সুভা গল্পের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক, অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন-১. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৮৬১ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-২. সুভার গ্রামের নাম কী?

উত্তরঃ সুভার গ্রামের নাম চন্ডিপুর।

প্রশ্ন-৩. সুভার বাবার নাম কী?

উত্তর: সুভার বাবার নাম বাণীকন্ঠ।

প্রশ্ন-৪. সুভা কী মনে করত?

উত্তর: সুভা মনে করত আমাকে সবাই ভুলিলে বাচি।

প্রশ্ন-৫. কে সুভার মর্যাদা বুঝত?

উত্তর: প্রতাপ সুভার মর্যাদা বুঝত।

প্রশ্ন-৬. সুভার ওষ্ঠাধর ভাবের আভাসমাত্র কেমন করে কেঁপে উঠত?

উত্তর: সুভার ওষ্ঠাধর ভাবের আভাসমাত্র কচি কিশলয়ের মত কেঁপে উঠত।

প্রশ্ন-৭. গোসাইদের ছোট ছেলেটির নাম কী?

উত্তর: গোসাইদের ছোট ছেলেটির নাম প্রতাপ।

প্রশ্ন-৮. সুতার চোখের ভাষা কেমন ছিল?

উত্তর: সুভার চোখের ভাষা অসীম উদার এবং অতলস্পর্শ গভীর ছিল।

প্রশ্ন-৯. সুভার সাক্ষাতে সকলে তার কী সম্পর্কে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত?

উত্তর: সুভার সাক্ষাতে সকলে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে দুশ্চিন্তা প্রকাশ করত।

প্রশ্ন-১০. কী কারণে বাণীকণ্ঠ তার ছােট মেয়েটির নাম সুভাষিণী রাখেন?

উত্তর: বাণীকণ্ঠ তার বড় দুই মেয়ের নামের মিলের অনুরোধে ছোট মেয়েটির নাম সুভাষিনী রাখেন।

প্রশ্ন-১১. প্রতাপ কাদের ছােট ছেলে?

উত্তর: প্রতাপ গোসাইদের ছােট ছেলে।

প্রশ্ন-১২. প্রতাপের প্রধান শখ কী ছিল?

উত্তর: প্রতাপের প্রধান শখ ছিল ছিপ ফেলে মাছ ধরা।

প্রশ্ন-১৩, সুভা মনে মনে কী হতে চাইত?

উত্তর: সুভা মনে মনে অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হতে চাইত।

প্রশ্ন-১৪. ‘কপােল’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘কপােল’ শব্দের অর্থ গল।

প্রশ্ন-১৫. সুভা’ গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কোন গ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে?

উত্তর: ‘সুভা’ গল্পটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গল্পগুচ্ছ’ থেকে সংকলিত হয়েছে।

প্রশ্ন-১৬. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১২৬৮ বঙ্গাব্দে জন্মগ্রহণ করেন।

প্রশ্ন-১৭. রবীন্দ্রনাথ কোন কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ গীতাঞ্জলি’ কাব্যের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।

প্রশ্ন-১৮. কত বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয়?

উত্তর: পনেরাে বছর বয়সে রবীন্দ্রনাথের ‘বনফুল’ কাব্য প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন-১৯. ‘শেষের কবিতা’ কী ধরনের গ্রন্থ?

উত্তর: ‘শেষের কবিতা’ একটি উপন্যাস।




প্রশ্ন-২০, ‘বিচিত্র প্রবন্ধ কার লেখা?

উত্তর: বিচিত্র প্রবন্ধ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা।

প্রশ্ন-২১, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত বঙ্গাব্দে মৃত্যুবরণ করেন?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৩৪৮ বঙ্গাব্দে মৃত্যুবরণ করেন।

প্রশ্ন-২২. কে নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন ও সঙ্গীহীন ছিল?

উত্তর: সুভা নির্জন দ্বিপ্রহরের মতো শব্দহীন ও সঙ্গীহীন ছিল।

প্রশ্ন-২৩. কার মনে সুভা সর্বদাই জাগরুক ছিল?

উত্তর: পিতা-মাতার মনে সুভা সর্বদাই জাগরুক ছিল।

প্রশ্ন-২৪. প্রতাপের জন্য পান সাজিয়ে আনত কে?

উত্তর: প্রতাপের জন্য পান সাজিয়ে আনত সুভা।

প্রশ্ন-২৫. পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভারের মতাে বিরাজ করছে কে?

উত্তর: পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভারের মতাে বিরাজ করছে সুভা।

আরও পড়ুন,

প্রশ্ন-২৬. প্রকৃতির বিবিধ শব্দ এবং বিচিত্র গতি কীসের ভাষা?

উত্তর: প্রকৃতির বিবিধ শব্দ এবং বিচিত্র গতি বােবার ভাষা।

প্রশ্ন-২৭, গােয়ালের গাভি দুটির নাম কী?

উত্তর: গােয়ালের গাভি দুটির নাম সর্বশী ও পাঙ্গুলি।

প্রশ্ন-২৮. সুভা দিনের ভেতরে কয়বার গােয়াল ঘরে যেত?

উত্তর: সুভা দিনের ভেতরে তিনবার গােয়াল ঘরে যেত।

প্রশ্ন-২৯. উন্নত শ্রেণির জীবের মধ্যে সুভার যে সঙ্গী জুটেছিল তার নাম কী?

উত্তর: উন্নত শ্রেণির জীবের মধ্যে সুভার যে সঙ্গী জুটেছিল তার নাম প্রতাপ।




প্রশ্ন-৩০. কে মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত?

উত্তর: সুভা মনে মনে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত।

প্রশ্ন-৩১. প্রতাপকে সাহায্য করতে চাইত কে?

উত্তর: প্রতাপকে সাহায্য করতে চাইত সুভা।

প্রশ্ন-৩২. কোন তিথির প্রকৃতি সুভার মতাে একাকিনী?

উত্তর: পূর্ণিমা তিথির প্রকৃতি সুভার মতাে একাকিনী

প্রশ্ন-৩৩. বাণীকণ্ঠ ফিরে এসে কোথায় যাওয়ার জন্য স্ত্রীকে বলল?

উত্তর: বাণীকণ্ঠ ফিরে এসে কলকাতায় যাওয়ার জন্য স্ত্রীকে বলল।

প্রশ্ন-৩৪. কলকাতায় যাওয়ার প্রাক্কালে কোন তিথির রাত্রি ছিল?

উত্তর: কলকাতায় যাওয়ার প্রাক্কালে শুক্লা দ্বাদশীর রাত্রি ছিল।

প্রশ্ন-৩৫. মর্মবিদ্ধ হরিণী কার দিকে তাকায়?

উত্তর: মর্মবিদ্ধ হরিণী ব্যাধের দিকে তাকায়।

প্রশ্ন-৩৬, সুভার কয়টি বােন ছিল?

উত্তর: সুভার দুটি বােন ছিল।

প্রশ্ন-৩৭. ‘সুভা’ গল্পে সুভাকে ‘সুভি’ বলা হয়েছে কত বার?

উত্তর: সুভা’ গল্পে সুভাকে ‘সুভি’ বলা হয়েছে একবার।

প্রশ্ন-৩৮. সুভা কী ধরনের প্রতিবন্ধী?

উত্তর: সুভা বাকপ্রতিবন্ধী।

প্রশ্ন-৩৯. বাণীকন্ঠের ঘর কোথায়?

উত্তর: বাণীকন্ঠের ঘর নদীর একেবারে উপরেই।

প্রশ্ন-৪০. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কত সালে নােবেল পুরস্কার লাভ করেন?

উত্তর: রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯১৩ সালে নােবেল পুরস্কার লাভ করেন ।

প্রশ্ন-৪১. অবসর সময়ে সুভা কোথায় গিয়ে বসত?

উত্তর: অবসর সময়ে সুভা নদীতীরে গিয়ে বসত।

প্রশ্ন-৪২. ‘কিশলয়’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: ‘কিশলয়’ শব্দের অর্থ গাছের নতুন পাতা।

প্রশ্ন-৪৩. ‘শুক্লাদ্বাদশী’ মানে কী?

উত্তর: ‘শুক্লাদ্বাদশী’ মানে শুক্লপক্ষের চাঁদের বারােতম দিন।

প্রশ্ন-৪৪. অনিমেষ’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: অনিমেষ শব্দের অর্থ অপলক।

প্রশ্ন-৪৫. ‘বিজন মূর্তি’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: বিজন মূর্তি শব্দের অর্থ নির্জন অবস্থা।

প্রশ্ন-৪৬. ‘মূক’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: মূক শব্দের অর্থ বধির।

প্রশ্ন-৪৭. ‘নেত্রপল্লব’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর: নেত্রপল্লব শব্দের অর্থ চোখের পাতা।

প্রশ্ন-৪৮. কে সুভাকে নিজের একটা ত্রুটি স্বরূপ দেখতেন?

উত্তর; সুভার মা সুতাকে নিজের একটা ত্রুটিম্বরূপ দেখতেন ।

প্রশ্ন-৪৯. প্রকৃতি কার ভাষার অভাব পূর্ণ করে দেয়?

উত্তর: প্রকৃতি সুভার ভাষার অভাব পূরণ করে দেয়।

 



অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

 

প্রশ্ন-১. ‘পিতা-মাতার নীরব হৃদয়ভার’ – কথাটি দ্বারা লেখক কী বােঝাতে চেয়েছেন?

উত্তর: প্রতিবন্ধী কন্যা সভার বিয়ে না হওয়ায় সে তার পিতামাতার নীরব হৃদয়-ভার, অর্থাৎ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুভার বড়াে দুই বােনের বিয়ে হয়ে গেলেও তার বিয়ে হচ্ছে না। কারণ সুভা বাক প্রতিবন্ধী।

কন্যাদায়গ্রস্ত পিতা মাতা তাই চিন্তিত হয়ে পড়েন। প্রতিবন্ধী মেয়েকে কেমন করে বিয়ে দেবেন এই দুর্ভাবনা তাদের হৃদয়ে পাথরের মতাে চেপে বসে।

 

প্রশ্ন-২. সুভার সঙ্গে সাধারণ বালক-বালিকারা খেলা করত না কেন?

উত্তর: বাক্যহীন বোবা সুভার চোখের ভাষা ও মনোভাব বুঝতে পারত না বলে সাধারণ বালক বালিকারা সুভার সঙ্গে খেলা করত না। বাকপ্রতিবন্ধী সুভার মুখে ভাব বৈ অন্য কোনাে ভাষা ছিল না। তাই তার চোখের ভাষা ছিল উদার ও অতলস্পর্শ গভীর। 

বাক্যহীন সুভার মধ্যে বৃহৎ প্রকৃতির মতাে একটা বিজন মহত্ব বর্তমান ছিল। সাধারণ ছেলেমেয়েরা সুঙ্গার চোখের সেই ভাষা ও মনের ভাব বুঝতে পারত না। সে কারণে তারা সুজাকে এক প্রকার ভয় পেত | আর সেইজন্য তারা সুতার সঙ্গে খেলা করত না।

 

প্রশ্ন-৩. মাতা পুত্র অপেক্ষা কন্যাকে নিজের অংশরূপে দেখেন কেন?

উত্তর: কন্যার কোনো অপূর্ণতা দেখলে সেটা নিজের ত্রুটি ও লজ্জার কারণ মনে করে মাতা পুত্র অপেক্ষা কন্যাকে নিজের অংশরূপে দেখেন।

সুভা বােবা হয়েই জন্মগ্রহণ করেছে। মাতা তাকে নিজের গর্ভের কলক জ্ঞান করতেন। তাকে নিজের একটা ত্রুটি স্বরূপ দেখতেন এবং এটাকে নিজের লজ্জার কারণ বলে মনে করতেন। কন্যার এই অসম্পূর্ণ দিকের জন্য মাতা নিজেকে দায়ী মনে করতেন বলে পুত্র অপেক্ষা কন্যাকে নিজের অংশরূপে দেখেন।




প্রশ্ন-৪, সুভার মা সুভাকে নিজের ত্রুটিম্বরূপ দেখতেন কেন?

উত্তর: সুভা বোবা বলে সুভার মা সুভাকে নিজের বুটিদ্বরূপ দেখতেন।

মায়েরা পুত্র অপেক্ষা কন্যাকে নিজের অংশরূপে দেখেন। কন্যার কোনাে অসম্পূর্ণ দেখলে সেটা যেন বিশেষরূপে নিজের লজ্জার কারণ বলে মনে করেন। সুভার মা সুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক হিসেবে জ্ঞান করেন। তাই সুভা যেন তার মায়ের ত্রুটি স্বরূপই দেখতেন।

 

প্রশ্ন- ৫, “সে ভাষাবিশিষ্ট জীব”- কার সম্পর্কে কোন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে?

উত্তর: “সে ভাষাবিশিষ্ট জীব”- কথাটি প্রতাপ সম্পর্কে, তার কথা বলার যোগ্যতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে।

সুভা’ গল্পে বাক প্রতিবন্ধী সুভা কল্পনায় অন্যদের সাথে সম্পর্ক গড়ে তােলে । পশু, পাখি তথা অবলা প্রাণীদের সাথেই তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। এর বাইরে শুধু প্রতাপের সাথে তার ভালো লাগার সম্পর্ক আছে। কিন্তু প্রতাপ সুভার অন্য সঙ্গীদের চাইতে আলাদা। কেননা সে কথা বলতে পারে। প্রতাপের এই বিশেষ দিকটির প্রতি ইঙ্গিত করেই আলােচ্য উক্তিটি বন্যা হয়েছে।

 

প্রশ্ন- ৬. ‘কিন্তু তাহার পদশব্দ তাহারা চিনিত’ বাক্যটির প্রাসঙ্গিকতা ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর: সুভা বােবা হলেও গােয়ালের গাভি দুটি তার পায়ের শব্দে তার আগমন বুঝতে পারে । আলােচ্য উক্তিটি দ্বারা এ বিষয়টিকে বােঝানো হয়েছে।

‘সুভা’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র সুভা জন্ম থেকেই বােবা। সে কথা বলতে না পারলেও অনেকেই তার মনের ভাষা বিভিন্ন উপায়ে বুঝতে পারে। এমন দুটি প্রাণী হচ্ছে সুভাদের গােয়ালের দুটি গাভি । গাড়ি দুটি সুভার মনের সমস্ত ভাষাই বুঝতে পারে। তারা সুতার পায়ের শব্দ শুনেই বুঝে নিত যে সুভা আসছে। কারণ তাদের কাছে সুভার পায়ের শব্দ ছিল অতি পরিচিত। আলােচ্য উক্তিটি দ্বারা এ বিষয়টিকেই বােঝানো হয়েছে।




প্রশ্ন- ৭. ঘরে কঠিন কথা শুনে সুভা গােয়াল ঘরে যেত কেন?

উত্তর: বন্ধুস্বরুপ গাভি দুটির কাছ থেকে সান্ত্বনা লাভের জন্য ঘরে কঠিন কথা শুনলে সুভা গােয়ালঘরে যেত কোনাে ভসনা বা কঠিন কথা শােনার পর সুভা গােয়াল ঘরে ঢুকে তার মুখ বন্ধুদুটির কাছে আসত। 

সুভার সহিষ্ণুতা পরিপূর্ণ বিষাদ-শান্ত দৃষ্টিপাত থেকে গােয়ালের এই দুটি গাভি কী একটা অন্ধ অনুমান শক্তির দ্বারা সুভার মর্মবেদনা যেন বুঝতে পারত এবং তারা সুভার গা ঘেঁষে তার বাহুতে অল্প করে শিং ঘষে তাকে নির্বাক ব্যাকুলতার সাথে সান্ত্বনা দিতে চেষ্টা করত। এর ফলে সুভার মনের বেদনা কিছুটা হলেও প্রশমিত হতাে।

 

প্রশ্ন- ৮. প্রতাপ কেমন প্রকৃতির মানুষ ছিল? ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর: প্রতাপ ছিল নিতান্তই ভবঘুরে ও উদাসীন প্রকৃতির মানুষ। প্রতাপ ছিল অকর্মণ্য একজন লােক। মা-বাবা বহু চেষ্টা করেও প্রতাপের মাধ্যমে সংসারের উন্নয়নমূলক কোনাে কাজ করাতে পারেনি। ফলে বাবা-মা প্রতাপের আশা ছেড়ে দিয়েছেন। এই সব লোকেরা যেমন অনেকেরই বিরক্তির কারণ হয়ে ওঠে তেমনি প্রয়ােজনের সময় হয়ে ওঠে প্রিয়পাত্র। প্রতাপও সবার কাছে এমন ছিল ।

 

প্রশ্ন- ৯. অকর্মণ্য লােকেরা কীভাবে নিঃসম্পর্ক মানুষের প্রিয়পাত্র হয়? ব্যাখ্যা করাে।

উত্তর: অকর্মণ্য লোকের নিঃস্বার্থভাবে নিঃসম্পর্ক মানুষদের নানা উপকারে আসে বলে তারা প্রায়ই মানুষের প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে।

অকর্মণ্য লােকেরা কোনাে কাজে আসে না বলে আত্মীয়রা তাদের ওপর বিরক্ত থাকে। কিন্তু অনেক সময় নিঃসম্পর্ক মানুষের কাছে এই অকর্মণ্য লােকেরা প্রিয়পাত্র হয়ে ওঠে। কারণ, তারা কোনাে কাজ না করায় সবসময় তাদের হাতে অনেক সময় থাকে। ফলে কাজে-কর্মে, আমাদে-অবসরে যেখানে একটা লােক কম পড়ে সেখানেই তাদের হাতের কাছে পাওয়া যায় যেন।

 

প্রশ্ন-১০.সুভা কেন মনে মনে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত?

উত্তর: প্রতাপকে অভিভূত করার জন্য সুভা মনে মনে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত।

সুভা মনে মনে প্রতাপকে ভালােবাসত। তাই প্রতাপ যখন নদীর তীরে বসে মাছ ধরত তখন সুভা তার পাশে বসে ভাবত সে যদি প্রতাপের কোনাে কাজে বা সাহায্যে আসতে পারত। কিন্তু তার কিছুই করার ছিল ।তাই সে বিধাতার কাছে অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত হঠাৎ মন্ত্রবলে সে এমন একটা আশ্চর্য কাণ্ড ঘটিয়ে দিতে পারে যা দেখে প্রতাপ অভিভূত হয়। বস্তুত প্রতাপের মন জয় করার জন্যই সুভা অলৌকিক ক্ষমতা প্রার্থনা করত।




প্রশ্ন-১১. পূর্ণিমা প্রকৃতি কেন সুভার মতাে একাকিনী?

উত্তর: পূর্ণিমা সৌন্দর্যময়ী কিন্তু শব্দময়ী নয়। তাই গভীর পূর্ণিমা রাতে একেকদিন সুভা যখন শয্যা গৃহের বাইরে এসে দাঁড়ায় তখন পূর্ণিমা প্রকৃতির ও তার মতাে একাকিনী দেখে । যেন ঘুমন্ত জগতের উপর জেগে বসে যৌবনের রহস্যে পুলকে বিষাদে অসীম নির্জনতার একেবারে শেষ সীমা পর্যন্ত, এমন কি তা অতিক্রম করেও থমথম করছে, একটি কথাও বলছে না। প্রকৃতির এই নিস্তব্ধ ব্যাকুলতা যেন সুভার মতােই নিঃসঙ্গ।

 

প্রশ্ন-১২. কলকাতা যাবার আগের দিন সুভা বাল্য সখীদের নিকট থেকে কীভাবে বিদায় নিয়েছিল? বুঝিয়ে লেখাে।

উত্তর: অশ্রুসজল চোখে সুভা কলকাতা যাবার আগে বাল্য সখীদের কাছ থেকে বিদায় নিয়েছিল।

কলকাতা যাবার আগের দিন সুভা তার বাল্যসখী গাভি দুটির নিকট বিদায় নিতে গিয়ে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েছিল। সুভা গােয়ালঘরে গিয়ে তার বাল্যসখীদের কাছে বিদায় নিতে গিয়ে তাদেরকে নিজের হাতে খাইয়ে দেয়। গলা ধরে একবার দুই চোখে যত পারে কথা ভরে তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। আর তখন বাঁধভাঙা ঝর্ণার মতাে সুভার দুই চোখ থেকে টপটপ করে অশ্রু পড়তে থাকে।

 

প্রশ্ন-১৩. সুভাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার। দ্যোগ নেওয়া হলাে কেন?

উত্তর: গ্রামের মানুষের নিন্দা ও একঘরে হওয়ার ভয়ে বিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে সুভাকে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সভার বয়স ক্রমেই বেড়ে চলছিল। তৎকালীন সমাজে তার বয়সের মেয়েদের বিয়ে না হলে তা নিয়ে নিন্দা করা হতাে। সুভ বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে বিয়ে করতে রাজি হয় না কেউ। ফলে তার পরিবারকে নিয়ে সমালােচনা বাড়তে থাকে। উপরন্তু সুভার বাবা সচ্ছল গৃহস্থ হওয়ায় তার কিছু শত্রুও ছিল। তাদের প্ররােচনায় পরিবারটিকে একঘরে করা হবে বলেও গুজব ছড়ায়। এ কারণেই সুভাকে বিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে কলকাতায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ গৃহীত হয় ।





প্রশ্ন-১৪. সুভা কলকাতায় যেতে চায় না কেন?

উত্তর: পরিচিত পরিবেশের প্রতি প্রবল মায়া অনুভব করায় সুভা কলকাতায় যেতে চায় না।

বাকপ্রতিবন্ধী সুভার মাঝে তার বাড়ির প্রতি রয়েছে গভীর মমত্ববােধ। বাড়ির চারপাশের প্রকৃতির সাথে সে করে নিয়েছে মিতালি। বােবা হওয়ার কারণে তার তেমন কোনাে বন্ধু নেই। গােয়ালের দুটি গাভি, ছাগল, বিড়ালশাক আর মানবসমাজের অন্তর্ভুক্ত প্রতাপ তার নিত্য সহচর। এদেরকে ছেড়ে কলকাতার অনিশ্চয়তাভরা জীবনকে মেনে নিতে সায় দেয় না সুর মন।

 

প্রশ্ন-১৫. মেয়েকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে বাণীকণ্ঠের কপোলে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল কেন?

উত্তর: মেয়ের প্রতি অসীম ভালােবাসার জন্য তাকে সান্ত্বনা দিতে বাণীকণ্ঠের কপালে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল।

বাকপ্রতিবন্ধী সুভাকে সমাজের কেউ ভালােবাসে না। এমনকি মা-ও তার ওপর এতটাই বিরক্ত যে তিনি সুভাকে নিজের গর্ভের কলঙ্ক মনে করেন। কিন্তু সুভার বাবা বাণীকণ্ঠ তাকে অন্য মেয়েদের তুলনায় বেশি স্নেহ করেন। তিনি বুঝতে পারেন নিজের বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় যেতে সুভার অনেক কষ্ট হবে। মেয়ের বেদনায় নিজেও জর্জরিত হয়েছিলেন বলেই। তাকে সান্তনা দিতে গিয়ে বাণীকণ্ঠের কপােল বেয়ে অশ্রু ঝরল ।

 

প্রশ্ন-১৬. বিদেশ যাওয়ার প্রাক্কালে সুভার মনের অবস্থা কেমন ছিল?

উত্তর: বিদেশে যাওয়ার প্রাক্কালে অজানা আশঙ্কায় সুভার মন আচ্ছন্ন ছিল।

বিদেশ যাওয়ার সময় কুয়াশা-ঢাকা প্রভাতের মতাে সুভার সমস্ত হৃদয় অশ্রুবাষ্প ভরে যায়। একটা অনির্দিষ্ট আশঙ্কায় সে কিছুদিন থেকেই ক্রমাগত নির্বাক জন্তুর মতাে তার বাবা-মায়ের সঙ্গে সঙ্গেই থাকত। ডাগর চক্ষু মেলে তাদের মুখের দিকে তাকিয়ে কিছু একটা বোঝার চেষ্টা করত। কিন্তু তারা তাকে কিছুই বুঝিয়ে বলত না। ফলে একটা ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সুভার মন সর্বদা ঘুরপাক খেত।

 

প্রশ্ন-১৭. ‘দেখিস আমাদের ভুলিস নে।’- প্রতাপ কেন বলেছিল?

উত্তর: বিয়ে হয়ে গেলে সুভা যেন তাকে না ভুলে যায় প্রতাপ ঠাট্টাচ্ছলে সে কথাটিই বলেছিল।

একদিন বিকেলে নদীর তীরে বসে মাছ ধরার সময় প্রতাপ সুভার উদ্দেশ্যে প্রশ্নে উল্লিখিত উক্তিটি করেছিল। সুভার বিয়ের খবর শুনে প্রতাপ হেসে হেসে সুভাকে বলেছিল বিয়ের পর সুভ যেন সবাইকে ভুলে না যায়। বস্তুত প্রতাপ এ উক্তির মধ্য দিয়ে সুভাকে।বােঝাতে চেয়েছে, সে সুভার শুভাকাঙ্ক্ষী।

 

প্রশ্ন-১৮. শুক্লা দ্বাদশীর রাতে সুভা শয়নগৃহ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল কেন?

উত্তর: চির পরিচিত প্রকৃতিকে শেষবারের মতো আলিঙ্গন করার জন্য শুক্লা দ্বাদশীর রাতে সুভা শয়নগৃহ থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল ।

শৈশবের স্মৃতি বিজড়িত মায়াময় চির পরিচিত পরিবেশ ছেড়ে সুভা কিছুতেই অজানায় পাড়ি জমাতে চায় না। তাই শেষবারের মতাে প্রিয় প্রকৃতির সান্নিধ্যে আসতেই শুক্লা দ্বাদশীর রাতে শয়নগৃহ থেকে বেরিয়ে সুভ লুটিয়ে পড়েছিল ঘাসের বুকে । যেন ধরণীকে, এই প্রকাণ্ড মূক মানবতাকে দুই বাহুতে ধরে সুভা বলতে চেয়েছে, তাকে যেন ত্যাগ না করে। প্রকৃতির প্রতি অগাধ মমত্ববােধই সুভাকে শুক্লা দ্বাদশীর রাতে শয়নগৃহ থেকে বের করে এনেছিল ।

Leave a Comment