(জেএসসি ২০২১) তৈলচিত্রের ভুত গল্পের গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

তৈলচিত্রের ভুত গল্পের উৎসঃ 

তৈলচিত্রের ভূত’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত একটি কিশাের উপযােগী ছােটগল্প। ১৯৪১ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে ‘মৌচাক’ পত্রিকায় এ গল্পটি প্রকাশিত হয় ।

 

তৈলচিত্রের ভুত গল্পের পাঠের উদ্দেশ্যঃ 

ভূতে বিশ্বাস নিয়ে মানুষের মধ্যে যে কুসংস্কার বিরাজমান, তা ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও অন্তঃসার শূন্য । বিজ্ঞানসম্মত বিচারবুদ্ধির মাধ্যমে এই কুসংস্কার ও অন্ধবিশ্বাস সহজেই দূর করা সম্ভব। গল্পটি পড়ে শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে ভয়মুক্ত, কুসংস্কারমুক্ত ও সচেতন হবে।

 

তৈলচিত্রের ভুত গল্পের মূলবক্তব্যঃ

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় তার ‘তৈলচিত্রের ভূত’ ছােটগল্পটি অতিপ্রাকৃত ঘটনার আশ্রয়ে রচনা করেছেন। এটি কিশাের উপযােগী রচনাসমুহের অন্তর্ভূক্ত একটি ছােটগল্প। সমাজে ভূত প্রেতে বিশ্বাস নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রচলিত কুসংস্কার যে ভিত্তিহীন সেই বিষয়টি এ গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে। 

গল্পে নগেন কলেজ পড়ুয়া কিন্তু সে ভূত প্রেতে বিশ্বাস করে। সে বড়লােক মামার বাড়িতে থেকে পড়ালেখা করে। তবে মামার কৃপণ স্বভাবের কারনে তার প্রতি নগেনের কখনই অন্তর থেকে শ্রদ্ধাভক্তি ছিল না। যেটুকু ছিল তা নিতান্তই দায়ে পড়ে। অথচ মৃত্যুর আগে কী যেন ভেবে মামা তার নিজের ছেলেদের ভাগের সমান অংশের টাকা তার নামেও উইল করে গেছেন কিন্তু জীবিত অবস্থায় মামা তার সংগে যেমন ব্যবহারই করুন না কেন, মৃত্যুর পর মামার এ রকম উদারতার কথা ভেবে পরলােকগত মামার প্রতি শ্রদ্ধভক্তিতে তার মন ভরে ওঠে। সারাজীবন শ্রদ্ধাভক্তির ভান করে আমাকে সে ঠকিয়েছে। 

তাই লাইব্রেরী ঘরে মামার তৈলচিত্রের পায়ে নগেন অন্ধকারে প্রণাম করতে যায়। রূপার ফ্রেমে বাঁধানাে মামার তৈলচিত্রে মাথা স্পর্শ করামাত্রই মামা তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। এ রকম ঘটনা অন্ধকার রাতে অসংখ্যবার ঘটেছে। অথচ দিনের বেলা বা অন্ধকারে আলাে হাতে থাকলে তা ঘটে না। দুশ্চিন্তায় নগেন শুকিয়ে যেতে থাকে। শেষমেশ পরাশর ডাক্তারের কাছে সবিস্তারে বর্ণনা করল সে। অবশেষে পরাশর ডাক্তার তৈলচিত্রটিকে ভালাে করে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখলেন যে, তার মামার তৈলচিত্রের রূপার ফ্রেমে বৈদ্যুতিক সংযােগ থাকায় এ রকম ভুতড়ে কান্ডটি ঘটেছে। আসলে এটা ভূতের কোনাে বিষয় নয়। 

তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে লেখক কুসংস্কারের বিপরীতে বিজ্ঞানবুদ্ধির জয়কে প্রকাশ করেছেন। তিনি দেখিয়েছেন মানুষকে যদি বিজ্ঞানচেতনা দিয়ে ঘটনা বিশেষণে উদ্বুদ্ধ করা যায়, তাহলে অন্ধবিশ্বাসের অন্তঃসারশূন্যতা ধার পড়ে। লেখক এ গল্পে নগেন চরিত্রের মধ্যে ভূত বিশ্বাসের স্বরূপ ব্যাখ্যা করেছেন। অন্যদিকে পরাশর ডাক্তারের মধ্যে রয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক বিচার বুদ্ধি। মৃত ব্যক্তির আত্মা ভূতে পরিণত হয় এরকম বিশ্বাস সমাজে প্রচলিত থাকায় নগেন বৈদ্যুতিক শককে ভুতের কাজ বলে সহজেই বিশ্বাস করেছে। পরাশর ডাক্তার সবকিছু যুক্তি দিয়ে বিচার করেন বলে তাঁর কাছে। বৈদ্যুতিক শকের বিষয়টি ধরা পড়েছে এবং তাঁর মাধ্যমেই নগেনের বিশ্বাস ভুল প্রমাণিত হয়েছে।




 

তৈলচিত্রের ভুত গল্পের লেখক পরিচিতিঃ

* মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ সালে সাঁওতাল পরগণার দুমকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁ পিতৃপুরুষের বসতি ছিল বাংলাদেশের বিক্রমপুর অঞ্চলে।

* তিনি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন।

* মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ঔপন্যাসিক ও ছােট গল্পকার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন । মানুষের মন বিশ্লেষনের দিকেই ছিল তাঁর ঝোঁক। তিনি শ্রমিক কৃষকের কল্যানের কথাও ভেবেছেন।

* শােষণ থেকে শ্রমিক কৃষকের মুক্তির জয়গান গেয়েছেন – গল্প উপন্যাসের মাধ্যমে।

* তাঁর রচিত উপন্যাস ও দিবারাত্রির কাব্য, পদ্মানদীর মাঝি, পুতুলনাচের ইতিকথা।

* তাঁর রচিত ছােটগল্প ঃ প্রাগৈতিহাসিক , সরীসৃপ, সমুদ্রের স্বাদ, টিকটিকি, হলুদ পােড়া , হারানের নাতজামাই।

* তাঁর রচিত কিশাের উপন্যাস ও মাঝির ছেলে।

* তাঁর রচিত কিশাের উপযােগী গল্পের সংখ্যা ২৭। এর মধ্যে উল্লেখযােগ্য হলাে – কোথায় গেল, জব্দ করার প্রতিযােগীতা, তিনটি সাহসী ভীরুর গল্প , ভয় দেখানাের গল্প , সনাতনী, দাড়ির গল্প, সুর্যবাবুর ভিটামিন সমস্যা।

* তাঁর নিত্য সঙ্গী ছিল – দারিদ্র্য।

* ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

 

তৈলচিত্রের ভুত গল্পের পাঠ বিশ্লেষনঃ-

* নগেন পড়াশুনা করত – কলেজে।

* নগেন মানুষ হয়েছে – মামা বাড়িতে

* পরাশর ডাক্তার চিঠি লিখছিলেন – লাইব্রেরীতে বসে সকাল বেলা ।

* নগেনকে দেখে পরাশর ডাক্তার ভেবেছেন – অসুস্থ।

* নগেন কলেজে পড়াশােনা করে – মামাবাড়ি থেকে।

* নগেনের দৃষ্টিতে তার মামা ছিলেন – কৃপণ।

* নগেন তার মামাকে শ্রদ্ধা করত – বাইরে থেকে।

* নগেনের মামা নগেনকে টাকাকড়ি দিয়ে গেছেন – প্রায় নিজের ছেলেদের সমান।

* মামার উদারতা কোনােদিন কল্পনা করতে পারেনি – নগেন।

* আত্মগ্লানি অর্থ – নিজের ওপর ক্ষোভ ও ধিক্কার, অনুতাপ, অনুশােচনা ।

* নগেনের মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করতে যাওয়ার কারণ – আত্মগ্লানি।

* অন্ধকারে তৈলচিত্র ছোঁয়ামাত্রই – নগেন ধাক্কা খায়।

* তৈলচিত্রের ছবিটা শখ করে আঁকিয়েছিলেন – নগেনের মামা।

* অতিশয় বড় কিছুকে বলা হয় – প্রকান্ড।

* হতজ্ঞান শব্দের অর্থ – উদভ্রান্ত।

* মৃত ব্যক্তির আত্মার শান্তির জন্য করা হয় – শ্রাদ্ধ

* যে দানপত্র মৃত্যুর পর বলবৎ থাকে – উইল।




* মৃতের আত্মাকে বলা হয় – প্রেতাত্মা।

* কৃতকর্মের জন্য অনুশােচনা – অনুতাপ।

* তৈলচিত্র বলতে বােঝায় – তেলরঙে আঁকা ছবি।

* হৃৎপিন্ডের স্পন্দনকে বলে – হৃল্কম্প।

* অশরীরী বলতে বােঝায় – নিরাকার।

* রেশমের মােটা কাপড়কে বলে – মটকা।

* ভূত নিয়ে মানুষের বিশ্বাস – ভিত্তিহীন।

* তৈলচিত্রের ভূত গল্পে জয় হয়েছে – বিজ্ঞানবুদ্ধির

* মানুষ ভূত বিশ্বাস করে – কুসংস্কারাচ্ছন্ন হওয়ায়।

* কুসংস্কার অন্তঃসার শূন্য হয়ে পড়ে – বিজ্ঞানের কাছে।।

* মৃত ব্যক্তির আত্মা ভূতে পরিণত হয় এটি – সমাজের প্রচলিত বিশ্বাস।

* নগেন চরিত্রের মাধ্যমে তৈলচিত্রের ভূত গল্পে প্রকাশ পেয়েছে – ভূত বিশ্বাসের স্বরূপ।

* পরাশর ডাক্তারের বিচারবুদ্ধি – বিজ্ঞানসম্মত।

* তৈলচিত্রের ভূতের রহস্য উন্মােচন করেন – পরাশর ডাক্তার।

* মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপন্যাসে জয়গান গাওয়া হয়েছে – শ্রমিক, কৃষকের শােষণমুক্তির।

* অশরীরী অর্থ – শরীরহীন, নিরাকার

* কস্মিনকালে অর্থ – কোনাে কালে ।

* মনে মনে নগেন তার মামাকে প্রায়ই পাঠাতাে – যমের বাড়ি।

* পাগল সহজে টের পায় না – সে পাগল হয়ে গেছে কিনা।

* নগেন মরিয়া হয়ে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেছিল – সত্যই প্রেতাত্মা আছে কিনা।

* নগেনের কাহিনি কেমন ছিল – অবিশ্বাস্য ও চমকপ্রদ।

* নগেন কোনদিনও কল্পনা করতে পারেনি – মামার অকৃত্রিম উদারতা

* নগেন তার মামাকে ঠকিয়েছিল – শ্রদ্ধা ও ভালােবাসার ভান করে ।

* নগেন তার মৃত মামাকে ভক্তিশ্রদ্ধা করতে চেয়েছিল – পায়ে মাথা ঠেকিয়ে।

* নগেনের মামার বিশেষ মাথাব্যাথা ছিল না – লাইব্রেরী সম্পর্কে।

* লাইব্রেরীতে বড় বড় তৈল চিত্র ছিল – ৩টি ।

* তৈলচিত্রের ছবি তিনটি ছিল – নগেনের দাদামশায়ের, দিমির আর মামার।

* দেয়ালের ছবিতে নগেনের মামা দাঁড়িয়ে আছেন – মটকার পাঞ্জাবির উপর দামি শাল গায়ে দিয়ে।

* তৈলচিত্রের তেজ বাড়ে – রাত্রে ।

* তৈলচিত্রের ভূত গল্পের মূখ্য উদ্দেশ্য হলাে – শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানমনস্ক করা ।

* পরিতাপ অর্থ – অনুতাপ।

* তৈলচিত্রের ভূত গল্পটিতে কোন্ মাসের উলেখ আছে – চৈত্র মাসের ।

* নগেনের বর্ণিত কাহিনিকে পরাশর ডাক্তার চমকপ্রদ অবিশ্বাস্য কাহিনি বলেছেন – বাস্তববর্জিত বলে।

* পরাশর ডাক্তারের ক্ষেত্রে প্রযােজ্য – বুদ্ধিমান ও আধুনিক।

* নগেন ঘরে ঢুকল – নিঃশব্দে চোরের মতাে ।

* নগেনের মামা নগেনের নামে উইল করে রেখে গিয়েছিল – মােটা অংকের টাকা।

* নগেনের লাইব্রেরীটি – দাদামশায়ের আমলের ।।

* পরাশর ডাক্তার নগেনকে বাইরের ঘরে অপেক্ষা করতে বলল – রাত্রি বারােটার সময়।

* নগেনের মামার তৈলচিত্রটি নিস্তেজ থাকে – দিনের বেলায় ।

* নগেনের মামার তৈলচিত্রটি এঁকেছিলেন – তার মামা নিজে।

* ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি হয়েছিল – নগেনের মামাতাে ভাই।

* তৈলচিত্রটির ফ্রেম ছিল – রূপার তৈরী।

* নগেনের মনে দারুন লজ্জা আর অনুতাপ জেগেছিল – মামরি উদারতার পরিচয় পেয়ে।




 

তৈলচিত্রের ভুত গল্পের জ্ঞানমূলক প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন-০১। পরাশর ডাক্তার কোথায় বসে চিঠি লিখেছিলেন ?

উত্তরঃ পরাশর ডাক্তার নিজের প্রকান্ড লাইব্রেরিতে বসে চিঠি লিখেছিলেন।

প্রশ্ন – ০২। তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয় ?

উত্তরঃ ‘তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পটি ‘মৌচাক’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

প্রশ্ন-০৩। লাইব্রেরির দেয়ালে কয়টি তৈলচিত্র ছিল।

উত্তরঃ লাইব্রেরির দেয়ালে তিনটি তৈলচিত্র ছিল।

প্রশ্ন-০৪। ‘ভূত’ শব্দের অর্থ কী ?

উত্তরঃ ভূত শব্দের অর্থ হলাে-প্রেতাত্ম ।

প্রশ্ন-০৬। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু সাল কত ?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু সাল ১৯৫৬।

প্রশ্ন-০৭। নগেনদের বাড়ির লাইব্রেরিটি কার আমলের?

উত্তরঃ নগেনদের বাড়ির লাইব্রেরিটি নগেনের দাদামশায়ের আমলের ।

প্রশ্ন-০৮। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশাের-উপযােগী গল্পের সংখ্যা কত ?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিশাের-উপযােগী গল্পের সংখ্যা ২৭।

প্রশ্ন-০৮। ‘তৈলচিত্রের ভূত’ কোন জাতীয় রচনা ?

উত্তরঃ ‘তৈলচিত্রের ভূত’ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি কিশাের – উপযােগী ছােটগল্প ।

প্রশ্ন-০৯। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় জন্ম কত সালে ?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯০৮ সালে জন্ম গ্রহণ করে।

প্রশ্ন-০৯। মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাঝির ছেলে’ কী ধরনের রচনা ?

উত্তরঃ মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মাঝির ছেলে একটি কিশাের উপন্যাস।

প্রশ্ন-১০। নগেনের মামার গায়ে কিসের পাঞ্জাবি ছিল ?

উত্তরঃ নগেনের মামার গায়ে মটকার পাঞ্চাবি ছিল ।

প্রশ্ন-১১। ‘উদভ্রান্ত’ শব্দের অর্থ কী ?

উত্তর: উদভ্রান্ত’ শব্দের অর্থ-বিহবল , দিশেহারা, হতজ্ঞান।

প্রশ্ন-১২। পরাশর পেশায় কী ছিলেন ?

উত্তর : পরাশর পেশায় চিকিৎসক ছিলেন।

প্রশ্ন-১৩। রুপার ফ্রেমে বাল্ব দুটো লাগিয়েছিল কে ?

উত্তর : রূপার ফ্রেমে বাল্ব দুটো লাগিয়েছিল নগেনের মামাতাে ভাই পরেশ।

প্রশ্ন-১৪। পরাশর ডাক্তার চোখ বুজে ছিলেন কত মিনিট ?

উত্তরঃ পরাশর ডাক্তার পাঁচ মিনিট চোখ বুজে ছিলেন ।

প্রশ্ন-১৫। নগেনের মামার ছবি কোথায় ছিল ?

উত্তরঃ নগেনের মামার ছবি লাইব্রেরিতে ছিল।




 

তৈলচিত্রের ভুত গল্পের অনুধাবনমূলক প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন-০১। নগেন শুয়ে শুয়ে ছটফট করতে লাগল কেন?

উত্তরঃ মামার প্রতি ভক্তি-ভালােবাসার ভান করে ঠকানাের অনুতাপ বেড়ে যাওয়ায় নগেন শুয়ে শুয়ে ছটফট করতে লাগল।

মামা নগেনকেও তার ছেলেদের সমান টাকাকড়ি দিয়ে গেছেন জেনে নগেন স্তম্ভিত হয়ে যায়। মামার এমন উদারতায় পরলােকগত মামার জন্য আন্তরিক শ্রদ্ধা-ভক্তিতে নগেনের মন ভরে যায়। অথচ এমন দেবতার মতো মানুষকে সারাজীবন ভক্তি-ভালােবাসার ভান করে ঠকিয়েছে ভেবে তার দারুণ লজ্জা আর অনুতাপ হয়। মামার শ্রদ্ধের দিন অনুতাপটা বেড়ে যাওয়ায় নগেন বিছানায় শুয়ে শুয়ে ছটফট করতে লাগল।

 

প্রশ্ন-০২। ‘গাধাও তােমার চেয়ে বুদ্ধিমান’-কথাটি কে, কোন প্রসঙ্গে বলেছিলেন ?

উত্তরঃ উক্তিটি পরাশর ডাক্তার, নগেনের হতবুদ্ধি দেখে করেছিলেন।

তৈলচিত্রের ভূত’ গল্পে নগেন তার মামার ছবি ধরে ধাক্কা খাওয়ার কারণ হিসেবে মনে করে ছবিতে ভূত আছে। এই সমস্যাটি সে পরাশর ডাক্তারের কাছে তুলে ধরে । পরাশর ডাক্তার এ ঘটনার কারণ উদঘাটন করতে গিয়ে দেখেন ছবির ফ্রেমটি রুপার তৈরি এবং তার ভেতরে দুটি ইলেকট্রিক বাল্ব লাগানাে হয়েছে। যার ফলে নগেন ইলেকট্রিক শক খেয়ে বারবার মনে করত যে, ছবি ভেতরে ভূত আছে। তার এমন হতবুদ্ধিতার পরিচয় পেয়ে পরাশর ডাক্তার আলােচ্য উক্তিটি করেন।

 

প্রশ্ন-০৩। নগেনের অনুতাপ বেড়ে গেল কেন ?

উত্তরঃ নগেনের মামার কথা ভেবে নগেনের অনুতাপ বেড়ে গেল। মামা বেঁচে থাকতে নগেন তাকে তেমন একটা শ্রদ্ধা-সম্মান করত না। মনে মনে সে তাকে খুবই অপছন্দ করতে। এমনকি মৃত্যু কামনা করত। কিন্তু মামা মারা যাওয়ার পরে সে জানতে পারে যে, মামা তার ছেলেদের মতাে তাকেও প্রায় একই সমান সম্পত্তি দিয়ে গেছেন। মামা বেঁচে থাকতে মামার জন্য তার ভেতরে যে অশ্রদ্ধা ছিল, মৃত্যুর পরে তাকে সম্পত্তি দিয়ে যাওয়ার কারণে মনে মনে তার অনুতাপ বেড়ে যেতে লাগল।

 

প্রশ্ন-০৪। পরেশকে বাবার উপযুক্ত ছেলে বলার কারণ বুঝিয়ে লেখ।

উত্তরঃ পরেশকে বাবার উপযুক্ত ছেলে বলার কারণ সে নিজে তার বাবার ছবির সাথে দুটো ইলেকট্রিক বা ফিট করতে গিয়ে গন্ডগােল পাকিয়েছে।

নগেনের মামা বড়লােক হলেও কৃপণ ছিলেন। মামাত ভাই পরেশও হয়েছে তেমন। পিতার রূপার ফ্রেম দিয়ে বাঁধানাে ছবির সাথে সে দুটি বাল্ব ফিট করে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে বলে কাজটা সে নিজেই করেছে। শুধু শুধু ইলেকট্রিক মিলিকে পয়সা দিতে চায়নি। কাচা হাতের কাজ হওয়ায় কাজটিতে ক্রটি থেকে গেছে। সুয়ােগ পেয়ে বিদ্যুৎ রূপার ফ্রেমের ভিতর দিয়ে দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। মূলত পরেশ যে বাবার মতােই কৃপণ-এ কথা বােঝাতেই পরেশকে বাবার উপযুক্ত ছেলে বলা হয়েছে।

 

প্রশ্ন-০৫। “তুমি একটি আস্ত গর্দভ নগেন।”-উক্তিটির কারণ কী?

উত্তরঃ ডাক্তার নগেনকে তার নির্বুদ্ধিতার জন্য তাকে আস্ত গর্দভ বলেছিলেন।

আমাদের সমাজের সচারাচর স্থলবুদ্ধির লােককেই গর্দভ বলা হয়। নগেনকে পরাশয় ডাক্তারের গর্দভ বলার কারণ, নগেন তার মামার তৈলচিত্র ধরে ধাক্কা খাওয়ার কার্যকারণ অনুসন্ধান না করে তাকে কোনাে অশরীরী আত্মার ধাক্কা বলে মনে করেছে। অথচ সেখানে ছবির সঙ্গে যে দুটি ইলেকট্রিক বা ফিট করা আছে, সেই তথ্য পরাশর ডাক্তারকে সে দেয়নি। এ কারণে ডাক্তার নগেনকে অম্ভি গর্দভ বলেছে।

 

প্রশ্ন-০৬। নগেন প্রায় তার মামাকে যমের বাড়ি পাঠাত কেন ?

উত্তরঃ নগেনের মামা ছিলেন খুব কৃপণ। তাই নগেন তাকে প্রায়ই যমের বাড়ি পাঠাত।

তার মামার বাড়িতে থেকে পড়াশুনা করত। তার মামা ছিল অত্যন্ত কৃপণ, যার কারণে নগণ তাকে খুব একটা পছন্দ করত না। আবার মামার আদর-ভালােবাসাও সে খুব একটা পায়নি। তাই বাইরে মামাকে খুব শ্রদ্ধা-ভক্তি দেখালেও মনে মনে সে প্রায়ই তাকে যমের বাড়ি পাঠাত।




 

প্রশ্ন-০৭। নগেন কেন ভেবেছিল সে পাগল হয়ে গেছে?

উত্তরঃ অশরীরী শক্তি প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে ভ্রান্ত হওয়ার কারণে নগেন ভেবেছিল সে পাগল হয়ে গেছে।

নগেন বাইরে মামাকে খুব শ্রদ্ধাভক্তি দেখালেও মনে মনে তাকে প্রায় যমের বাড়ি পাঠাত। কিন্তু মৃত্যুর আগে মামা তার নামে মােটা টাকা দিয়ে যান এতে নগেন অনুতপ্ত হয়ে রাতের বেলা লাইব্রেরিতে টাঙানাে মামার ছবির সামনে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে। ছবিতে হাত দেওয়া মাত্র তার শরীর ঝনঝন করে ওঠে, সে জ্ঞান হারায়। এভাবে বেশ কয়েকবার স্পর্শ করলে একই প্রতিক্রিয়া হলে সে ভাবে এটা তার মামার অপশরীরী শক্তি। মামা তার ওপর রেগে রয়েছে। সে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে। তার শরীর ভেঙে পড়ে, চাউনি উদভ্রান্তের মতাে, কথা বলে। খাপছাড়া, মুখে হাসি নেই। নগেনের মনে হয় সে পাগল হয়ে গেছে।

 

প্রশ্ন-০৮। মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করার কথা নগেনের মনে হলাে কেন?

উত্তরঃ মামার প্রতি কৃতজ্ঞতায় ও শ্রদ্ধায় মামার তৈলচিত্র প্রণাম করার কথা নগেনের মনে হলাে।

মামা মারা যাওয়ার পর নগেন জানতে পারে যে, নিজের ছেলেদের সমান অর্থ তিনি নগেনের জন্য রেখে গেছেন। নগেন বুঝতে পারে মামা বাইরে কঠোর ব্যবহার করলেও নগেনকে নিজের ছেলের মতােই ভালােবাসতেন। কিন্তু নগেন এতদিন তা বুঝতে না পেরে মামার প্রতি শ্রদ্ধার ভান করেছে। এখন বুঝতে পেরে মামার প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতায় মামার তৈলচিত্রে প্রণাম করার কথা নগেনের মনে হলাে।

 

প্রশ্ন-০৯। নগেন তার মামাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধাভক্তি করেনি কেন ?

উত্তরঃ নগেন তার মামার কাছ থেকে আদর-ভালােবাসা তেমন একটা পায়নি বলে মামাকে অন্তর থেকে শ্রদ্ধা-ভক্তি করেনি। 

নগেন তার মামার বাড়িতে থেকে কলেজে পড়াশুনা করত। তার মামা অনেক বড়লােক ছিলেন। যথেষ্ট টাকা-পয়সা থাকার পরও নগেনের মামা ভীষণ কৃপণ ছিলেন। নগেন কখনাে আদর পায় নি তার মামার কাছ থেকে। অনেকটা অনাদরেই সে মামার বাড়িতে থেকেছে। এ কারণেই নগেন বাইরে থেকে মামাকে শ্রদ্ধা-ভক্তি দেখালেও অন্তর থেকে কোনাে দিনই মামাকে শ্রদ্ধাভক্তি করেনি।

 

প্রশ্ন-১০। নগেনের মনে দারুণ লজ্জা আর অনুতাপ জেগেছিল কেন ?

উওরঃ মামাকে সারা জীবন ভক্তি-শ্রদ্ধার ভান করে ঠকিয়েছে ভেবে নগেনের মনে দারুণ লজ্জা আর অনুতাপ জেগেছিল। 

নগেন তার মামার বাড়িতে থেকে কলেজে পড়ে। মামা বড়লােক কিন্তু কৃপণ। মামার কাছ থেকে খুব একটা স্নেহ -ভালােবাসা নগেন পায় নি। কিন্তু মারা যাওয়ার আগে মামা নগেনকে নিজ ছেলেদের প্রায় সমান টাকাকড়ি দিয়ে গেছেন। এটা জানার পর মামার প্রতি তার ভক্তি-শ্রদ্ধা বেড়েযায় আর সে মনে মনে দারুণ লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়। কারণ সারা জীবণ মামাকে সে ভক্তি আর ভালােবাসার ভান করে ঠকিয়েছে।

 

প্রশ্ন-১১। নগেন কেন ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল ?

উত্তরঃ ভূতের হাত থেকে বাচতে নগেন ডাক্তারের কাছে গিয়েছিল।

রাতের বেলা মৃত মামার ছবিতে প্রণাম করতে গেলে ধাক্কা খায় নগেণ । প্রায়ই ঘটা এ ঘটনাটিকে নগেন ভুতের কান্ড বলে মনে করে। এজন্য সে ডাক্তারের কাছে এর প্রতিকার চাইতে যায়। 

 

প্রশ্ন-১২। নগেনের চোখ বিস্ফোরিত হয়ে মুখ ফেকাসে হয়ে গেল কেন ?

উত্তরঃ ভয়ে ও বিস্ময়ে নগেনের চোখ বিস্ফোরিত হয়ে মুখ ফেকাসে হয়ে গেল।

মামা যত দিন বেঁচে ছিলেন তিনি নগেনকে ভালােবাসতেন না। ফলে নগেন কখনাে মন থকে তাঁকে শ্রদ্ধাভক্তি করতে পারেনি। কিন্তু মামা মৃত্যুর আগে তার নামে মােটা টাকা উইল করে যান। এ ঘটনায় নগেনের মন মামার প্রতি আগুরিক শ্রদ্ধাভক্তিতে ভরে গেল। সে সিদ্ধান্ত নিল মামার ছবির গায়ে মাথা ঠেকিয়ে মাফ চেয়ে নেবে। সে লাইব্রেরি ঘরে মামার ছবিতে সপর্শ করা মাত্র ইলেকট্রিক শকের কারণে ধাক্কা। খেয়ে পড়ে যায়। তার বর্ণনা পরাশর ডাক্তারের কাছে করতে গিয়ে ভয়ে ও বিস্ময়ে নগেনের চোখ বিস্ফোরিত হয়ে মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেল।

Leave a Comment