আজকের খবরঃ ক্ষুধা মানে না লকডাউন!

নীলফামারীতে মাইক্রোবাস দুর্ঘটনায় ২ কৃষি শ্রমিক,
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চালক ও নাটোরে দুই ট্রাকের সংঘর্ষে
চালক নিহত হয়েছেন।

প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

নীলফামারী : নীলফামারীর ডোমার থেকে
সড়ক দুর্ঘটনা মাইক্রোবাসে কৃষি শ্রমিক নিয়ে নওগাঁর
আত্রাই যাওয়ার পথে এক সড়ক দুর্ঘটনা
ঘটে।
গত মঙ্গলবার বিকালে জয়পুরহাট-হিলি সড়কের জিয়ার মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন মারা যান এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন- ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউপির ময়দান পাড়ার মতিউর রহমানের ছেলে রবিউল ইসলাম ও আব্দুল খালেকের ছেলে নূর বখশ।
ডােমার থানার ওসি মােস্তাফিজার রহমান দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, নিহত একজনের লাশ দাফন করা হয়েছে।
ইউএনও শাহিনা শবনম জানান, খবর পেয়ে গতকাল
বুধবার নিহত ও আহতদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের পরিবারকে সহযােগিতা করা হবে।

ঝিনাইগাতী : শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে মোটরসাইকেল
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রুহুল আমিন নামে চালক নিহত হয়েছেন।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় উপজেলার নোয়াগাঁও
গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রুহুল আমিন শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের গুমড়া গ্রামের মাে. আব্দুল আজিজের ছেলে।
নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকালে উপজেলার ধানশাইলে
আত্মীয়ার জানাজা শেষে ইফতারের আগ মুহূর্তে
ঝিনাইগাতীতে আসার পথে নয়াগাঁও মসজিদ সংলগ্ন
এলাকায় মােটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে বিদ্যুতের খুঁটির সাথে ধাক্কা খেয়ে গুরুতর আহত হন রুহুল।
স্থানীয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে পথে তার মৃত্যু হয়।

ঝিনাইগাতী থানার ওসি মােহাম্মদ ফায়েজুর রহমান
বিষয়টি জানেন বলে জানান।

ক্ষুধা মানে না লকডাউন: ভুট্টা পাতা বিক্রিতে নেমেছে স্কুল ছাত্র

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টি তিস্তা নদী কবলিত। সরকার ঘোষিত লকডাউনের ফলে বিপাকে পড়েছে
এখানকার দৈনিক আয়ের উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো।
এমনই এক পরিবারের সন্তান রিফাত । সে পড়ে পঞ্চম শ্রেণিতে। কিন্তু পরিবারের করোনাকালীন অভাব ঘোচাতে সে নেমেছে বাজারে ভুট্টার পাতা বিক্রি
করতে।
লকডাউনে শ্রম বিক্রি করতে না পারায় দিনমজুর শ্রেণির লোকজন ভুট্টা গাছের পাতা তুলে বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করবেন।
দামে কম হওয়ায় অনেকেই গো-খাদ্য হিসেবে ভুট্টার পাতা কিনছে। এতে একদিকে নিম্ন আয়ের লোকজনের আয় হচ্ছে, অন্যদিকে খামারিরা কম দামে পশুখাদ্য কিনতে পারছেন।
উপজেলার ঘুন্টি বাজার, পারুলিয়া বাজার ও ভোটমারী সহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন বিকালে ভুট্টার
পাতা বিক্রি হয়।
ভােটমারী বাজারে ভুট্টার পাতা বিক্রি করে ৫ম শ্রেণির
ছাত্র রিফাত। সে ভােটমারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।
তার বাবা মতিয়ার রহমান পেশায় দিনমজুর। উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরএলাকায় তার বাড়ি।
এ বয়সে ভুট্টার পাতা বিক্রি করার বিষয়ে রিফাত বলে, লকডাউনের কারণে বাবা-মা শ্রম বিক্রি করতে না পারায় সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।
কিন্তু ক্ষুধা তাে লকডাউন মানে না। স্কুল বন্ধ থাকায় আমি সারা দিন ভুট্টা গাছের পাতা তুলে বিকালে বাজারে বিক্রি করি।
প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বিক্রি হয়। এ দিয়ে কোনাে রকমে সংসার চলে। ভুট্টার পাতা বিক্রি করতে আসা আর এক ছাত্র সজীব তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।
তার বাবার কাজ নেই, রােজগারও নেই। তাই সেও
সংসারে টাকার যোগান দিতে ভুট্টার পাতা বিক্রি করে।

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরি

চাঁদপুরে নোংরা পরিবেশে বিভিন্ন প্রকার সেমাই প্রস্তুত হচ্ছে। সেমাই কারিগররা বাথরুম ব্যবহার করে ঠিকমত পা-হাত না ধুয়ে আবার কাজে লেগে যান।
খবর নিয়ে জানা গেছে, বিএসটিআই-এর অনুমােদন ছাড়াই চাঁদপুরে বেশ কয়েকটি সেমাই কারখানায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের সেমাই তৈরি করা হচ্ছে।
প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে মাঝে মধ্যে বছরে শুধুমাত্র ঈদের সময় স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশ হলে সামান্য পরিমাণ জরিমানা করে।
এতে কোন ভাবে তাদেরকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাঁদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী ব্যবসায়ী কেন্দ্র পুরান বাজার ও চাঁদপুর সদর উপজেলা এলাকায় বহু বছর আগ থেকেই বেকারি ব্যবসায়ীরা দুই ঈদ উপলক্ষে সেমাই উৎপাদন করেন।
কারখানাগুলােতে উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত ময়দা, চিনি, ডালডা, ভোজ্য তেল, এরারুট ও লবণ খুবই নিম্নমানের।
বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা সেমাই অধিকাংশ নােংরা। গত বুধবার সরেজমিন শহরের পুরান বাজারের কয়েকটি বেকারীসহ সেমাই কারখানায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকরা স্বাস্থ্যবিধি না মেনে দিন ও রাতে কাজ করছেন।
শ্রমিকদের পায়ে প্লাস্টিক গামবুট হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক থাকার কথা থাকলেও পায়ে প্লাস্টিক গামবুট হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক নেই।
অধিকাংশ কারখানায় শ্রমিকরা জড়ো হয়ে উৎপাদন কাজ করছেন। নােংরা পরিবেশের বিষয়ে কারখানার
মালিক ও শ্রমিকদের কথা বলতে রাজি হননি।
চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জনা-খান-মজলিস বলেন, যেসব এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরি হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেলে আমরা তাৎক্ষণিক কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Comment