নবম দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের ১ম অধ্যায়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন  

প্রশ্ন ১। কখন আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হন?

উত্তর : ১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হন।

প্রশ্ন ২। ২১ দফার ১ম দফা কী?

উত্তর : ২১ দফার ১ম দফা ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে।

প্রশ্ন ৩। কয়টি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল?

উত্তর : চারটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।

প্রশ্ন ৪। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় কত সালে?

উত্তর : বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে।

প্রশ্ন ৫। পাকিস্তানে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন কে?

উত্তর : পাকিস্তানে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন ইস্কান্দার মির্জা।

প্রশ্ন ৬। কত সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে? 

উত্তর : ১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।

প্রশ্ন ৭। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ কত দিন অব্যাহত ছিল?

উত্তর : ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৭ দিন অব্যাহত ছিল।

প্রশ্ন ৮। কার নেতৃত্বে তমদুন মজলিস’ গঠিত হয়েছিল?

উত্তর : অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ‘তমদ্দুন মজলিস’ গঠিত হয়েছিল।

প্রশ্ন ৯। ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার বিরােধিতা করেন কে?

উত্তর : ১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার বিরােধিতা করেন শেরে বাংলা এ, কে, ফজল হক।

প্রশ্ন ১০। কাকে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়?

উত্তর : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার এক নম্বর আসামি করা হয়।

প্রশ্ন ১১। যুক্তফ্রন্ট সরকার কত দিন ক্ষমতায় ছিল?

উত্তর : যুক্তফ্রন্ট সরকার ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল ।

প্রশ্ন ১২। কত সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ঘটেছিল?

উত্তর : ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ঘটেছিল।

প্রশ্ন ১৩। যুক্তফ্রন্ট সরকার কত দিন ক্ষমতায় ছিলেন?

উত্তর : যুক্তফ্রন্ট সরকার ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিলেন।

প্রশ্ন ১৪। কোন সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে?

উত্তর : ১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।

প্রশ্ন ১৫। ভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নতুনভাবে কী নামে গঠিত হয়?

উত্তর : ভাষা সংগ্রাম পরিষদ’ নতুনভাবে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ নামে গঠিত হয়।

প্রশ্ন ১৬। কার নেতৃত্বে গণআজাদী লীগ গঠিত হয়?

উত্তর : কামরুদ্দীন আহম্মদের নেতৃত্বে গণআজাদীলীগ গঠিত হয়।

প্রশ্ন ১৭। ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় কবে? 

উত্তর : ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয় ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট রাতে।

প্রশ্ন ১৮। ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় মােট আসামির সংখ্যা কত ছিল?

উত্তর : ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় মােট আসামির সংখ্যা ছিল ৩৫ জন।

প্রশ্ন ১৯। যুক্তফ্রন্টের একুশ দফার একুশতম দফায় কী ছিল?

উত্তর : যুক্তফ্রন্টের একুশ দফার একুশতম দফা ছিল পর পর তিনটি উপনির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট পরাজিত হলে মন্ত্রিসভা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবে।

প্রশ্ন ২০। আওয়ামী মুসলিম লীগ দলটি কখন প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রশ্ন ২১। তমদুন মজলিস কোন ধরনের প্রতিষ্ঠান?

উত্তর : তমদুন মজলিস একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।

প্রশ্ন ২২। ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির রচয়িতা কে?

উত্তর : ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানাে একুশে ফেব্রুয়ারি’ গানটির রচয়িতা আবদুল গাফফার চৌধুরী।

প্রশ্ন ২৩। তমদুন মজলিস কবে গঠিত হয়?

উত্তর : তমদুন মজলিস ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর গঠিত হয়।

প্রশ্ন ২৪। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠনের মূল উদ্যোগ ছিল কার?

উত্তর: ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট গঠনের মূল উদ্যোগ ছিল আওয়ামী লীগের।

প্রশ্ন ২৫। পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় কত সালে?

উত্তর: পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ১৯৫৬ সালে।

প্রশ্ন ২৬। মৌলিক গণতন্ত্র কী?

উত্তর : পাকিস্তান শাসনামলে সামরিক শাসক আইয়ুব খান প্রবর্তিত এক বিশেষ ব্যবস্থা হলাে মৌলিক গণতন্ত্র।

প্রশ্ন ২৭। ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’- এর রচয়িতা কে?

উত্তর : ‘ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়’- এর রচয়িতা সংগীতশিল্পী আবদুল লতিফ।

প্রশ্ন ২৮। কার নেতৃত্বে তমদুন মজলিস গঠিত হয়েছিল?

উত্তর : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদুন মজলিস গঠিত হয়েছিল।

প্রশ্ন ২৯। আইয়ুব খান কখন ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান?

উত্তর : আইয়ুব খান ১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।

প্রশ্ন ৩০। ভাষা আন্দোলন পূর্ব বাংলায় কোন ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দেয়?

উত্তর : ভাষা আন্দোলন পূর্ব বাংলায় জাতীয়তাবাদের ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দেয়।

প্রশ্ন ৩১। ১৯৬২ সালের প্রস্তাবিত শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ কয় দফা কর্মসূচি ঘােষণা করেছিল?

উত্তর : ১৯৬২ সালের প্রস্তাবিত শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ১৫ দফা কর্মসূচি ঘােষণা করেছিল।

প্রশ্ন ৩২। আইয়ুব খান কখন ক্ষমতা দখল করে?

উত্তর : ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন।

প্রশ্ন ৩৩। মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করেন কে?

উত্তর : মুসলিম লীগের দপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করেন মােহাম্মদ আলী জিন্নাহ।

প্রশ্ন ৩৪। কত তারিখে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়?

উত্তর : ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

প্রশ্ন ৩৫। ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হয় কবে?

উত্তর : ১৯৬৫ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর ভারতের সাথে পাকিস্তানের যুদ্ধ শুরু হয়।

প্রশ্ন ৩৬। কোন সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়?

উত্তর: ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশ্ন ৩৭। বাঙালি জাতীয়তাবাদ কাকে বলে?

উত্তর: বাঙালির নিজস্ব সংস্কৃতি, ভাষা, নৃতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য ও স্বজাত্যবােধের ফলে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছে তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ বলে ।

প্রশ্ন ৩৮। কে, কখন ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন?

উত্তর : ১৯৬৬ সালের ৫–৬ ফেব্রুয়ারি লাহােরে অনুষ্ঠিত বিরােধী দলসমূহের এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন।

প্রশ্ন ৩৯। বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি কী?

উত্তর : বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভিত্তি হলাে মাতৃভাষা বাংলা।

প্রশ্ন ৪০। কবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে) সভা অনুষ্ঠিত হয়?

2 উত্তর : ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে) সভা অনুষ্ঠিত হয় ।

প্রশ্ন ৪১। ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত কত তারিখে পাকিস্তানের গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান?

উত্তর : ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদের উর্দু ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি জানান।

প্রশ্ন ৪২। ‘স্মৃতির মিনার’ কবিতাটি কে রচনা করেন?

উত্তর: ‘স্মৃতির মিনার’ কবিতাটি রচনা করেন কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ।

প্রশ্ন ৪৩। এ. কে ফজলুল হক কখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন?

উত্তর : এ. কে ফজলুল হক ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

প্রশ্ন ৪৪। মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে ছিলেন?

উত্তর : মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দিন আহমদ।

প্রশ্ন ৪৫। ভারত বিভক্তির ফলে কয়টি রাষ্ট্রের জন্ম হয়?

উত্তর: ভারত বিভক্তির ফলে ভারত ও পাকিস্তান এ দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।

প্রশ্ন ৪৬। কিসের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়েছে?

উত্তর : জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ বিভক্ত হয়েছে।

প্রশ্ন ৪৭। পূর্ব বাংলা কোন দেশের প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়?

উত্তর : পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের একটি প্রদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।

প্রশ্ন ৪৮। পাকিস্তানের শাসনভার কাদের ওপর কেন্দ্রীভূত হতে থাকে?

উত্তর : পাকিস্তানের শাসনভার পাকিস্তানের ধনিকগােষ্ঠীর ওপর কেন্দ্রীভূত হতে থাকে।

প্রশ্ন ৪৯।  কিসের জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু হয়?

উত্তরঃ মাতৃভাষা বাংলাকে রক্ষা করার জন্য ভাষা আন্দোলন শুরু হয়।

প্রশ্ন ৫০। কোন নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে বেশি ভােট পড়ে?

উত্তর : ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বাঙালি জাতীয়তাবাদের পক্ষে বেশি ভোট পড়ে।

প্রশ্ন ৫১। পাকিস্তান সৃষ্টির আগে কী নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়?

উত্তর: পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই রাষ্ট্রভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।

 

গুরুত্বপূর্ণ অনুধাবনমূলক প্রশ্ন   

 

প্রশ্ন ১। তমুদ্দুন মজলিস কর্তৃক গঠিত সংগ্রাম পরিষদের ভূমিকা ব্যাখ্যা করো?

উত্তর : তমুদ্দুন মজলিস কর্তৃক গঠিত সংগ্রাম পরিষদ ভাষা আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। 

১৯৪৭ সালে ডিসেম্বর মাসে করাচিতে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদে সারাদেশে সভা, মিছিল, ধর্মঘট পালিত হয়। তখন তমদুন মজলিস কর্তৃক গঠিত সংগ্রাম পরিষদ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ নামে রূপান্তরিত হয়। এ সংগ্রাম পরিষদ ৮ দফা দাবিতে স্বাক্ষর করতে খাজা নাজিমুদ্দীনকে বাধ্য করে। এতে বলা হয় যে, পূর্ব বাংলার ইংরেজির স্থলে বাংলাকে সরকারি ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হবে। যার প্রেক্ষিতে বাংলা ভাষা জাতীয় ভাষার মর্যাদা পায়।

 

প্রশ্ন ২। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা খুবই গৌরববাজ্জ্বল। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের এক বিরাট অংশ মুক্তিযুদ্ধে যােগ দেয়। 

মুক্তিবাহিনীতে একক গােষ্ঠী হিসেবে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের এক পর্যায়ে মুজিব বাহিনী গঠিত হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের সাহস, শক্তি ও মেধার মহান আত্মত্যাগ ব্যতীত বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন কঠিন হতাে। এজন্য মুক্তিযুদ্ধে ছাত্রসমাজের ভূমিকা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

 

প্রশ্ন ৩। ‘তমুদ্দুন মজলিস’ কে, কখন এবং কেন গঠন করা হয়?

উত্তর : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমুদ্দুন মজলিশ নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করা।

 

প্রশ্ন ৪। বাঙালি জাতীয়তাবাদ বিকাশে ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্ববহ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এ নির্বাচন সমগ্র পাকিস্তানে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের পরাজয়ের ফলে তারা জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলে। এ নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালিদের মধ্যে সংগ্রামের নতুন প্রেরণা জোগায়। পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযােগ্য নেতৃত্বে বাঙালি জাতীয়তাবাদ আরও বিকশিত ও সুদৃঢ় হয়। তাই ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যধিক।

 

প্রশ্ন ৫। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস কী?

উত্তর : ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলা হয়।

ইতিহাস পাঠে আমরা জানতে পারি যে, ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৯৫৩ সাল থেকে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখটি ‘ভাষা দিবস’ বা ‘শহিদ দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিবেচনায় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো(UNESCO) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ফলে ২০০০ সাল থেকে প্রতিবছর গােটা বিশ্বে ২১শে ফেব্রুয়ারি দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

 

প্রশ্ন ৬। আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত হয়ে যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তা ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মীর্জাকে উৎখাত ও দেশত্যাগে বাধ্য করে ক্ষমতা দখল এবং নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করেন। তিনি উক্ত পদে বসে। যেসব পদক্ষেপ নেন তা হলাে- 

১. নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক, ঘােষণা; ২. পূর্ব ঘােষিত ১৯৫৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করা; 

৩. দুর্নীতি ও চোরাচালানি দূর করার অঙ্গীকার

ব্যক্ত ও 

৪. রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা।

 

প্রশ্ন ৭। যুক্তফ্রন্ট সরকার কেন ব্যর্থ হয়?

উত্তর : ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রের কারণে যুক্তফ্রন্টকে ৫৬ দিন ক্ষমতায় থাকার পর ক্ষমতা ছাড়তে হয়। কারণ, পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারে নি। তাই তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছিল। আর এরই ধারাবাহিকতায় আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলীতে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।

 

প্রশ্ন ৮। শেখ মুজিবকে ফরিদপুর জেলে পাঠানাে হয় কেন?

উত্তর : ভাষা আন্দোলনের সময় বঙ্গবন্ধুকে বিনা বিচারে কারাগারে আটক রাখা হলে কারাগারের ভিতর থেকেও তিনি নেতৃবৃন্দকে বিভিন্নভাবে পরামর্শ দিতেন। ঢাকা মেডিকেলে বন্দী হিসেবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি আন্দোলনের পথনির্দেশনা দিতেন। তাই পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী ভীত হয়ে বঙ্গবন্ধু ও মহিউদ্দীন আহম্মদকে ফরিদপুর কারাগারে পাঠিয়ে দেয়।

 

প্রশ্ন ৯। ভাষা আন্দোলনে শেখ মুজিবের ভূমিকা উল্লেখ কর।

উত্তর : ভাষা আন্দোলনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা প্রশংসনীয়। ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ বাংলা ভাষা দিবস পালনের ঘােষণা দেওয়া হয় এবং পিকেটিং করা অবস্থায় শেখ মুজিব, শামসুল হক, অলি আহাদসহ ৬৯ জনকে গ্রেফতার করলে ১২-১৫ মার্চ ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। পরবর্তীতে কারাবন্দী শেখ মুজিব ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায়ও ২১ ফেব্রুয়ারির কর্মসূচি পালনের জন্য ছাত্র ও আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতা কর্মীদের ডেকে পরামর্শ দেন। এভাবে ভাষা আন্দোলনে বিভিন্নভাবে শেখ মুজিব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

 

প্রশ্ন ১০। ভাষা আন্দোলন কীভাবে আমাদের জাতীয়তাবাদ বিকাশে ভূমিকা রাখে? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির জীবনে একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা। বাঙালি জাতির জীবনে এ আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এ আন্দোলনের সিঁড়ি বেড়ে বাঙালির জীবনে আসে ৫৪-এর। নির্বাচন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সর্বোপরি আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ। এ আন্দোলন বাঙালিদের এক নবজাগরণে দীক্ষিত করে এবং পরবর্তী সকল আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জোগায়। পাকিস্তান সৃষ্টির পর এ আন্দোলনই সর্বপ্রথম বাঙালি জনগােষ্ঠীকে একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে।

 

প্রশ্ন ১১। স্বাধীনতাযুদ্ধে নারী সমাজ কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন? ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : মুক্তিযুদ্ধে নারীদের ভূমিকা ছিল গৌরবােজ্জ্বল মুক্তিযােদ্ধা শিবিরে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা অস্ত্র চালনা ও গেরিলা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। অপরদিকে সহযােদ্ধা হিসেবে আহত মুক্তিযােদ্ধাদের সেবা, মুক্তিযােদ্ধাদের আশ্রয়দান ও তথ্য সরবরাহ করে যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এদেশের অগণিত নারী মুক্তিসেনা।

প্রশ্ন ১২। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা কর?

উত্তর : ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস বলা হয়।।

পৃথিবীতে ৬০০০-এর বেশি ভাষা রয়েছে। এদিন পৃথিবীর সব ভাষার মানুষ যেন অন্য ভাষা বা সংস্কৃতির প্রতি সম্মান জানায় সেই সুযােগ করে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ভাষার জন্য জনগণের আন্দোলন ও রক্তদানের ইতিহাসে পৃথিবীর জাতিসমূহের নিকট উপস্থাপিত হওয়ার সুযােগ হয়। পৃথিবীর সকল জাতি ২১ ফেব্রুয়ারি নিজ নিজ ভাষার গুরুত্ব নতুনভাবে উপলব্ধি করার সুযােগ পেয়েছে। তাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গুরুত্ব অনেক।

 

প্রশ্ন ১৩। যুক্তফ্রন্ট কীভাবে গঠিত হয়?

উত্তর : ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ সরকার কর্তৃক ১৯৫৪ সালের ১১ মার্চ পূর্ব বাংলা আইন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা ঘােষিত হলে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর মুসলিম লীগ বিরােধী রাজনৈতিক দলগুলাে যেমন- আওয়ামী লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম এবং গণতন্ত্রী দল একত্রিত হয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে। পরবর্তীতে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রতীক ছিল নৌকা। শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, হােসেন শহীদ সােহরাওয়ার্দী ও

শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন যুক্তফ্রন্টের প্রথম সারির নেতা।

 

প্রশ্ন ১৪। পাকিস্তানি শাসনামলে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে কী ধরনের বৈষম্য ছিল?

উত্তর : পাকিস্তানি শাসনামলে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রেও অনেক বৈষম্য পরিক্ষিত হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় এগিয়ে ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিগুণের বেশি লাভ করতে থাকে। ফলে পশ্চিম পাকিস্তানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার জন্য নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। এভাবেই পাকিস্তানি শাসকগােষ্ঠী শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের সৃষ্টি করে।

 

প্রশ্ন ১৫। “পাকিস্তান সৃষ্টির পূর্বেই ভাষা নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।” – ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ১৯৩৭ সালে মােহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে এ কে ফজলুল হক এর বিরােধিতা করেন। ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্রের

জন্ম প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় তখনই বিতর্কটি পুনরায় শুরু হয়। ১৯৪৭ সালের ১৭ মে তারিখ চৌধুরী খলীকুজ্জামান এবং জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন।

 

প্রশ্ন ১৫। উর্দু ভাষার বিপক্ষে যেসব প্রতিবাদ গড়ে তােলা হয় সেগুলাে ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : চৌধুরী খলীকুজ্জামান ও উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রস্তাব দিলে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংস্থা প্রতিবাদ গড়ে তােলেন। তাদের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে পূর্ব বাংলার ভাষাবিজ্ঞানী ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শহীদুল্লাহ এবং ড. এনামূল হকসহ বেশ কয়জন বুদ্ধিজীবী প্রবন্ধ লিখে প্রতিবাদ জানান। ১৯৪৭ সালে কামরুদ্দিন আহমদের নেতৃত্বের গঠিত গণআজাদীলীগ মাতৃভাষায় শিক্ষাদান’ এর দাবি জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ২ সেপ্টেম্বর তমদুন মজলিশ নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। উক্ত প্রতিষ্ঠান উর্দু ভাষার বিপক্ষে বিভিন্নভাবে প্রতিবাদ জানায়। তারপর ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও তাঁদের বুকের তাজা রক্তের বিনিময়ে বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায়।

 

প্রশ্ন ১৬। শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষার সিদ্ধান্তের ফলাফল ব্যাখ্যা কর।

উত্তর : ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে, লেখালেখি শুরু হয় এবং ডিসেম্বর মাসেই রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ নতুনভাবে গঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সভাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘােষণা করে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্র-জনতা মিছিল করে এবং তাদের বুকের তাজা রক্তে রাষ্ট্রভাষার স্বকৃতি পায় বাংলা ভাষা।

Leave a Comment