নবম দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের ২য় অধ্যায়ের উপর জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

   

প্রশ্ন ১। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতা ঘােষণার বাংলা অনুবাদটি লেখ? 

উত্তর : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতা ঘােষণার বাংলা অনুবাদটি হলাে- ইহাই হয়তাে আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরােধ কর। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত। চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।

প্রশ্ন ২। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার কত তারিখে ভারত থেকে ঢাকা আসে?

উত্তর : স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ সালের ২২ ডিসেম্বর তারিখে ভারত থেকে ঢাকা আসে।

প্রশ্ন ৩। মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক কে ছিলেন?

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

প্রশ্ন ৪। মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর : মুজিবনগর সরকারের অর্থমন্ত্রী ছিলেন ক্যাপ্টেন এম. মনসুর আলী।

প্রশ্ন ৫। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি কারা?

উত্তর : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ।

প্রশ্ন ৬। স্বাধীনতা ঘােষণার সময় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রটির নাম কী ছিল?

উত্তর : স্বাধীনতা ঘােষণার সময় চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রটির নাম ছিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।

প্রশ্ন ৭। সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল পদ সৃষ্টির কথ বলা হয়েছে?

উত্তর : সংবিধানের ৭৭নং অনুচ্ছেদে ন্যায়পাল পদ সৃষ্টির কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন ৮। মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর : মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ।

প্রশ্ন ৯। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার কত শতাংশ ছিল?

উত্তর : ১৯৭২ সালে বাংলাদেশে দারিদ্র্যের হার ছিল ৭০ শতাংশ।

প্রশ্ন ১০। গণযুদ্ধ কী?

উত্তর : যে যুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণ অংশগ্রহণ করে তাই গণযুদ্ধ।

প্রশ্ন ১১। বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি কে?

উত্তর : বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

প্রশ্ন ১২। কত সালে বাংলাদেশ কমনওয়েলথ-এর সদস্য হয়?

উত্তর : ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ কমনওয়েলথ-এর সদস্য হয়।

প্রশ্ন ১৩। গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের নতুন সংবিধান সম্পর্কে কি বলেছিলেন?

উত্তর : গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের নতুন সংবিধান সম্পর্কে বলেন ‘এ সংবিধান শহিদের রক্তে লিখিত, এ সংবিধান সমগ্র জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক হয়ে বেঁচে থাকবে।’

প্রশ্ন ১৪। রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ কখন গঠিত হয়?

উত্তর : রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয়।

প্রশ্ন ১৫। মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে কত তারিখে?

উত্তর : মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৭ এপ্রিল।

প্রশ্ন ১৬। বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় কবে?

উত্তর : বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয় ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর।

প্রশ্ন ১৭ জর্জ হ্যারিসন কে ছিলেন?

উত্তর : জর্জ হ্যারিসন লন্ডনে জন্মগ্রহণকারী সংগীত শিল্পী ছিলেন যিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের সমর্থনে ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ এর আয়ােজক ও গায়ক।

প্রশ্ন ১৮। বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয় কত সালে?

উত্তর : বাংলাদেশে প্রথম সাধারণ নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালে ।

প্রশ্ন ১৯। অপারেশন সার্চলাইট কী?

উত্তর : ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতাকামী সাধারণ জনতার ওপর যে হামলা করে তাই অপারেশন সার্চ লাইট।



প্রশ্ন ২০। পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু মােট কত বছর জেলখানায় ছিলেন?

উত্তর : পাকিস্তান আমলে বঙ্গবন্ধু মােট ১২ বছর জেলখানায় ছিলেন।

প্রশ্ন ২১। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের কমিটির প্রধান কে ছিলেন?

উত্তর : ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়ন কমিটির প্রধান ছিলেন ড.কামাল হােসেন।

প্রশ্ন ২২। নূর হােসেন এরশাদের বিরুদ্ধে কোন কর্মসূচি পালনের সময় নিহত হন?

উত্তর : নূর হােসেন এরশাদের বিরুদ্ধে ‘গণতন্ত্র মুক্তিপাক, স্বৈরাচার নিপাত যাক’ স্লোগান লিখে ঢাকার জিপিও-এর নিকট জিরাে পয়েন্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

প্রশ্ন ২৩। চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়?

উত্তর : চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়।

প্রশ্ন ২৪। ১৭ মার্চ ১৯৭১ ‘অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করেন কে?

উত্তর : ১৭ মার্চ, ১৯৭১ টিক্কা খান ও রাও ফরমান আলী ‘অপারেশন সার্চলাইট’ বা বাঙালির ওপর নৃশংস হত্যাকাণ্ড পরিচালনার নীলনকশা তৈরি করে।

প্রশ্ন ২৫। কারা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত?

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধে প্রতিটি সেক্টরেই নিয়মিত সেনা, গেরিলা ও সাধারণ যােদ্ধা ছিল; তারা মুক্তিযােদ্ধা বা মুক্তিফৌজ নামে পরিচিত ছিল।

প্রশ্ন ২৬। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন?

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি ছিলেন কর্নেল (অব.) মােঃ আতাউল গনী ওসমানী (এমএজি ওসমানী)।

প্রশ্ন ২৭। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে?

উত্তর : ১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।

প্রশ্ন ২৮। কে ৩ মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘােষণা করেন?

উত্তর : ইয়াহিয়া খান ৩ মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘােষণা করেন।

প্রশ্ন ২৯। মুজিবনগর কোথায় অবস্থিত?

উত্তর : বর্তমান মেহেরপুর জেলায় মুজিবনগর অবস্থিত।

প্রশ্ন ৩০। বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় অতীব তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা কোনটি?

উত্তর : বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় অতীব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থান।

প্রশ্ন ৩১। কোন নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হয়েছিল?

উত্তর : সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারও সাথে শত্রুতা নয়’- এ নীতির ভিত্তিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারিত হয়েছিল।

প্রশ্ন ৩২। রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম কী?

উত্তর : রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম সােহরাওয়ার্দী উদ্যান ।

প্রশ্ন ৩৩। মুজিবনগর সরকার কবে গঠন করা হয়?

উত্তর : মুজিবনগর সরকার গঠন করা হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল।

প্রশ্ন ৩৪। মুজিবনগর সরকারের কতটি মন্ত্রণালয় ছিল?

উত্তর : মুজিবনগর সরকারের ১২টি বিভাগ বা মন্ত্রণালয় ছিল।

প্রশ্ন ৩৫। কত খ্রি. বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়?

উত্তর : ১৯৫৬ খ্রিস্টাব্দে বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।



 

অনুধাবনমূলক প্রশ্ন   

 

প্রশ্ন ১। বাংলাদেশের সংবিধানের ২টি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।

উত্তর : বাংলাদেশের সংবিধান দুম্পরিবর্তনীয়। কারণ এর কোনাে নিয়ম পরিবর্তন বা সংশােধন করতে জাতীয় সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতির প্রয়ােজন হয় ।

 

প্রশ্ন ২। স্বাধীনতার ঘােষণা কী? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে (অর্থাৎ ২৫ মার্চ রাত ১২টার পর) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘােষণা দেন।

স্বাধীনতার ঘােষণার বাংলা অনুবাদ হলাে—“ ইহাই হয়ত আমার শেষ বার্তা, ‘আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি যে, যে যেখানে আছে, যাহার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরােধ কর। পাকিস্তানি দখলদার বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।”

 

প্রশ্ন ৩। বাংলাদেশ ‘গণপরিষদ’ আদেশ বলতে কী বােঝায়?

উত্তর : ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘বাংলাদেশ গণপরিষদ’ নামে একটি আদেশ জারি করেন। এ আদেশ বলে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচিত সদস্যগণ গণপরিষদের সদস্য বলে পরিগণিত হয়। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে দেশের জন্য প্রয়ােজনীয় আইনকানুন পাস ও কার্যকর করা সম্ভব হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকরী সংবিধান প্রণয়ন করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয়েছিল। বাংলাদেশে গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রায় এটি অতীব তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।

 

প্রশ্ন ৪। দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচির প্রয়ােজন হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : শােষণহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে দ্বিতীয় বিপ্লব কর্মসূচি প্রয়ােজন হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের সীমাহীন ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশ যখন ব্যস্ত তখন ১৯৭৩-৭৪ সালের বন্যার ফলে খাদ্য সংকট সৃষ্টি হয়। দেশের অভ্যন্তরে মজুদদার, দুর্নীতিবাজ এবং ষড়যন্ত্রকারী গােষ্ঠী তৎপর হতে থাকে। বঙ্গবন্ধুর সরকার জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি এবং শশাষণহীন সমাজ গঠনের লক্ষ্যে দেশের নতুন আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয় যা দ্বিতীয় বিপ্লব নামে অভিহিত হয়।

 

প্রশ্ন ৫। মুজিবনগর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের কাঠামাে কী ছিল?

উত্তর : বাংলাদেশের প্রথম সরকার মুজিবনগর সরকারের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ; অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী এবং স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রী ছিলেন এ এইচ এম কামারুজ্জামান। উক্ত সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও আইনমন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মােশতাক আহমেদ। তাছাড়া মুজিবনগর সরকারের ৬ (ছয়) সদস্য বিশিষ্ট একটি উপদেষ্টা পরিষদ ছিল।

 

প্রশ্ন ৬। মুক্তিযুদ্ধে প্রবাসী বাঙালিদের অবদান উল্লেখ কর।

উত্তর : প্রবাসী বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সাহায্য-সহযােগিতা করেন। বিভিন্ন দেশে তারা মুক্তিযুদ্ধের জন্য অর্থ সংগ্রহ করেছেন। বাংলাদেশের পক্ষে সমর্থন আদায়ে পার্লামেন্ট সদস্যদের নিকট ছুটে গিয়েছেন, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রতিনিধি দল প্রেরণ করেছেন, পাকিস্তানকে অন্ধগােলাবারুদ সরবরাহ না করতে সরকারের নিকট আবেদন করেছেন। এক্ষেত্রে ব্রিটেনের প্রবাসী বাঙালিদের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখ্য। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত গঠনে তারা কাজ করেছেন।



 

প্রশ্ন ৭। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধের মূল নিয়ামক শক্তি ছিল জনগণ। তথাপি যুদ্ধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে বুদ্ধিজীবীদের অবদান ছিল খুবই প্রশংসনীয়। পত্রপত্রিকার লেখা, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে খবর পাঠ, দেশাত্মবোেধক গান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গান, কবিতা পাঠ, নাটক, কথিকা, এম, আর আকতার মুকুলের অত্যন্ত জনপ্রিয় ‘চরমপত্র’ অনুষ্ঠান এবং ‘জল্লাদের দরবার’ ইত্যাদি মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে। এসব রণক্ষেত্রে মুক্তিযােদ্ধাদের মানসিক ও নৈতিক বল ধরে রাখতে সহায়তা করছে, সাহস জুগিয়েছে, জনগণকে শত্রুর বিরুদ্ধে দুর্দমনীয় করেছে। তাই বলা যায়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়।

 

প্রশ্ন ৮। মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতারের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। ২৬ মার্চ চট্টগ্রাম বেতারের শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করেন। পরে এটি মুজিবনগর সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র সংবাদ, দেশাত্মবােধক গান, মুক্তিযােদ্ধাদের বীরত্ব গাঁথা রণাঙ্গনের নানা ঘটনা ইত্যাদি দেশ ও জাতির সামনে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে যুদ্ধের প্রতি অনুপ্রাণিত করে। মুক্তিযােদ্ধাদের সাহস যুগিয়ে বিজয়ের পথ সুগম করে। সুতরাং মুক্তিযুদ্ধের স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

 

প্রশ্ন ৯। বাংলাদেশে গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয়েছিল কেন?

উত্তর : একটি পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকরী সংবিধান প্রণয়ন করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ গণপরিষদ আদেশ জারি করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর ১৯৭২ সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশ গণপরিষদ’ নামে একটি আদেশ করেন। এ আদেশ অনুসারে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে নির্বাচিত প্রাদেশিক ও জাতীয় পরিষদের সদস্যগণ গণপরিষদের সদস্য হিসেবে পরিগণিত হন। জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য সংবিধান প্রণয়ন করাই হচ্ছে গণপরিষদের মূল লক্ষ্য।

 

প্রশ্ন ১০। মুক্তিযােদ্ধাদের ঋণ কোনােদিন শােধ হবে না কেন?

উত্তর : বিশ্ব ইতিহাসে বাংলাদেশ হচ্ছে তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে প্রথম দেশ, যে দেশ সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে।

দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে সর্বস্তরের জনগণের ত্যাগ ও অংশগ্রহণে, মা-বােনের লুষ্ঠিত ইজ্জত, ছাত্রসমাজ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের অবদানে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তার ঋণ কোনােদিন শােধ হওয়ার নয়। বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন পূরণে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের ঋণ কোনােকিছুর বিনিময়ে কোনােদিন কেউ শােধ করতে পারবে না।

Leave a Comment