স্বাধীনতার শপথ ~ বিনিতা ঘোষ

১৯৭১ সালের কথা। তখন দেশ জুরে ছিলো হাহাকার । পাকিস্তানি শাসক রা যেনো দেশটাকে শুষে নিয়েছে । তাদের অত্যাচার যেনো দিন দিন বেরেই চলেছিলো। কিন্তু বাঙালিরা মুখ বুজে থাকার পাএ নয়। বাঙালিরাও পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে একের পর এক আন্দোলন করে চলছিলো।

গরিব কৃষক হাসিব মিয়া । স্ত্রী এবং এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার । হাসিব মিয়া ও আন্দোলনে যোগ দিতেন। কারণ তিনি দেশ কে ভালোবাসতেন। তার স্ত্রী বেগম সাইভা এতে সহমত ছিলো ।তাদের মেয়ে তখনো ছোট। বয়স মাএ পাঁচ বছর।

মার্চ মাস এ যেন ছিলো এক সংগ্রাম মাস ।চারদিকে আন্দোলন আর সংগ্রাম । পাকিস্তানি পুলিশেরা হাজার বাধা দেওয়া চেষ্টা করলেও হাল ছারেনি বাংলার দামাল ছেলেরা।,,,,,

৭ ই মার্চ বঙ্গবন্ধু তার জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণ সবার কাছে পরিবেষণ করেন। সেই ভাষণ শুনতে উপস্থিত ছিলো অসংখ্য বাঙালি। বঙ্গবন্ধু তার এই ভাষণে বলেছিলেন ‘ ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলো’। পাকিস্তানিরা কিভাবে দিনের পর দিন শাষণ করে চলেছে সেই কথাও উল্লেখ করেন তার এই ভাষণে। তার এই ঐতিহাসিক ভাষণ মুগ্ধ করেছিলো বাঙালিদের । অনেকে এই ভাষণ শুনে অনুপ্রাণিত হয়েছিলো। তাদের মধ্যে হাসিফ মিয়া একজন । সেও স্বপ্ন দেখেছিলো বাংলা আবার স্বাধীন হবে। এই ভাষণ যেনো তাকে আরো অনুপ্রাণিত করেছিলো ।

২৫ শে মার্চ এ যেনো ছিলো বাঙালিদের কাছে এক ভঙ্গকর রাত । পাকিস্তানিরা তাদের পরিকল্পনা সত্যি করতে ঘুমন্ত বাঙালির উপর ঝাঁপিয়ে পরে। হাসিফ মিয়া ও তার পরিবার ও ছিলেন সেই সময় ঘুমিয়ে । পাকিস্তানরা তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পরে । বন্দুকের আঘাতে তাদের মেয়ে কে মেরে ফেলে পাকিস্তানি দানবরা । হাসিফ মিয়ার স্ত্রী ও রেহাই পাই নি । হাসিফ মিয়া ও আহত হন। এমন ভাবে অনেক মায়ের কোল খালি করে দেই ওই পাকিস্তানি দানবরা। এই একটি রাত যেন ধংস করে দেয় সব কিছু । হাসিফ মিয়া কে বাঁচানো গেলেও তার স্ত্রী আর মেয়ে কে বাঁচানো যাই নি। এক দিকে যেমন তার কষ্ট হচ্ছিল আর রাগ ও হচ্ছিল ওই পাকিস্তানি সৈনিকদের উপর । মনে মনে সে প্রতিজ্ঞা নেয় বাংলা মা কে স্বাধীন করবে সে আর স্ত্রী আর মেয়ের মৃত্যুর বদলা নেবে ।

২৬ শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ডাক দেন। এর পরে তাকে পাকিস্তানি পুলিশ গ্রেফতার করে । বাংলার দামাল ছেলে ঝাঁপিয়ে পরে মুক্তি যুদ্ধে । হাসিফ মিয়া ও মুক্তি যুদ্ধে অংশ নেন । তিনি প্রশিক্ষণ নিতেন এবং পাকিস্তানি বাহিনী র গোপন সংবাদ সংগ্রহ করতেন।,,,,

হাসিফ মিয়া ও আরো কিছু মুক্তিযোদ্ধা একটা গ্রামে যায় । খবর কিছু ওইখানে নাকি পাকিস্তানিদের কিছু গোপন অস্ত্র রয়েছে । তাই তারা যায় । তাদের আসার খবর পাকিস্তানি বাহিনী কোনো ভাবে যেনে যায় । নিজেদের বাচাতে হাসিফ এবং বাকিরা আশ্রয় নেয় এক বৃদ্ধার ঘরে। বৃদ্ধার ঘরে শুধু তার ছোট নাতনি ছারা আর কেউ নাই । বৃদ্ধা বলে বাবা আমার সাধ্য মতো তোমাদের সাহায্য করবো । জানো বাবা আমার ছেলে একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলো কিছু খাতক তাকে খুন করছে। তার পর থেকে আমি আর আমার নাতনি একাই থাকি। বৃদ্ধার কথা শুনে তাদের খারাপ লাগে । বৃদ্ধা আরো বলে বাবা তোমরা কথা দাও এ দেশ কে স্বাধীন করবে । তারা সবাই কথা দেয় । হাসিফ মিয়া বলেন বৃদ্ধা আমিও হব হারিয়ে ছি আজ তোমাকে কথা দিলাম দেশ স্বাধীন হবে। ,,,,,,,,,,,

পরের দিন তারা ওই বৃদ্ধার গৃহ থেকে বিদায় নেয় । তারা সবাই শহরের উদ্দেশ্যে যাওয়ার জন্য বের হয় । কিন্তু তার আগেই পাকিস্তান বাহিনী কিছু সৈন্য তাদের সামনে এসে পথ আটকে দারায় । হাসিফ এবং বাকিরা নিজেদের বাচানোর চেষ্টা করছিলো হাসিফ বললো তোমরা পিছিয়ে যাও সবাই না না করলেও হাসিফ তাদের সরিয়ে নিজে বন্দুকের সামনে এসে দারায় । পাকিস্তানি সৈনিকের গুলি তার বুক ভেদ করে । আর হাসিফ নিচে পরে যায় । চোখ বন্ধ হওয়ার আগে পযন্ত সে মাটি হাতে বলতে থাকে
জয় বাংলা
জয় বাংলা

সে যেনো দেখতে পায় তার মৃত মেয়ে সামনে দারাই ।বলতেছে বাবা তুমি পেরেছো দেশের জন্য প্রাণ দিতে তোমাকে নিয়ে গর্ব করি ।হাসিফের যেনো আর দুঃখ নাই । আনন্দ অশ্রু তার চোখে। এর থেকে আনন্দের মৃত্যু যেনো হয় না।

এরকম কত যে শহিদ নিজের জীবন দিয়েছে । আমাদের জন্য তা বলাল বাইরে । তাদের এই আত্ম ত্যাগ আজ আমাদের আজ আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে।

সম্মান জানাই তোমাদের তোমরা ছিলে বলেই আজ আমরা স্বাধীন তোমাদের এই ঋণ ভুলবো না।

 

নাম বিনিতা ঘোষ

শ্রেণি : নবম

স্কুল: পুলিশ লাইন স্কুল আন্ড কলেজ বগুড়া ।

জেলা: বগুড়া

উপজেলা: বগুড়া সদর

Leave a Comment