অপেক্ষা ~ মেহেদী হাসান

অপেক্ষা

[১] ১৯৭১ সাল।৩রা মার্চ ঢাকায় পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডেকেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান।কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ ১লা মার্চের একটি ঘোষণায় জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন।তারপর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।শুরু হয় প্রবল আন্দোলন। “জয় বাংলা”, বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর”,”জাগো জাগো বাঙালি জাগো” ইত্যাদি স্লোগানে ধ্বনিত হচ্ছে শহর,বন্দর,গ্রাম। মার্চের ৭ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে প্রায় ১০ লক্ষ লোকের উপস্থিতিতে ১৮ মিনিটের অলিখিত একটি ভাষণ দেন।উক্ত ভাষণ এক মুহূর্তে বাঙালিদের ভেতরে মুক্তির আগুন জ্বালিয়ে দেয়।বাঙালিরা ঐক্যবদ্ধ হয়।মেতে ওঠে স্বাধীনতার অভিপ্রায় নিয়ে।সর্বস্তরের বাঙালিরা প্রতিবাদ ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে।এইজন্যেই বোধহয় ৭ই মার্চের ভাষণকে বাঙালির “মুক্তির সনদ” বলা হয়।৭ই মার্চের ভাষণ অনুযায়ী পূর্ব বাংলায় অফিস,আদালত, কলকারখানা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও হল খোলা ছিলো।

 

[২] ফায়াজ এবং ইফাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২য় বর্ষের ছাত্র।তারা দুইজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইকবাল হলে থাকত,একই রুমে।তাদের মধ্যে অসাধারণ বন্ধুত্ব। তাদের বাড়িও একই এলাকায়।দুইজনেই মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে।বাবা-মা আর ছোট বোনকে(ফাইজা) নিয়েই ফায়াজের পৃথিবী।ছোটো বোন ম্যাট্রিক পরীক্ষা দিবে এইবার।এখানে ফায়াজ টিউশনি করে নিজের খরচ নিজেই চালায়।তার বাবা অবশ্য টাকা পাঠাতে চান কিন্তু ফায়াজ বাবাকে না করে দিয়েছে।গত মাসেই জীবনের প্রথম টিউশনি পায় সে।প্রথম মাসের সম্মানি পেয়েছে।প্রথম মাসের সম্মানি দিয়ে বাবার জন্য শার্ট, মায়ের জন্য একখানা শাড়ি,ছোট বোনের জন্য জামা আর চুড়ি কিনে রেখেছে সে।কিন্তু টিউশনির কারণে বাড়িতেও যেতে পারছিলো না ফায়াজ।ইফাত বাড়িতে গেলে অবশ্য ইফাতের কাছে পাঠিয়ে দিতো কিন্তু ইফাতও দুই মাস ধরে বাড়িতে যায়নি।ঢাকার পরিবেশ খুব একটা ভালো না।ফায়াজ এবং ইফাত ও মিছিলে অংশ নেয়।দেশের প্রতি তাদের প্রবল টান।মার্চ মাসের এমন একটা দিন নাই মিছিল বা সমাবেশ হয়নি!শুধু ঢাকা কেন?সারা পূর্ব বাংলা জুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। পূর্ব পাকিস্তানের প্রবল প্রতিবাদ মুখর অবস্থা উপলব্ধি করতে পেরে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান ১৫ই মার্চ ঢাকা সফরে আসেন এবং বঙ্গবন্ধুর সাথে আলোচনার প্রস্তাব দেন।১৬ই মার্চ থেকে আলোচনা শুরু হয়।২২ তারিখ জুলফিকার আলি ভুট্টো ঢাকায় আসেন এবং আলোচনায় যোগ দেন।মূলত ইয়াহিয়া খান ১৫ই মার্চ থেকে ২৪শে মার্চ ঢাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ভান করে আসলে “অপারেশন সার্চলাইট”-এর প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ এবং চূড়ান্ত করেন।

 

[৩] ২৪ তারিখ।সন্ধ্যায় পিয়ন এসে ইফাতকে একটা চিঠি দিয়ে গেল।ইফাত ভাবছে কে চিঠি পাঠাইছে!দুইদিন আগেই তো বাবার চিঠি এসেছিলো। এখন তো চিঠি আসার কথা না!কিন্তু একি!বাবার চিঠি দেখে চমকে গেল ইফাত।চিঠির খাম খুলে ফেলল সে।চিঠি পড়ে মোটামুটি চিন্তায় পরে গেল ইফাত।বাবা গুরুতর অসুস্থ। বাড়িতে যেতে বলছে চিঠিতে।আজকে সন্ধ্যা হয়ে গেছে।এখন লঞ্চ পাওয়া যাবে না।তাই ইফাত ঠিক করলো পরেরদিন সকাল সকাল রওয়ানা দিবে বাড়ির উদ্দেশ্যে।ইফাত হলে যেয়েই ফায়াজকে বললো -বন্ধু চল কালকে বাড়িত চইলা যায়ুম।আব্বা চিঠি পাঠাইছে আব্বাই নাকি খুব অসুস্থ।আমারে কইছে বাড়ি যাওনের লাইগ্যা। -চাচার আবার কি হইলো? -কিতা যে হয়ছে সেডা তো কয় নাই।বারবার করে যাইবার কইলো খালি। -বন্ধু মুই তো ইচ্ছা করলেও যাইতে পারুম না।তুই তো জানোস টিউশনির মাস শ্যাষ না হইলে ট্যাহা পয়সাও দিবো না।আর মাসের আছেই কয়ডা দিন। -হ তাও ঠিক বলছিস।তাইলে আমি আব্বারে কয়া দেই আমি ৪/৫ দিন পর যায়ুম। -আরে না বন্ধু।তুই কালকে সকাল সকাল লঞ্চে চইলা যা।তোর একটা কাম আছে। -কি কাম রে? -তোরে সাথে লইয়া যে আব্বা-আম্মা আর ফাইজার লাইগ্যা জিনিসপাতি কিন্না লইলাম ঐ জিনিসপাতিগুলো তুই নিয়ে যা।সময় করে আমার বাড়িত দিয়ে দিস। -আচ্ছা দিয়ুম নি।কি কি দেওয়া লাগবো তুই আমারে সকালে যাওয়ার সময় দিস ব্যাগে। -আইচ্ছা।তাইলে মুই সামনে মাসে যায়ুম।এহন তো ক্লাস হয়না।হলে থাইকা কি করুম।তার চেয়ে বাড়িত যায়া কয়েকদিন থাইকা আমুনি।মুই সামনে মাসে যায়ুম কিন্তু।তোর আর আসার দরকার নাই।একলগে আসুম আবার। -হ তাইলে মুই আর আসুম না। -হ।

 

[৪] ২৫ তারিখ সকাল বেলা।ইফাত বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ছে।ফায়াজ একটা ব্যাগে তার জিনিসপত্র দিয়ে দিছে ইফাতের কাছে। বাড়ি পৌঁছাতে পৌঁছাতে সন্ধ্যে হয়ে গেছে।তাই ফায়াজের বাড়িতে জিনিসপত্রগুলা আর দেওয়া হয়নি।ফায়াজদের বাসা একটু দূরে।তাই সোজা বাসায় চলে যায় ইফাত। এদিকে ২৫ তারিখ রাতে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করেন ইয়াহিয়া খান এবং জুলফিকার আলি ভুট্টো। ঢাকা ত্যাগের আগে বাঙালি নিধনের আদেশ দিয়ে যান তিনি।পাকিস্তানি সৈন্যরা রাত ১১.৩০ মিনিটে সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে পড়ে। তাদের প্রথম শিকার হয় ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় মিছিলরত মুক্তিকামী বাঙালি।এরপরেই একযোগে আক্রমণ চালানো হয় পিলখানা এবং রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে।বাঙালি সৈন্যরা প্রতিহত করার চেষ্টা করেও পারেনি তাদের সুসজ্জিত অস্ত্রের সাথে।এরপরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে আক্রমণ পরিচালিত হয়।ইকবাল হল,শহীদুল্লাহ হল,জগন্নাথ হল এবং রোকেয়া হল সহ আবাসিক এলাকাগুলোতে গুলি করে ঘুমন্ত অনেক ছাত্রকে হত্যা করা হয়।তাদের মধ্যে ফায়াজ একজন।উক্ত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষকসহ প্রায় ৩০০ জন ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারী নিহত হন।স্বাধীনতা যুদ্ধে এরাই আমাদের প্রথম শহিদ।ঢাকার বাইরে সারা দেশে বিভিন্ন সেনানিবাসে,ইপিআর ঘাঁটিতে আক্রমণ চালানো হয়।হত্যা করা হয় বাঙালি সেনাদের।এইজন্যেই ২৫ শে মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে “কালরাত্রি”হিসেবে পরিচিত।অপারেশন সার্চলাইট অনুযায়ী, ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে রাত প্রায় ১টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধুকে তাঁর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় এবং গোপনে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়।বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার আগেই তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।ঘোষণাটি ছিলো ইংরেজিতে,যাতে বিশ্ববাসী ঘোষণাটি বুঝতে পারে।ইংরেজিতে লেখা সেই ঘোষণা পত্রে তিনি বলেন”This maybe my last message, from today Bangladesh is Independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.”

 

[৫] ২৬ শে মার্চ। সকালে ইফাত ফায়াজের বাসায় যেয়ে জিনিসপত্র গুলো দিয়ে আসে।তারা এখনো জানেই না গতকাল রাতে পাকিস্তানি বাহিনী আক্রমণ চালাইছে।ব্যাগে বাবার জন্য একটা শার্ট, মায়ের জন্য একখানা শাড়ি আর ফাইজার জন্য জামা ও চুড়ি এবং একটা চিঠিও আছে।সব রেখে ফায়াজের বাবা আগে চিঠিটি পড়া শুরু করলেন।চিঠিটিঃ প্রিয় আব্বাজান, আমার সালাম নিবেন।আশা করি আপনারা সবাই ভালো আছেন।আল্লাহর রহমতে আমিও ভালো আছি।আব্বা আপনি তো জানেন আমি ছাত্র পড়াইয়া টাকা উপার্জন করা শিখছি।প্রথম মাসের বেতন পাওয়ার পরই আপনার জন্য একটা শার্ট, আম্মার জন্য একখানা শাড়ি আর ফাইজার জন্য জামা আর চুড়ি কিনছি।কিন্তু ছাত্র পড়ানোর কারণে বাড়িতে যেতে পারি নাই।তাই উপহার গুলো দিতেও পারি নাই।ইফাতও অনেক দিন বাড়িতে যায় না।আজকে ওই যাচ্ছে তাই ওর কাছেই পাঠাইলাম।আমি নিজে পছন্দ কইরা কিনছি আব্বা।আপনার পছন্দ হইবো।আমি এখন একটু ব্যস্ত আছি তো আব্বা।আমি সামনের মাসে আসবো বাড়িতে।আর কয়েকটা দিন অপেক্ষা করেন।আমি যেদিন যাবো আপনারা সেইদিন নতুন কাপড় গুলা পইরেন। ভালো থাইকেন আব্বা।আম্মাকে বইলেন আমার জন্য চিন্তা না করতে।ফাইজাকে বইলেন ওর কথা খুব মনে পড়ে।ওরে ভালো কইরা পড়তে বইলেন। ইতি আপনার আদরের ছেলে ফায়াজ চিঠি পড়ে চোখে পানি চলে আসে ফায়াজের বাবার।এদিকে বাড়ির বাইরে হইচই শুনে বাইরে যায় ইফাত।লম্বা মিছিল বের হয়ছে।ইফাত জানতে চাইলে তারা রাতের সকল ঘটনা বলে। ইফাতের মাথায় যেন আকাশ ভেংগে পরলো।মনে মনে ভাবতে লাগল ফায়াজের কিছু হয়নি তো?হঠাৎ ইফাতের গলা শুকিয়ে যেতে লাগল।এক রাতে এতোকিছু হয়ছে?কোনো কিছু বুঝতে পারছে না সে।কি করবে?ফায়াজের খবর কিভাবে নিবে?কিছুই বুঝতে পারছে না ইফাত।হারু ভাইয়ের দোকানে রেডিও আছে।ওখান থেকে কিছু জানা যায় যদি!তাই ইফাত হারু ভাইয়ের চায়ের দোকানে গেলো।যেয়ে দেখে চায়ের দোকানে মানুষের ভিড়।কিন্তু সবাই চুপচাপ। মনযোগ দিয়ে রেডিও শুনছে।ইফাত দূর থেকে শুনতে পেলো,”গতকাল রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতেও আক্রমণ করে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীরা।শহীদুল্লাহ্ হল,জগন্নাথ হল,ইকবাল হলে আক্রমণ করা হয়।এতে শিক্ষক সহ অনেক ছাত্র-ছাত্রী এবং কর্মচারী নিহত হন এবং আহতের সংখ্যা অগণিত। ইফাত চমকে উঠলো খবর শুনে।তাহলে কি ফায়াজ আর নেই?ইফাত কিছু বুঝতে পারছে না।সব যেন মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে!কি করবে বুঝতে না পেরে বাসায় ফিরে যাচ্ছিলো।পথের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ম বর্ষের রিফাতের সাথে দেখা।ইফাত কিছু বলার আগেই রিফাত বলল,”ভাইয়া তোমার বন্ধু ফায়াজের গুলি লাগছে গতকাল,তিনি আর বেঁচে নাই।”ইফাত হয়তো এইটারই ভয় পাচ্ছিল।ইফাত এক মুহুর্তের মধ্যে হারিয়ে গেছে অন্য জগতে। হঠাৎ করে কেও এসে ধাক্কা দেওয়ায় মাটিতে পরে গেল ইফাত।ইফাত দেখল সবাই ছোটাছুটি করছে।ঢাকার বাইরে সারাদেশে মিলিটারিরা আক্রমণ শুরু করেছে।তাই তো সবাই ব্যাগ,পুটলি নিয়ে ছোটাছুটি করছে।সবাই জীবন বাঁচাতে ব্যস্ত।ইফাত তাড়াতাড়ি করে ফায়াজের বাসায় চলে গেল।ইফাত কিছু বলার আগেই ফায়াজের বাবা কাঁদতে কাঁদতে বললেন,”বাবা ইফাত,আমার পোলাডার কোনো খোঁজ খবর পাইছো?ঢাহা শহরে নাহি মিলিটারি রা ছাত্রগো মাইরাহালাইছে।আমার পোলাডা ঠিকঠাক আছে তো?”ফায়াজের মা শুধু একটা কথায় বলছিলো বারবার,”আমার বাজানের কিচ্ছু হইবো না।” তাদের দুইজনকে দেখে মনে হচ্ছিল তারা ইফাতের কাছ থেকে শুনতে চায়,”ফায়াজের কিছু হয় নাই।” আশ্চর্যজনকভাবে ইফাত মিথ্যা কথাটাই বলল।মিথ্যা বলা ছাড়া উপায় ছিলো না তার। ইফাতঃফায়াজের কিছু হয় নাই চাচা।দেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হইছে, ফায়াজ মুক্তিযুদ্ধের ট্রেইনিং নিতে গেছে।মুক্তিযুদ্ধ শ্যাষ হইলে চইলা আইবো।আমাগো দেশ স্বাধীন হইলেই চইলা আইবো।ফায়াজ আমারে খবর পাঠাছে আর কইছে আপনাগো লইয়া কলকাতা যাইতে। ফায়াজের মাঃআমি কইছিলাম না আমার বাজানের কিচ্ছু হইবো না। ফায়াজের বাবাঃ হুম।সবই খোদার রহমত।এহন চলো সব কিছু গইছা লই।তোমার পোলা কি কইছে হোনলাই তো,কলকাতা যাইতে কইছে। তাদেরকে কলকাতায় পৌঁছে দিয়ে ইফাত মুক্তিবাহিনীতে যোগ দেয়।শুরু হয় মুক্তির লড়াই।মুক্তিযুদ্ধ! নয় মাস পর।আজ দেশ স্বাধীন। এ দেশের মানুষও স্বাধীন। কিন্তু কোথায় গেলো ফায়াজরা!কোথায়ই বা গেলো ইফাত!তার খবর কে রেখেছে?কেও না। তাদের আত্মত্যাগ ছিল দেশের প্রতি কিন্তু অপেক্ষাটা শুধু পরিবারের। ফায়াজ ফিরে আসেনি আর! তাদের নতুন কাপড় ও পড়া হয়নি কোনোদিন!

এ অপেক্ষা ছেলের জন্য বাবা-মার অপেক্ষা!

এ অপেক্ষা বড় ভাইয়ের জন্য একটা ছোটো বোনের অপেক্ষা!

এ অপেক্ষা ফিরে আসবে না জেনেও অপেক্ষা!

এ অপেক্ষা সারাজীবনের জন্য অপেক্ষা!

এ অপেক্ষা কখনো শেষ হবার নয়! এ অপেক্ষা অফুরন্ত, অবিরাম!

 

লেখকঃ মোঃ মেহেদী হাসান

স্থায়ী ঠিকানাঃকাজিপুর,সিরাজগঞ্জ

বর্তমান ঠিকানাঃকলোনী,বগুড়া

স্কুলের নামঃআমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন পাবলিক স্কুল ও কলেজ, নিশিন্দারা,বগুড়া।

Leave a Comment