অষ্টম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্রের “ভাব ও কাজ” প্রবন্ধের ব্যাখা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

ভাব ও কাজ লেখক সম্পর্কিত তথ্যঃ-

জন্ম পরিচয়ঃ 

কাজী নজরুল ইসলাম ১৮৯৯ সালের ২৫ মে , ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৩০৬ বঙ্গাব্দে বর্ধমান জেলার আসানসােল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন ।

সাহিত্য সাধনাঃ

দশম শ্রেণীর ছাত্র থাকাকালে প্রথম মহাযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্কুল ছেড়ে বাঙালি পল্টনে যােগদান করেন। ১৯১৯ সালে বাঙালি পল্টন ভেঙ্গে দেওয়া হয়। এ সময় কলকাতায় ফিরে তিনি সাহিত্যচর্চায় আত্মনিয়ােগ করেন। তাঁর ‘বিদ্রোহী’ কবিতাটি সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

উল্লেখযােগ্য রচনাঃ

অগ্নিবীণা , বিষের বাঁশি, সাম্যবাদী, সর্বহারা, সিন্ধু হিলেণ্ডাল, চক্রবাক, রিক্তের বেদন ইত্যাদি।

পুরস্কার ও সম্মাননাঃ

বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে কবিকে ঢাকায় এনে বাংলাদেশের নাগরিকত্ব প্রদান করা হয়।

উপাধি ও বিশেষ পরিচিতিঃ

তাঁর কবিতায় পরাধীনতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ উচ্চারিত হয়েছে। এজন্য তাঁকে বিদ্রোহী কবি বলা হয়।তিনি আমাদের জাতীয় কবি। তাঁর রচনাবলি অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি কবিতায় আরবি-ফারসি শব্দের ব্যবহারে কুশলতা দেখিয়েছেন।

জীবনাবসানঃ

কাজী নজরুল ইসলাম মাত্র ৪৩ বছর বয়সে কঠিন দুরারােগ্য রােগে আক্রান্ত হন। অবশেষে ১৯৭৬ সালের ২৯ আগষ্ট , ১২ই ভাদ্র, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে ঢাকায় মৃত্যুবরন করেন।

 

ভাব ও কাজ পাঠ বিশ্লেষনঃ-

↪ ভাব ও কাজের সম্বন্ধ কাছের মনে হলেও এ দুটোর মধ্যে – আসমান জমিন তফাৎ।

↪ আমাদের আশা ভরসার স্থল – যুবকগন।

↪ ভাবকে বাস্তব রূপ দেয় – কাজ ।

↪ মানুষকে শুধু কথায় মাতিয়ে মশগুল করে রাখাটা হচ্ছে – বদ-খেয়াল ।

↪ ভাবকে যথাসময়ে কাজে লাগাতে না পারলে সে ভাবাবেশ – কপুরের মতাে বাতাসে মিলিয়ে যায় ।

↪ মানুষের সুক্ষ্ম অনুভুতি বা ভাবকে জাগিয়ে তুলতে হবে – মানবকল্যাণের জন্য ।

↪ ভাব হলাে – মানুষের সুক্ষ্ম অনুভুতি।

↪ ঢােল , কাঁসি বাজিয়ে ভাঙানাে যায় – কুম্ভকর্ণের ঘুম।

↪ কাউকে ঘুম থেকে উঠানাে যায় না যদি সে – জেগে ঘুমায়।

↪ দেশকে উন্নতির দিকে , যুক্তির দিকে নিতে পারে – ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ।

↪ ‘স্পিরিট বা আত্মার শক্তিকে অন্যের প্ররােচনায় নষ্ট করা – মহাপাপ।

↪ মহৎ কিছু অর্জন করা যায় না – শুধু ভাব দিয়ে

↪ মহৎ কিছু অর্জন করার জন্য দরকার – কর্মশক্তি ও সঠিক উদ্যোগ।

↪ যেকোনাে ভালাে উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে – যথাযথ পরিকল্পনা ও কাজের স্পৃহার অভাবে।

↪ মানুষকে জাগিয়ে/মাতিয়ে তােলা যায় – ভাবের মাধ্যমে।

↪ ভাব ও কাজের মধ্যে রয়েছে – বিস্তর পার্থক্য।




↪ মানুষকে উদ্ভুদ্ধ করার জন্য প্রয়ােজন – ভাবের।

↪ ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে বলা হয়েছে – দেশের উন্নতি ও মানুষের কল্যাণের কথা।

↪  দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দরকার – বাস্তবধর্মী কর্মে তৎপর হওয়া।

↪ ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধটি অনুপ্রানিত করে – মহৎ কাজে।

↪ লেখক ভাবকে তুলনা করেছেন – পুষ্পহীন সৌরভের সাথে ।

↪ দেশকে উন্নতি ও মুক্তির দিকে এগিয়ে নেবে – ব্যক্তি স্বাক্স।

↪ ভাবকে কাজের দাস হিসেবে নিয়ােগ করতে না পারলে – ভাবের কোনাে সার্থকতা থাকে না।

↪ দেশ,ধর্ম ও মনুষ্যত্বের পতন ঘটবে – কেবল ভাবকে প্রাধান্য দিলে ।

↪ ভাবকে রূপ দেয় – কাজ।

↪ যিনি ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারনকে নাচাবেন তাঁকে হতে হবে – নিঃস্বার্থ ত্যাগী ঋষি।

↪ মানুষকে কজায় এনে কাজ আদায়ের জন্য – কোমল জায়গায় ছোঁয়া দেয়া আবশ্যক।

↪ ঋষির বৈশিষ্ট্য হলাে – নিঃস্বার্থ ও ত্যাগী হওয়া।

↪ ‘গরমাগরম কার্যসিদ্ধি বলতে – ভাববাদয়ের পর তাৎক্ষনিক কর্মসম্পাদনকে বুঝায় ।

↪ স্পিরিটকে মুখ ভ্যঙচানাে বলতে – অযাচিতভাবে আত্মার শক্তি নষ্ট হওয়াকে বােঝায়।

↪ লেখক পান করতে বলেছেন – ভাবের সুর।

↪ মানুষের ভাবাবেশ ও কল্পনাশক্তি বাস্তবিকরূপ পায় না – কর্মশক্তি ছাড়া।

↪ কর্মে শক্তি আনার জন্য – ভাব সাধনা করতে হবে।

↪ কর্ম মানুষের আত্মশক্তিকে বৃদ্ধি করে – আত্মােপ্রনােদনার মাধ্যমে।

↪ মানুষকে মুক্তির দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় – ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ।

↪ যথাযথ পরিকল্পনা ও কাজের স্পৃহার অভাবে – ভালাে উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যায় ।

↪ লেখক নিষেধ করেছেন – ভাবের দাস হতে।

↪ ভাব সাধনা বলতে – ভাবের মাধ্যমে আত্মা ও কর্মে শক্তি আনার দিককে বােঝানাে হয়েছে।

↪ লেখক তরুনদের – দেশের প্রাণশক্তি বলেছেন।

↪ স্পিরিটের কুব্যবহার বলতে – ধবংশাত্মক কাজে মানুষের অন্তর্নিহিত শক্তির ব্যবহারকে বােঝানাে হয়েছে ।

↪ মানুষের কল্যানের জন্য ভাবের সংগে প্রয়োজন – কাজের।

↪ লেখক ভাবকে তুলনা করেছেন – ‘পুষ্পহীন সৌরভের সাথে।

↪ পুয়াল অর্থ – খড়।

↪ ভাবু ও কাজ কি ধরনের চরনা – একটি নিবন্ধ ।

↪ ভাব ও কাজ নিবন্ধে – স্পিরিট বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তােলার কথা বলা হয়েছে ।

↪ যারা না বুঝে পিছন ধরে চলে তাদেরকে – ভেড়া বলা হয়েছে।

↪ ভাবের সার্থকতা মিলবে – ভাবকে কাজের দাস বানালে।

↪ সুবর্ন অর্থ – সােনা।

↪ দেশকে উন্নতি ও মুক্তির দিকে এগিয়ে নেবে – ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য।

↪ মশগুল অর্থ – মগ্ন।

↪ খারাপ চিন্তা বা খারাপ আচরনকে বলে – বদখেয়াল।

↪ দাদ শব্দের অর্থ – প্রতিশােধ ।

↪ বৃক্ষরস থেকে তৈরী যা বাতাসের সংস্পর্শে ক্ষয়প্রাপ্ত হয় তাকে বলে – কপুর ।

↪ শাম্রজ তপস্বীকে বলে – ঋষি ।

↪ রামায়ণে বর্ণিত রাবণের ছােট ভাইয়ের নাম – কুম্ভকর্ণ ।

↪  কুকর্ণ এক নাগাড়ে ঘুমাতাে – ৬ মাস।

↪ বহুলােকের ষড়যন্ত্রে অসম্ভবকে সম্ভব করাকে বলে – দশচক্রে ভগবান ভুত।

↪ কাভাকান্ড শব্দের অর্থ – ন্যায় অন্যায় , ভালােমন্দ।

↪ উনূমাে ষাঁড় বলতে বােঝায় – বন্ধনমুক্ত যাঁড়।

↪ ভাব ও কাজ প্রবন্ধের উদ্দেশ্য – মহৎ কাজের অনুপ্রেরনা সৃষ্টি।

↪ ভাব ও কাজ প্রবন্ধে আলােচিত হয়েছে – মানবকল্যাণে ভাবের সংগে বাস্তবধর্মী কর্মে তৎপর হওয়া।

↪ কুকর্ণের নিন্দ্রা বলতে বােঝানাে হয়েছে – যে ঘুম সহজে ভাঙ্গে না।



ভাব ও কাজ মূল বক্তব্যঃ

ভাব ও কাজের মধ্যে পার্থক্য অনেক। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য ভাবের গুরুত্ব অপরীসীম। কিন্তু শুধু ভাব দিয়ে মহৎ অর্জন কর যায় না। তার জন্য কর্মশক্তি ও সঠিক উদ্যোগের দরকার হয় । ভাবের দ্বারা মানুষকে জাগিয়ে তােলা যায় কিন্তু যথাযথ পরিকল্পন ও কাজের স্পৃহা ছাড়া যেকোনাে ভালাে উদ্যোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ রচনাটিতে লেখক দেশের উন্নতি , মুক্তি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য ভাবের সংগে বাস্তবধর্মী কর্মে তৎপর হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন) এ প্রবন্ধে লেখক আমাদের মহৎ কাজের জনে অনুপ্রানিত করেছেন। তিনি পরিষ্কারভাবে বলতে চেয়েছেন শুধু ভাবের উচ্ছাসে উদ্বেল না হয়ে পরিকল্পিত কর্মশক্তির মাধ্যমে তা কিভাবে বাস্তব রূপদান করা যায় সেটা আগে ভাবতে হবে। শুধু চিন্তা , কল্পনা বা ভাবের দ্বারা কোনাে কিছু অর্জন করা যায় না। বাস্তবতার আসল রূপ হলাে পরিশ্রমের কোনাে বিকল্প নেই। শিক্ষার দ্বারা নিজের সুপ্ত প্রতিভাকে জাগ্রত করে সঠিক কর্ম অনুশীলনের মাধ্যমে বড় হতে হবে। ভাব ও কাজ প্রবন্ধে কাজী নজরুল ইসলাম ভাব ও যথাযথ কাজের সমন্বয়কে সুক্ষ্মভাবে বিশ্লেষন করেছেন।

 

ভাব ও কাজ জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন-০১। লােকের কোমল অনুভূতিতে ঘা দেওয়া কী ?

উত্তরঃ লােকের কোমল ও অনুভূতিতে ঘা দেওয়া পাপ।

প্রশ্ন-০২। ‘পুয়াল’ শব্দের অর্থ কী ?

উত্তরঃ ‘পুয়াল’ শব্দের অর্থ খড় ?

প্রশ্ন-০৩। ‘বিদ্রোহী কবিতাটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে ?

উত্তরঃ ‘বিদ্রোহী কবিতাটি সাপ্তাহিক ‘বিজলী’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন-০৪। কপূর শব্দের অর্থ কী ?

উত্তরঃ কপূর শব্দের অর্থ-বৃক্ষরস থেকে তৈরি গন্ধ দ্রব্যবিশেষ যা বাতাসের সংস্পর্শে অল্প ক্ষণের মধ্যে ক্ষয়প্রাপ্ত হয়।

প্রশ্ন-০৫। ‘ভাব ও কাজ’ রচনাটিতে কাজ কোন জগতের ?

উত্তরঃ ‘ভাব ও কাজ’ রচনাটিতে কাজ বস্তু জগতের ।

প্রশ্ন-০৬। বানভাসি কি?

উত্তরঃ বানভাসি মানে হচ্ছে-বন্যায় ভাসানাে, বন্যায় যা বা যাদের ভাসিয়ে আনে।

প্রশ্ন-০৭। ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধটি কার লেখা ?

উত্তরঃ কাজী নজরুল ইসলাম

প্রশ্ন-০৮। লেখ ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে ভাবাবেশকে কিসের সঙ্গে তুলনা করেছেন ?

উত্তরঃ লেখক ভাবাবেশকে কপূরের সঙ্গে তুলনা করেছেন।

প্রশ্ন-০৯। ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে লেখক ভাবের বাঁশি বাজিয়ে কাকে নাচানাের কথা বলেছেন ?

উত্তরঃ ভাবের বাঁশি বাজিয়ে জনসাধারণকে নাচানাের কথা বলেছেন।

প্রশ্ন-১০। ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে কাকে নিঃস্বার্থ ত্যাগী ঋষি হতে বলা হয়েছে ?

উত্তরঃ ভাবের বাঁশিবাদককে নিঃস্বার্থ ত্যাগী ঋষি হতে বলা হয়েছে।




প্রশ্ন-১১। “স্পিরিট’ কী ?

উত্তরঃ আত্মার শক্তির পবিত্রতা।

প্রশ্ন-১২। ভালাে উদ্যোগ নষ্ট হয় কীভাবে?

উত্তরঃ। যথাযথ পরিকল্পনা ও কাজের স্পৃহার অভাবে।

প্রশ্ন-১৩। ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে লােকদের কিসের ছোঁয়া দিয়ে জাগানাের কথা বলা হয়েছে ?

উত্তরঃ লোকদের সােনার কাঠির ছোঁয়া দিয়ে জাগানাের কথা বলা হয়েছে।

প্রশ্ন-১৪। লেখকের মতে আমাদের আশা-ভরসাস্থল কে?

উত্তরঃলেখকের মতে আমাদের আশা-ভরসাস্থল যুবকগণ।

প্রশ্ন-১৫। কর্মীর অভাবে এদেশে মাঝমাঠে কী মারা যায় ?

উত্তরঃ সুবর্ণ সুযােগ।

প্রশ্ন-১৬। ভাবের আবেগে অতিমাত্রায় বিহ্বল হলে কী হয়?

উত্তরঃ ভালাে-মন্দে জ্ঞান থাকে না।

প্রশ্ন-১৭। দেয়াল ভাঙতে হলে কোথায় শাবল মারতে হবে।

উত্তরঃ দেয়ালের ভিত্তিমূলে।

প্রশ্ন-১৮। ভাব ও কাজ প্রবন্ধে মহাপাপ কী ?

উত্তরঃ অন্যের প্ররােচনায় স্পিরিট বা আত্মার শক্তিকে নষ্ট করা ।




 

ভাব ও কাজ অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তর 

প্রশ্ন-০১। সত্যের সাধনা বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন?

উত্তরঃ সত্যের সাধনা কলতে লেখক দেশের উন্নতি, মুক্তি ও কল্যাণের জন্য ভাবের সঙ্গে বাস্তবধর্মী কর্মে তৎপর হওয়াকে বুঝিয়েছেন।

ভাব মানুষের জাগরণের উপকরণ। মানুষের মনকে জাগিয়ে তুলতে ভাবের প্রয়ােজন। আর সেই মানুষকে তার নিজের পরিবারের, সমাজের, রাষ্ট্রের ও জাতির জন্য যথাযথভাবে গড়ে তুলতে হলে তাকে কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হয়। শুধু ভাব দিয়ে কখনাে কারও উন্নতি হয় না। মানুষ পরাধীনতা থেকে মুক্ত করে উন্নত জীবন-মান নিশ্চিত করতে ভাব ও কাজের সুসমন্বয় সাধন করতে হয়। কারণ কেউ যদি তার আত্মস্বার্থে সাধারণ মানুষকে জাগাতে চায়, তাহ, তারা হয়তাে জাগে, কিন্তু বৃহতের কল্যাণ সাধিত হয় না। মানব কল্যাণে ভাবসহকারে এই কর্মসাধনাকে লেখক সত্যের সাধনা বলেছেন।

 

প্রশ্ন-০২। ‘দশচক্রে ভগবান ভূত’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে ?

উত্তরঃ ‘দশচক্রে ভগবান ভূত’ কথাটির মধ্য দিয়ে বােঝানাে হয়েছে, দশজনের চক্রান্তে সাধুও অসাধু প্রতিপন্ন হতে পারে।

‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে লেখক মানবজীবনে ভাব ও কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেছেন। আমাদের সমাজে এক শ্রেণির মানুষ আছে যারা সত্যিকার দেশকর্মী ও ত্যাগী । কিন্তু সমাজের অসৎ লােকদের জন্য তারা দেশের কোরাে কল্যাণ কর্মে অংশগ্রহণ করেন না। এমনকি তাদের দানকে অসৎ লােকেরা নিজের কাজে ব্যবহার করে। যারা সত্যিকার দেশকর্মী তারা এসব অসৎ লােকদের মিথ্যাবাদী ও দোষী প্রমাণ করে দেয়। সহজ-সরল সাধারণ মানুষরা এসব বুঝতে না পেরে মহষ্প্রাণ মানুষদেরই ভুল বােঝে। বহু অসৎ লােকের ষড়যন্ত্রে সৎ অসতে পরিণত হয়। এ কথাটি আলােচ্য চরণের মধ্য দিয়ে লেখক বােঝাতে চেয়েছেন ।

 

প্রশ্ন ৩। ভাবকে ‘অবাস্তব উচ্ছ্বাস’ বলা হয়েছে কেন?

উত্তরঃ মনের কল্পনা থেকে সাময়িক উত্তেজনা প্রকাশ করে বলেই ভাবকে অবাস্তব উচ্ছ্বাস বলা হয়েছে ।

মানুষের মন স্বভাবতই কল্পনাপ্রবণ ও স্বপ্নবিলাসী। এই কল্পনা মানুষের মধ্যে সাময়িক একটি প্রণােদনা সৃষ্টি করে। লেখক এই প্রণােদনাকেই বলেছেন ভাব; যা পরিপূর্ণ হয় কাজের মাধ্যমে।কাজহীন ভাবের কোনাে বাস্তবিক স্থান নেই। সে কারনে লেখক একে অবাস্তব উচ্ছাস বলেছেন।

 

প্রশ্ন ৪। কল্পনার জগতে হাবু ডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়ােগ করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক – মন্তব্যটি “ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধের আলােকে মূল্যায়ন কর।

উত্তরঃ- কাজী নজরুল ইসলাম ‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে ভাব ও কাজের পারস্পারিক সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। 

মানুষকে উদ্বুদ্ধ করার ক্ষেত্রে ভাবের গুরুত্ব অপিরসীম। কিন্তু কেবল ভাবাবেগকে সম্বল করে জীবনে উন্নতি করা যায় না । লেখক তাই ভাবাবেগকে নিয়ন্ত্রনে রেখে কর্মে তৎপর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। মানুষের কল্পলােক ও বাস্তবজীবনের মধ্যে ব্যাপক ব্যবধান রয়েছে। কল্পনার জগতে মানুষ নিজেকে নানারুপে সাজিয়ে তুলতে পারে। কিন্তু বাস্তবে তা হতে গেলে পরিশ্রম করা ছাড়া ভিন্ন কোনাে উপায় নেই। কেবল কল্পনার জগতে বিচরন করলে জীবনের আসল উদ্দেশ্য অর্জিত হয় না। কর্মের গুনেই জীবন মহীয়ান হয়। 

তাই ‘কল্পনার জগতে হাবু ডুবু না খেয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়ােগ করাই মনুষ্যত্বের পরিচায়ক’ – মন্তব্যটি যথার্থ ।

 

প্রশ্ন ৫। ‘দশচক্রে ভগবান ভূত’ বলতে লেখক কি বুঝিয়েছেন?

উত্তরঃ দশজনের চক্রান্তে সাধু ব্যক্তিও অসাধু প্রতিপন্ন হতে পারে, বােঝাতে প্রাবন্ধিক উক্ত প্রবাদটির ব্যবহার করেছেন।

সমাজের মানুষ অনেক ক্ষেত্রে হুজুগের বশে অনেক সিদ্ধান্ত নেয়। নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির কারণে কোনাে একটি ব্যক্তিসমষ্টি সাধু ব্যক্তিকেও অসাধু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চায় । মানুষের হুজুগে স্বভাবের সুযােগ নিয়ে সবাই মিলে অপপ্রচার চালিয়ে সেটিকে তারা বাস্তবরূপও দেয়। বহুলােকের ষড়যন্ত্রে অসম্ভবও সম্ভবও হয়- এটিই আলােচ্য উক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে ।



 

প্রশ্ন ৬। ভাবের দাস না হয়ে, লেখক ভাবকে দাস করে নিতে বলেছেন কেন ?

উত্তরঃ জীবনে ভাবের দরকার থাকলেও, অতিরিক্ত ভাবের বশবর্তী হয়ে আত্মনিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেললে কোনাে অর্জন সম্ভব নয়।

মানুষকে যে কোনাে কাজে উদ্বুদ্ধ করতে ভাবের অবশ্যই দরকার আছে। কিন্তু কেবল ভাবের বশবর্তী হয়ে চললে সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। সাফল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ভাবের সাথে সাথে কর্মশক্তি ও সঠিক উদ্যোগেরও দরকার আছে। এ জন্যেই কাজী নজরুল ভাবকে নিজের দাস তথা নিজেকে নিয়ন্ত্রনে রেখে ভাবকে ব্যবহার করতে বলেছেন।

 

প্রশ্ন ৭। ‘ভাবের সুরা পান করাে ভাই, কিন্তু জ্ঞান হারাইও না’ – ব্যাখ্যা কর ।

উত্তরঃ ভাবাবেগকে নিয়ন্ত্রনে রেখে জ্ঞানবুদ্ধির দ্বারা কাজ করার আহ্বান জানানাে হয়েছে আলােচ্য উক্তিটিতে।

জীবনে ভাবের অবশ্যই দরকার আছে। মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে ভাবের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু শুধু ভাব দিয়ে কাজ হয় না । অতি ভাবের স্রোতে ভেসে গেলে কোনাে সাফল্য অর্জন সম্ভব নয়। কাজী নজরুল তাই ভাবকে নিয়ন্ত্রনে রেখে জ্ঞানবুদ্ধি দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ।

 

প্রশ্ন ৮। ‘সােনার কাঠি’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে ?

উত্তরঃ ‘সােনার কাঠি’ বলতে কার্য ক্ষেত্র প্রস্তুত করে মানুষকে জাগিয়ে তােলার স্পর্শকে বােঝানাে হয়েছে।

মানুষকে জাগিয়ে তােলার ক্ষেত্রে ভাবের গুরুত্ব আছে। তবে তা যদি কাজের সঙ্গে গেঁথে দেওয়া না যায় তাহলে মূল্যহীন হয়ে পড়ে। আবার কোনাে কাজের জন্য যে পরিমাণ ভাব প্রয়ােজন তার চেয়ে বেশি হলেও তা বিফলে যায়। এ কারণে কাজের ক্ষেত্র প্রস্তুত না করে ভাবের বিস্তার ঘটানাে উচিত নয়। কারণ ভাব ও কাজের সমন্বয় ঘটাতে না পারলে মানুষের মুক্তি, উন্নতি নিশ্চিত করা যায় না। কাজেই যেমন রূপকথার রাজকন্যাকে জাগানাের জন্য সােনার কাঠির স্পর্শ দেওয়ার আগে তাকে উদ্ধার করার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতি সজাগ থাকা জরুরি। তেমনি ভাব জাগানাের আগে জাগ্রতদের কাজে নিয়ােগের কথা ভাবা উচিত।

 

প্রশ্ন ৯। লেখক ‘স্পিরিট’ বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন কেন ?

উত্তরঃ লেখক কর্মে শক্তি আনার জন্য স্পিরিট বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছে।

‘ভাব ও কাজ’ প্রবন্ধে লেখক দেশের উন্নতি ও মুক্তি এবং মানুষের জোর দিয়েছেন তিনি জগতের সমস্ত কাজের জন্য ভাবের জাগরণ প্রত্যাশা করেছেন। আবার সতর্ক করেছেন, মানুষ যেন ভাবের দাস না হয়ে পড়ে এবং ভাবকে যেন দাস করে নেয়। তিনি ব্যক্তি, দেশ ও স্বজাতির মুক্তি উন্নতির জন্য স্পিরিট বা আত্মার শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে বলেছেন। পরাধীনতার গ্লানিকর জীবন বয়ে বেড়ানাের হীনতাকে গ্রহণ করা জাগরণ নয়। সৎ সংকল্প , মহৎ ত্যাগকে স্থায়ীরূপে বরণ করে নিতে পারলে তবেই তা সম্ভব হবে।

 

প্রশ্ন ১০। “কর্মশক্তি আনিবার জন্য ভাব-সাধনা কর”-বাক্যটি বুঝিয়ে লেখ। 

উত্তরঃ “কর্মশক্তি আনিবার জন্য ভাব-সাধনা কর”-বাক্যটি দ্বারা কর্মশক্তিতে ভাব-সাধনার গুরুত্বের দিকটি বােঝানাে হয়েছে।

মানুষের কর্মশক্তিকে জাগ্রত করার জন্য ভাব-সাধনার গুরুত্ব অনেক। ভাব-সাধনার মাধ্যমেই মানুষের আত্মার উদ্বোধন ঘটানাে সম্ভব। মানুষ তার আত্মার শক্তিকে উপলব্ধি করতে পারলে, পরবর্তীতে মানুষের কর্মের শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। আর এ কারণেই লেখক জীবনে কর্মশক্তিকে জাগ্রত করার জন্য ভাব-সাধনা করতে বলেছেন।

Leave a Comment