জমছে না বই মেলা, উদ্দোক্তার খামারে আগুন – শীর্ষ সংবাদ

জমছে না এবারের বই মেলাঃ

উষ্ণ আবহাওয়া, নতুন বই তেমন না আসা এবং করোনার কারণে এবারের বগুড়ার বইমেলা তেমন জমে না। মেলার পঞ্চম দিন গতকাল রোববারও মেলায় সাধারণ পাঠকের ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। সন্ধ্যার পরে যদিও কিছুটা চোখে পড়ে তাদের অধিকাংশই সাংস্কৃতিক কর্মী বা শিল্প সাহিত্য ও সংবাদকর্মীই বেশি। 

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে বগুড়ায় ১৭ ই মার্চ থেকে শুরু হয়েছে ১০ দিনব্যাপী বইমেলা। শহরের খোকন পার্কের সামনের রাস্তার দুই পাশে ফুটপাতে। মেলায় আগত বিক্রেতাদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগের অর্থ ফিরে পাওয়া নিয়ে। গতকাল বিকেলে বইমেলায় বই দেখতে আসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জানান এখন সবার হাতে হাতে স্মার্টফোন রয়েছে। কোন বই পড়তে  ইচ্ছে করলে গুগলে সার্চ করলেই সে বই চলে আসে। তাই আর বাড়তি অর্থ খরচ করে বই কিনতে হয় না। 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী প্রত্যয়ের মতামত আবার কিছুটা ভিন্ন। তার মতে রাতে শুয়ে শুয়ে বা বসে বসে বই পড়ার মজাই আলাদা। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বেশ ক’বছর বগুড়ার বই মেলায় এসেছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও বগুড়ার বই মেলায় ঘুরে ফিরে হুমায়ূন আহমেদ ও জাফর ইকবালের পুরাতন বই ছাড়া অন্য কোন লেখকের বই তেমন চোখে পড়ে না। তবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বেশ ভালো কিছু বই রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উৎসব উপলক্ষে মেলার পঞ্চম দিন খোকন পার্ক মেলা মঞ্চে  প্রথম প্রহরে নজরুল সংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর বিকাল 4 টা হতে হিন্দোল ও নবগীত সঙ্গীত অ্যাক্যাডেমির শিল্পীরা গান ও  আবৃত্তি পরিবেশন করেন। এরপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি আবদুস সালামের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ গ্রাম থিয়েটারের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল হান্নান, নান্দনিক নাট্য দলের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান চৌধুরী। এর আগে নজরুল সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

আলোচনা সভার পরে ফাল্গুনী থিয়েটারের নাটক “নিশংস হত্যা” মঞ্চস্থ হয়। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা করেন রাজিব। সবশেষে অনুশীলন’৯৫ এর শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাংস্কৃতিক জোট বগুড়ার সাধারণ সম্পাদক আবু সাঈদ সিদ্দিকী। 

আজ সোমবার সকালে লোকসংগীত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। বিকাল হতে শেরপুর সাংস্কৃতিক একাডেমি, থিয়েটার আইডিয়া, বুলবুল নৃত্যকলা, ধতৈব সংগীত একাডেমি, সংগীত, আবৃতি ও নৃত্য পরিবেশন করবে। 

 

সফল উদ্দোক্তার খামারে আগুনঃ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত থেকে রাজশাহী বিভাগীয় সফল নারী উদ্যোক্তা পুরস্কার প্রাপ্ত নাহিদ সুলতানা তৃপ্তির বগুড়া সান্তাহার মুরগির খামার অফিসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাতে উপজেলার সান্তাহার ইউনিয়নের ছাত্রলীগ গ্রামের তৃপ্তি পোল্ট্রি ফার্মের অফিস কক্ষে ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, খামার মালিক নাহিদা সুলতানা তৃপ্তির ছোট ভাইয়ের নয়ন খামারের অফিসে তালা দিয়ে বেরিয়ে চলে যান। এরপর রাত এগারোটার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। বিষয়টি তার কর্মচারীরা দেখতে পেয়ে খবর দিলে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এমতাবস্থায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে ঘন্টাখানেকের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। 

তৃপ্তির পক্ষ থেকে বলা হয়, অগ্নিকাণ্ডে টাকাসহ প্রায় সোয়া লাখ টাকার ভ্যাকসিন পুড়ে গেছে। এছাড়া পানি পড়ে সাড়ে 8 লাখ টাকা মূল্যের ৩৮৫কেজি খাবার নষ্ট হয়ে গেছে। নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান প্রায়, এক ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

নামেই হাসপাতাল(নন্দিগ্রাম):

বগুড়ার নন্দীগ্রাম পৌরসভার মেয়র আনিসুর রহমান এর উদ্যোগে পাল্টে গেল ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের চিত্র। হাসপাতালের ভিতর ও বাহিরে ও অপরিষ্কার অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ থেকে হয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও ঝকঝকে। গত শনিবার সকালে হাসপাতাল চত্বরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্ভাবন করেন মেয়র আনিসুর রহমান। এসময় কাউন্সিলর আবু সাইদ মিলন  উপস্থিত ছিলেন। 

জানা গেছে স্থানীয় দাবির প্রেক্ষিতে ২০০১-২০০২ অর্থবছরের পৌরশহরে ২০ শয্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সরকারের স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালের অবকাঠামো নির্মাণ ওটিপি নির্মান, যন্ত্রপাতি ও আনুষঙ্গিক খাতে ব্যায় হয় ৩৫৪ লাখ টাকা। ২০০২ সালে নন্দীগ্রামের নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয় ২০ শয্যা বিশিষ্ঠ হাসপাতালটির। ২০০৫ সালে ২০ শয্যা বিশিষ্ঠ হাসপাতালটির অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়। কিন্তু অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলেও জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় উদ্বোধন আটকে যায়। জনবল নিয়োগ ২০০৬ সালের ১৮ অক্টোবর জোট সরকারের ক্ষমতা ছাড়ার শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে হাসপাতাল উদ্বোধন করেন সাবেক এমপি জিয়াউল হক মোল্লা। এরপর দীর্ঘ ১৫ বছর জনবলের অভাবে হাসপাতালটি আর চালু হয়নি।

হাসপাতলের বিশাল ক্যাম্পাসজুড়ে ঘাস ও বিভিন্ন আবাসিক ভবনগুলো নষ্টের পথে। হাসপাতালটির চালু না হওয়ায় এলাকাবাসী কোন কাজে আসছে না। 

ব্যবহার না করায় হাসপাতালের বিছানা ও আসবাবপত্রে ধুলাবালির আস্তরণ জমে।  ঘুনপোকা ভবনের দরজা-জানলায় বাসা বাঁধায় খুলে পড়েছে দরজা জানালার কপাট। ঠিকমতো নজরদারি না থাকায় হাসপাতালটি মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হয়। তবে বহির্বিভাগ চালু থাকলেও তার চলার গতি ছিলো মন্থর। 

এখন ক্ষমতাসীন দলের মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় পাল্টে গেল আগের চিত্র। নন্দীগ্রাম পৌরসভা নির্বাচনে আনিসুর রহমানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার ব্যবস্থা করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করলেন তিনি।

Leave a Comment