অপেক্ষা করতে বললেন ডিসি, কেশবপুরে সংঘর্ষ

অপেক্ষা করতে বললেন ডিসি, দোকান খুললেন
ব্যবসায়ীরা

লকডাউনের ভেতর দোকান খুলেছেন রাজশাহীর আরডিএ এবং বস্ত্র মার্কেটের দোকানিরা।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই তারা দোকান খােলেন। পরে বেলা ১১টার দিকে ব্যবসায়ী নেতারা দোকান
খোলার দাবি নিয়ে যান জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে।
ডিসি তাদের অপেক্ষা করতে বলেন ২৮
তারিখ পর্যন্ত। কিন্তু দুপুরে বাজারে গিয়ে দেখা যায়, দোকান খােলাই আছে।
এর আগে ডিসির সঙ্গে সভা করে ব্যবসায়ী নেতারা দোকান খােলার দাবি জানান।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই সভা
অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় রাজশাহী ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের দপ্তর সম্পাদক মাসুদুর রহমান স্বজন বলেন, রাজশাহীতে ব্যবসা-বাণিজ্য শিক্ষার্থীদের ঘিরেই। এক বছরের বেশি সময় ধরে শহরে শিক্ষার্থী নেই। ব্যবসা হয়নি। এখন তারা ঈদের বাজার ধরতে চান। এ জন্য তিনি
স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খােলার অনুমতি চান।

পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মাহমুদ হাসান বলেন, রাজশাহী শহরে লকডাউনের কারণে এখন এমনিতেই জনসংখ্যা কম। আমরা জীবনও বাঁচাতে চাই, জীবিকাও বাঁচাতে চাই।

আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকানপাট খুলতে চাই রাজশাহী পাদুকা সমিতির সভাপতি সফিকুর রহমান বিপুল বলেন, দোকানপাট বন্ধ থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত। সারাবছর কর্মচারীরা এই ঈদের জন্য তাকিয়ে থাকে।
কাঁচাবাজার যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে খােলার অনুমতি দেয়া হয়েছে, তারাও সেভাবে দোকান খুলতে চান।

বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি মাে. লিয়াকত আলী বলেন,
লকডাউনে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দোকান খােলার সুযােগ পাচ্ছে। আরেক শ্রেণি বন্ধ করে রাখছে। কিন্তু
স্থানীয় শিল্প বাঁচাতে হলে কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্থানীয় শিল্প খােলার অনুমতি দিতে হবে।
তিনি বলেন, গত ১৩ মাস দোকানপাট বন্ধ। বছরে ব্যবসায়ীদের দুই ঈদ, পূজা ও পহেলা বৈশাখ নিয়ে
চারটি মৌসুম থাকে ব্যবসার। গত বছর সবগুলােই মার খেয়েছে। এবার পহেলা বৈশাখ মার খেয়েছে। সামনে
ঈদ যেন ব্যবসায়ীরা কাজে লাগাতে পারেন। তা না হলে তারা খুব ক্ষতির মুখে পড়বেন।
স্থানীয় দৈনিক সােনার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত বলেন,
করােনার পরিস্থিতি কিন্তু খুব ভয়াবহ। আমরা কিন্তু দোকান খুললেই স্বাস্থ্যবিধি মানার কথা ভুলে যাই। যদি
স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যাপারে সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হতে পারেন তাহলে দোকান খােলা যেতে পারে।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শেষে রাজশাহী মহানগর পুলিশের বােয়ালিয়া জোনের উপ-কমিশনার সাজিদ হোসেন বলেন, আমরা একবেলা খাই কিংবা না খাই,
বেঁচে আছি- এটাই আনন্দের । তাই এই মহামারিকালে সরকারি নির্দেশনা মেনে আমাদের বেঁচে থাকার চেষ্টাটাই করতে হবে। ঈদের আগে সরকার যদি লকডাউন শিথিল করে তাহলে রাজশাহীর ব্যবসায়ীদের সহায়তা করা হবে।

 

 

কেশবপুরে জমি নিয়ে বিবাদ দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত – ৭

যশােরের কেশবপুরে প্রতিপক্ষের দায়ের কোপে মদন দাস নামে এক যুবক আহত হয়েছেন।
এছাড়া দুই পক্ষে আরও ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শুক্রবার থানায় অভিযােগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযােগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধর্মপুর গ্রামের দুখী দাসের সঙ্গে প্রতিবেশী পাগল দাসের বসতভিটার
জমি নিয়ে বিরােধ চলছিল।
শুক্রবার দুপুরে ছাগলে সরিষা খাওয়াকে কেন্দ্র করে
পাঁচ-ছয়জন যুবক দা, লাঠিসােটা নিয়ে দুখী দাসের বাড়িতে ঢুকে মদন দাসকে মাথায় কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে।
এ সময় তাকে উদ্ধার করতে গেলে মহাদেব দাস, কালি দাসী, মান্দারী দাসী, শিশু মােহন দাস ও সুবল দাস আহত হয়।
মদন দাসকে কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিসহ অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় কালি দাসী বাপ্পী দাস, বাবু দাস, পাগল দাস, রামেশ দাস, শান্ত দাস ও কুচুলী দাসকে আসামি করে থানায় অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।
এ ব্যাপারে পাগল দাস বলেন, ছাগলে সরিষা খাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়। দা দিয়ে কোপানোর ঘটনা সঠিক নয়। তাদের হামলায় আমার স্ত্রী পূর্ণিমা দাস আহত হয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।
কেশবপুর থানার উপ সহকারী পরিদর্শক আবদুস সালাম বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Comment