(JSC 2021) পড়ে পাওয়া গল্পের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্নের সাথে গল্পের ব্যাখা ও ম্যাজিক টিপস

পড়ে পাওয়া গল্পের উৎসঃ 

‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটি বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বিখ্যাত কিশাের গল্প । এটি ‘নীলগঞ্জের ফালমান সাহেব’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত।

 

পড়ে পাওয়া গল্পের মূলবক্তব্যঃ 

এটি একটি বিখ্যাত কিশাের গল্প। এ গল্পে দুজন কিশাের একটি টাকার বাক্স কুড়িয়ে পায় এবং তারা ও অন্য কিশােররা মিলে সেটি তার প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং অবশেষে তা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম হয়। এ গল্পের কিশােররা কুড়িয়ে পাওয়া অর্থ সম্পদ নিয়ে লােভের পরিচয় দেয়নি। বরং তারা তাদের বয়সের চেয়েও অনেক বেশি দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে। লেখক দেখিয়েছেন, বয়সে ছােট হলে কী হবে তাদের নৈতিক অবস্থানও বেশ দৃঢ় । এই গল্পে কিশােরদের ঐক্যচেতনার যেমন পরিচয় পাওয়া যায় তেমনি তাদের উন্নত মানবিক বােধেরও প্রকাশ ঘটেছে। তাদের চারিত্রিক দৃঢ়তার পাশাপাশি তীক্ষ্ম বিবেচনাবােধও পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। কিশােরদের এমন সততা ,নিষ্ঠা ও কর্তব্যবােধে বয়ােজ্যেষ্ঠরা ও বিস্মিত, অভিভূত। এ গল্পে দেখা যায় কিশােররা যখন ঐক্যবদ্ধ হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তখন তারা তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান ও বিবেচক তাকে মান্য করে তার ওপর আস্থা স্থাপন করে। এটি গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। দরিদ্র অসহায় মানুষের প্রতি ভালােবাসার চিত্র ফুটে উঠেছে এ গল্পে ।

 

পড়ে পাওয়া গল্পের লেখক পরিচিতিঃ

*বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের জন্ম ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে চব্বিশ পরগনা জেলার মুরাতিপুর গ্রামে,মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন । তাঁর পৈত্রিক বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার বারাকপুর গ্রামে। মাতার নাম মৃণালিনী দেবী। পিতা মহানন্দ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পেশা ছিল কথকতা ও পৌরােহিত্য।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের বাল্য ও কৈশােরকাল কেটেছে দারিদ্র্যের মধ্য দিয়ে।

* কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ.পড়াকালে ১৯১৮ সালে তাঁর প্রথম স্ত্রীর মৃত্যু ঘটে।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায় দ্বিতীয় বিবাহ করেন – প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর ২২ বছর পর ।

* ছােটগল্প উপন্যাস দিনলিপি ও ভ্রমনকাহিনী রচনার মধ্য দিয়ে – তিনি জীবনের আনন্দ খুজে পান ।

* প্রকৃতি ও মানবজীবন অখন্ড অবিচ্ছিন্ন সত্তায় সমন্বিত হয়েছে – বিভূতিভূষণের সাহিত্যকর্মে।

* প্রকৃতির অনাবিল সৌন্দর্য ও গ্রামবাংলার সাধারন মানুষের জীবনাচরনের সজীব ও নিখুঁত চিত্র অংকিত হয়েছে – বিভূতিভূষণের সাহিত্যকর্মে ।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের শ্রেষ্ঠ কীর্তি হলাে – পথের পাঁচালী ও অপরাজিত উপন্যাস । এগুলাে বাংলা সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের উল্লেখযােগ্য উপন্যাস – আরণ্যক ও ইছামতি।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের উল্লেখযােগ্য গল্পগ্রন্থ – মেঘমল্লার , মৌরীফুল, ভ্রমণ-দিনলিপি, তৃণাঙ্কুর, স্মৃতির রেখা।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায়ের উলেশ্লখযােগ্য কিশাের উপন্যাস – চাঁদের পাহাড় , মিসমিদের কবচ, হীরামানিক জ্বলে।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধায় ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।

 

পড়ে পাওয়া গল্পের SUPER TIPS:

* বাড়য্যেদের মাঠের বাগান বিখ্যাত – চাঁপাতলীর আমের জন্য ।

* চাঁপাতলীর আম পাকে – কালবৈশীর সময়ে ।

* পড়ে পাওয়া গল্পে ‘দিব্যি’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে – চমক্কার বা আশাতীতভাবে অর্থে।

* দুপুরের চমক্কার রােদ ছিল – গাছপালার মাথার ওপর।

* বালকদের কাছে বৈশাখের ঝড় মানেই – আম কুড়ানাে ।

* বাক্সটি লুকিয়ে রাখা হয়েছিল – বাদলদের বাড়ির বিচুলিগাদায়।

* বিচুলিগাদা অর্থ – ধানের খড়ের স্তুপ ।

* বালকদের দলের সর্দার ছিল – বিধূ।




* সন্ধ্যার অন্ধকারে নদীর ধার দিয়ে বাড়ি ফিরছিল – কথক আর বাদল।

* টাকাপয়সা রাখার বাবাকে পাড়াগাঁয়ে বলে – ডাবল টিনের ক্যাশ বাক্স ।

* অম্বরপুরের কাপালি কথকের বাবার কাছে এসেছিল – চাকরির খোঁজে।

* কাপালি অর্থ – তান্ত্রিক হিন্দু সম্প্রদায়।

* হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠল – কথক ও বাদল।

* বন্যায় নিরাশ্রয় হয়ে গেল – অম্বরপুর চরের কাপালিয়া।

* কাপালি নির্বিষখােলার হাট থেকে পটল বিক্রি করে ফিরছিল – জষ্টি মাসে।

* ডাবল টিনের ক্যাশ বাক্সের ভেতর ছিল – প্রায় আড়াইশ টাকার গহনা ও নগদ পঞ্চাশ টাকা।

* সংশয় শব্দের অর্থ – সন্দেহ

* দেবমন্দিরের সামনের ঘরকে বলা হয় – নাট মন্দির।

* যে বৈষ্ণব হরিনাম সংকীর্তন করে জীবিকা অর্জন করে তাকে বলে – বােষ্টম।

* পত্রপাঠ বিদায় বলতে বােঝায় – তৎক্ষনাৎ বিদায়।

* অপ্রতিভ শব্দের অর্থ – বিব্রত বা লজ্জিত।

** অদেষ্ট শব্দের অর্থ – অদৃষ্ট বা নিয়তি।

* বিকৃত বলতে বােঝায় – প্রকৃত রুপে নয় এমন।

* গুরুত্ব দেওয়া হয়নি এমন – অনাদৃত।

* ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােররা নির্লোভের পরিচয় দিয়েছে – কুড়িয়ে পাওয়া সম্পদের ওপর।

* ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বালকদের পরিচয় পাওয়া যায় – দায়িত্বশীলতায় ।

* পড়ে পাওয়া’ গল্পে প্রকাশ পেয়েছে – উন্নত মানবিকবােধ।

* ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পে পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে – বালকদের তীক্ষ বিবেচনাবােধ।

* বালকদের সততা আর নিষ্ঠা দেখে বয়ােজ্যেষ্ঠরা – বিস্মিত, অভিভূত।

* ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের গুরুত্বপূর্ণ দিক – দলনেতার প্রতি কিশােরদের আনুগত্য ।

* ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােরদের মধ্যে সবচেয়ে বুদ্ধিমান ও বিবেচক – দলনেতা বিধূ।

* দরিদ্র ও অসহায়ের প্রতি ভালােবাসার চিত্র পাওয়া যায় – পড়ে পাওয়া গল্পে।

* ধান মাপার বেতের ঝুড়ি বা পাত্রকে বলা হয় – আড়ি।

* দন্ডবৎ শব্দের অর্থ – মাটিতে পড়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম।

* চন্ডীমন্ডপ অর্থ – যে মন্ডপে বা ছাদযুক্ত চত্বরে দুর্গা,কালী প্রভৃতি দেবীর পুজা করা হয়।

* কুড়ানাে বাক্সকে খোঁজ করতে বলেছিল – রায়বাড়িতে।

* কুড়ানাে বাক্স পাওয়ার জন্য যে চার জনের সাথে যােগাযােগ করতে বলা হলাে – বিধু , সিধু , নিধু, তিনু।

* বিভূতিভূষন বন্দ্যোপাধ্যায় কোন্ ধরনের লেখক হিসেবে সমধিক পরিচিত – নিসর্গের রূপকার।

* বালকদের মধ্যে হাতের লেখা ভালাে ছিল – বাদলের।

* পড়ে গল্পে বড় হয়ে উকিল হবে – বিধু।

* টিনের বাক্সটির রং ছিল – সবুজ।

* নােটিস লিখে কতখানা কাগজ টাঙানাে হয়েছিল – তিনখানা।




 

পড়ে পাওয়া গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন-০১। আকাশে কালাে মেঘের রাশি উড়ে আসতে লাগল কোন দিক থেকে?

উত্তরঃ আকাশে কালাে মেঘের রাশি পশ্চিম দিক থেকে উড়ে আসতে লাগল।

প্রশ্ন-০২। বালকদের মধ্যে কার হাতের লেখা ভালাে ছিল ?

উওরঃ বালকদের মধ্যে বাদলের হাতের লেখা ভালাে ছিল।

প্রশ্ন-০৩। কাপালির হারানাে বাক্সের ভেতর নগদ কত টাকা ছিল?

উক্তরঃ কাপালির হারানাে বান্তের ভেতর নগদ পঞ্চাশ টাকা ছিল।

প্রশ্ন-০৪। পড়ে পাওয়া’কী ধরনের রচনা ?

উওরঃ পড়ে যাওয়া একটি কিশাের গল্প ।

প্রণা-০৫। ‘পত্রপাঠ বিদায়’ কথাটির অর্থ কী ?

উত্তরঃ ‘পত্রপাঠ বিদায়’ কথাটির অর্থ তৎক্ষণাৎ বিদায়।

প্রশ্ন-০৬। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের লেখক কে ?

উত্তরঃ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের লেখক বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রশ্ন-০৭। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় কত সালে জন্মগ্রহণ করেন ?

উওরঃ ১৮৯৪ সালে।

প্রশ্ন-০৮। ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটি কোথা হতে সংকলিত হয়েছে ?

উওরঃ ‘পড়ে পাওয়া’ গল্পটি লগঞ্জের ফালমান সাহেব’ খাড় থেকে সংকলিত।

প্রশ্ন-০৯। লেখক ও তার বন্ধুরা কেথায় গুপ্ত মিটিং করেছিল ?

উত্তরঃ লেখক ও তার বন্ধুরা বাদলদের ভাঙা মন্দিরের কোণে গুপ্ত মিটিং করেছিল।

প্রশ্ন-১০। বিধু, সিধু, নিধু, তিনু আর বাদল-এদের মধ্যে বয়সে বড় কে ?

উত্তরঃ বিধু, বিধু, নিধু, তিনু আর বাদল-এদের মধ্যে বড় হলাে বিধু।




প্রশ্ন-১১। টিনের বাক্সের সাথে কে হোঁচট খেল?

উত্তরঃ টিনের বাক্সের সাথে বাদল হোঁচট খেল ।

প্রশ্ন-১২। কোথায় ভূত আছে বলে সবাই জানে ?

উত্তরঃ তেঁতুলগাছে ভূত আছে বলে সবাই জানে। 

প্রশ্ন-১৩। বাক্সের মালিকের সন্ধান বের করতে কাগজে বিজ্ঞাপন লেখার বুদ্ধি কে দিয়েছিল ?

উত্তরঃ বাক্সের মালিকের সন্ধান বের করতে কাগজে বিজ্ঞাপন লেখার বুদ্ধি দিয়েছিল বিধু।

প্রশ্ন-১৪। কালবােশেখীর ঝড় উঠলে কোথায় ভিড় জমে ওঠে ?

উত্তরঃ কালবােশাখীর ঝড় উঠলে বাড়য্যেদের চাপাতলীর আমগাছের নিচে ভিড় জমে ওঠে।

প্রশ্ন – ১৫। কালবােশাখীর ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল কে ?

উত্তরঃ ‘বিধু’ কালবােশাখী ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছিল ।

প্রশ্ন – ১৬। বাক্সের উপযুক্ত মালিককে কোথায় যােগাযােগ করতে বলা হয়েছিল ?

উত্তরঃ বক্সের উপযুক্ত মালিককে ‘রায় বাড়িতে যােগযােগ করতে বলা হয়েছিল ।

 

পড়ে পাওয়া গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন-০১। অম্বরপুর চরের কাপালিরা সর্বস্বান্ত হয়ে গেলেন কেন ?

উত্তরঃ বন্যার কারণে অম্বরপুর চরের কাপালিরা সর্বান্ত হয়ে গেলেন ।

বন্যার কারণে নদীতে তীব্র স্রোত সৃষ্টি হয়। সেই প্রােতের টানে ভেসে যায় অম্বরপুর চরের কাপালিদের ঘর-বাড়ি, সবজির খেত ও গরু। বন্যায় ঘরবাড়ি ও খেতের সবজি নষ্ট হওয়ায় তারা সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েন। কারণ ওই ভিটে আর সবজি খেতই তাদের সম্বল ছিল । তরকারি বেচেই তারা দু’পয়সা আয় করতেন।

 

প্রশ্ন-০২। “যাও, যাও,যা পার করাে গিয়ে। বাক্স আমরা কুড়িয়ে পাইনি। যাও”-বিধু একথা কেন বলেছিল ?

বাক্সের প্রকৃত মালিক না হয়েও একজন লােক বিধুর কাছে আসে ও তাকে শাসিয়ে যায়। তার জবাব দিতেই বিধু প্রশ্নোক্ত কথাটি বলেছিল।

মানুষ লােভের বশবর্তী হয়ে মিথ্যাকে সত্য বলে প্রতিষ্ঠিত করতেও কুণ্ঠিত হয় না। পড়ে পাওয়া’ গল্পের কিশােররা একটি টিনের বাক্স কুড়িয়ে পেলে তা প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়। এই বিজ্ঞপ্তি পেয়ে বিভিন্ন ধরনের লােক আসে বিধুর কাছে। একজন লােক এসে টিনের বাক্সের দাবি করলেও বর্ণনা না মেলার কারণে বিধু তাক প্ৰত্রপাঠ বিদায় করে দেয়। যাওয়ার সময় সে বিধুকে শাসায়। বিধু তাচ্ছিল্যের সুরে তখন বলে, “যাও , যাও, যা পার করাে গিয়ে। বাক্স আমরা কুড়িয়ে পাইনি। যাও।”




 

প্রশ্ন-০৩। “ওর মতাে কত লােক আসবে”-কথাটি বুঝিয়ে লেখ।

উত্তরঃ পড়ে যাওয়া বাক্সের লােভে পড়ে অনেক লােকই যে বিধুর কাছে আসবে সেটি বােঝাতেই বলা হয়েছে যে, “ওর মতাে কত লােক আসবে।

কুড়িয়ে পাওয়া বাক্সের প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করার জন্য কিশােররা তিনটি কাগজে এ সম্পর্কিত তথ্য লিখে রাস্তায় ভিন্ন ভিন্ন গাছে লাগিয়ে দেয়। এরপর তাদের কাছে বেশ কয়েকজন লোক আসে। কিন্তু কারও কথারই কোনাে মিল তারা খুঁজে পায় না বাক্স সম্পর্কিত তথ্যের সাথে । মূলত লােভে পড়েই তারা এসেছে এবং মিথ্যে কথা বলেছে। তাই এ সম্পর্কে বিধু আলােচ্য কথাটি বলেছে।

 

প্রশ্ন-০৪। এখন জলে নামব না’- কথাটির প্রাসঙ্গিকতা বর্ণনা কর।

উত্তরঃ কালবৈশাখী ঝড় উঠবে তাই লেখক ও তার বন্ধুরা জলে নামবে না ।

কালবৈশাখী ঝড়ে আম কুড়ানাে গ্রামে উৎসবের মতাে। পড়ে পাওয়া’ গল্পে কয়েকজন কিশাের মিলে নদীতে স্নান করতে গেছে। সেখানে গিয়ে বুঝতে পেরেছে ঝড় উঠবে। ঝড় উঠলে আম কুড়াতে হবে। তাই তারা আর জলে নামবে না।

 

প্রশ্ন-০৫। দুজনেই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম’-বলতে লেখক কী বােঝাতে চেয়েছেন ?

উত্তরঃ ‘দুজনেই হঠাৎ ধার্মিক হয়ে উঠলাম’-কথাটি দ্বারা কিশােরদের সৎ ও নির্লোভ মানসিকতা বােঝানাে হয়েছে।

‘পড়ে পাওয়া’ গল্পের বাদল ও গল্প কথক একটি টিনের বা কুড়িয়ে পায়। বাটার মধ্যে দামি কিছু আছে বলে তাদের ধারণা। তাই তারা ঐ বাক্সটি ভাঙতে চায় । কিন্তু হঠাৎ তাদের মনে আসে-‘না, বাক্সটি ভাঙা ঠিক হবে না। কারণ এ বাক্সের মালিক তাে তারা নয়। যে লােকের বাক্সটি সে হয়তাে কােন চিন্তায় রাতে ঘুমাতে পারবে না।’ এ কথা মনে আসার সঙ্গে সঙ্গে উভয়ে কেমন ধার্মিক হয়ে উঠল এবং বান্ধটি প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় খুঁজতে লাগল।

 

প্রশ্ন-০৬। “ঠাকুরমশাই, আপনারা মানুষ না দেবতা?’ কাপালি এ কথা কেন বলেছে?

উত্তরঃ বিধুর সততার কারণে কাপালি তার ‘হারানাে ডবল টিনের ক্যাশ বাবা অক্ষত অবস্থায় ফেরত পেয়ে বিধুদের সম্পর্কে এ মন্তব্য করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। তাদের সত্যতায় কাপালি মুগ্ধ হয় ।

 

প্রশ্ন-০৭। বিধু লােকটির কাছে রশিপ ঢাইল কেন ?

উত্তরঃ বিধুর লােকটির কাছে রসিদ চাওয়ার কারণ হলো স্বীকারােক্তি সংরক্ষণ করা। বিশেষ কিছু হস্তান্তরে ক্ষেত্রে প্রমাণপত্র সংগ্রহ করা বুদ্ধিমানের কাজ।

Leave a Comment