জানা গেছে, উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে পাঁচ শতাধিক হোটেল রেস্টুরেন্ট রয়েছে। এসব হোটেল-রেস্টুরেন্টে কর্মরত শ্রমিকদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নিকট থেকে সনদপত্র নেওয়ার বিধান রয়েছে।

কিন্তু এই উপজেলার একজন হোটেল শ্রমিকের ও স্বাস্থ্য সনদ নেই। হোটেল মালিকরা এ বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। 

হোটেল মালিক বাদশা মিয়া বলেন আমাকে কেউ কোনদিন শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে কিছুই জানায় নি। শ্রমিক রুবেল মিয়া বলেন স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি এই প্রথম শুনলাম। 

এখনো অনেকে হোটেলের খাবারের উপর নির্ভরশীল। হোটেল থেকে অনেক রোগ সংক্রমণ করার আশঙ্কা থাকে। বর্তমানে করোনার প্রভাব বাড়ছে। করোনা সংক্রমণে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোর মধ্যে হোটেল রেস্টুরেন্ট অন্যতম। 

এ কারণে হোটেলে শ্রমিকদের স্বাস্থ্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা সহ নিরাপদ উপকরণ ব্যবহারে বাধ্য করা উচিত।

সচেতন মহল জানায়, নিরাপদ খাবার নিশ্চিতকরণে উপজেলা পর্যায়ে একজন স্যানিটারি কর্মকর্তা কর্মরত আছেন। কিন্তু তার কোন তৎপরতা দেখা যায় না। 

অথচ পচা-বাসি, ভেজাল খাদ্য বিক্রয় প্রতিরোধ করাই তার কাজ। সচেতন মহলের মতে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত, হোটেল শ্রমিকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার জন্য প্রচারণার পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

 

বৃষ্টি নেই সেচেই চলছে চাষাবাদঃ

বৃষ্টির অভাবে দেশের উত্তরাঞ্চলে বোরো আবাদ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ কারণে বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে খাদ্য সংকটের সৃষ্টি হতে পারে বলেও অনেকে আশঙ্কা করেছেন।

 আবহাওয়া বিরূপ প্রভাবে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের তাপমাত্রার পারদ দিনদিন বাড়ছে। এরই মধ্যে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়েছে। গত চার মাস ধরে বৃষ্টির দেখা নেই। 

শুকিয়ে গেছে নদ-নদী, খাল-বিল। একটানা বৃষ্টি হীনতায় বসন্ত শুরু থেকেই চৈত্রের খরতাপ শুরু হয়েছিল। চৈত্রও বৃষ্টির দেখা মেলেনি। 

পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে, কৃষক আশঙ্কা করছেন এ মাসের তাপদাহে ভূগর্ভস্থ পানি যা আছে তাও কমে যাবে, যদিও গত ১১ই মার্চ কিঞ্চিৎ বৃষ্টি হয়েছিল। যার পরিমাণ ছিল ৬.৫ মিলিমিটার।

এরপর আকাশে মেঘের ঘনঘটা দেখা গেলেও কাঙ্খিত বৃষ্টি আর হয়নি। এ কারণে অনেকটাই সেচ নির্ভর বোরো ধান চাষ তবুও এখন পুরোটাই সেচে চলছে বোরো আবাদ।

পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে আর কিছু দিন বৃষ্টি না হলে উত্তর অঞ্চলে বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হেরফের হবে। করোনা অভিরূপ পরিবেশের কারণে সম্ভাব্য খাদ্য সংকট মোকাবিলায় সারা দেশে কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে সরকার। প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন “এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে”।

এ কারণে সরকার প্রণোদনা হিসেবে বিনামূল্যে বিজ ও সহায়তা দিচ্ছে। কৃষকের ধানের আবাদ এর পরিমাণ ও ফলন সবচেয়ে বেশি হয় ইরি-বোরো মৌসুমে। 

দেশের মোট চালের প্রায় ৬০ শতাংশ উৎপাদন হয় এ মৌসুমে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে আমন আউশ। 

বগুড়ায় এবার সেচের পানির দাম কিছুটা বেড়েছে। বিঘা প্রতি আবাদের জন্য সেচে দিতে হচ্ছে ১২৫০ টাকা। 

এ ব্যাপারে বগুড়া শহরের উপকণ্ঠে কৈচর ও মানিকচক এলাকার কৃষক জানান, বোরো আবাদ নিয়ে শুরু থেকে শঙ্কার মধ্যে থাকতে হয়। বৃষ্টি, ঝর শেষে ঘরে তোলার আগে পর্যন্ত কৃষকের চোখে ঘুম থাকে না। 

গত কয়েক মাস থেকেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে আবহাওয়া। জমিতে পানি দিতে যেন শুকিয়ে যাচ্ছে। এভাবে আর কিছু দিন বৃষ্টি না হলে খরচ বাড়বে ও উৎপাদন কমে যাবে বলে মনে হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া সূত্রে জানা গেছে, বগুড়ায় চলতি বছর ১ লাখ ৪৪ হাজার ৬১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

সে অনুপাতে ১০ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। শেষ দিন পর্যন্ত এক লাখ ৪৪ হাজার ৫১০ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। আর চাল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সাত লাখ ৭২ হাজার ৯৭৪ মেট্রিক টন।

এ কার্যালয়ের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফরিদুর রহমান জানান, বগুড়াতে চাষ হওয়া বড় মাঠে বেশিরভাগ উচ্চ ফলনশীল জাত। স্থানীয় জাতের ধান চাষ হয়। তবে হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ এলাকাজুড়ে। 

এবার বৃষ্টি না হওয়ায় আগেভাগে খারাপ দেখা যাচ্ছে। 

তিনি আরো বলেন, এই ফসল পুরোপুরি সেচ নির্ভর। তবে বৃষ্টিপাত হলে সেচের খরচ কম হয়। দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় হতাশ এর বিকল্প নেই ও আনুষঙ্গিক বাড়লে উৎপাদন খরচ কিছুটা বাড়বে।এতে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা হেরফের হতে পারে।

Leave a Comment