অষ্টম শ্রেণির বাংলা ১ম পত্রের “অতিথির স্মৃতি গল্পের উৎস, পাঠের উদ্দেশ্য ও গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান ও অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

অতিথির স্মৃতি গল্পের উৎসঃ

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘দেওঘরের স্মৃতি’ গল্পটি কিছুটা পরিমার্জনা করে পাঠ্য বইয়ে ‘অতিথির স্মৃতি‘ শিরােনামে সংকলিত হয়েছে।

অতিথির স্মৃতি গল্পের পাঠের উদ্দেশ্যঃ

এ গল্প পাঠের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা পরিহার করে সহানুভূতিশীল হবে।

অতিথির স্মৃতি গল্পের মূলবিষয়বস্তুঃ

একটি প্রাণীর সংগে একজন অসুস্থ মানুষের কয়েকদিনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা মমত্বের সম্পর্কই এ গল্পের বিষয়বস্তু । ডাক্তারের নির্দেশে অবকাশ যাপনকালে একটি কুকুরের সংগে লেখকের হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লেখক দিখিয়েছেন, মানুষে মানুষে যেমন স্নেহপ্রীতির সম্পর্ক অন্য জীবের সংগেও মানুষের তেমন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেই সম্পর্ক নানা প্রতিকুল কারনে স্থায়ীরূপ পেতে বাধাগ্রস্ত হয়। আবার এই সম্পর্কের সুত্র ধরে একটি মানুষ ওই জীবের প্রতি যখন মমতায় সিক্ত হয়। তখন অন্য মানুষের আচরন নির্মম হয়ে উঠতে পারে। সম্পর্কের বিচিত্র রূপ এ গল্পে প্রকাশিত হয়েছে। 

অতিথির স্মৃতি গল্পের পাঠ বিশ্লেষনঃ

↪শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

↪ জীবিকার সন্ধানে তিনি – রেঙ্গুন (বার্মার রাজধানী) গিয়েছিলেন ।

↪ ১৯০৭ সালে ‘ভারতী’ পত্রিকায় ‘বড়দিদি’ উপন্যাস প্রকাশিত হলে তাঁর সাহিত্যিক খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। সাধারন বাঙালি পাঠকের আবেগকে তিনি যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন।

↪ তাঁর রচিত উল্লেখযােগ্য উপন্যাস হলাে – পল্লীসমাজ, দেবদাস, শ্রীকান্ত, গৃহদাহ, দেনাপাওনা, পথের দাবী, শেষ প্রশ্ন প্রভৃতি।

↪ সাহিত্য প্রতিভার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিনী স্বর্ণপদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট উপাধি লাভ করেন। ১৯৩৮ সালের ১৬ জানুয়ারী এই কালজয়ী কথাশিল্পী মারা যান।

↪ শরৎচন্দ্রের দেওঘরের স্মৃতি’ গল্পটির নাম পাল্টে এবং ঈষৎ পরিমার্জনা করে এখানে অতিথির স্মৃতি হিসেবে সংকলন করা হয়েছে।

↪ মানবেতর একটি কুকুরের সংগে একজন মানুষের গড়ে উঠা মমত্বের সম্পর্ক প্রকাশিত হয়েছে গল্পটিতে।

↪ দেওঘর – ভারতের একটি স্বাস্থ্যকর স্থান। লেখক অসুস্থ হয়ে পড়লে ডাক্তারের পরামর্শমত এখানে এসেছিলেন বায়ু পরিবর্তনের জন্য।

↪ ভজন – দেব-দেবী বা ঈশ্বরের প্রশংসা করে প্রার্থনামূলক গান।

↪ পাখি শিকার করে যারা বিক্রি করে তাদেরকে ব্যাধ বলে।

↪ দোর শব্দের অর্থ – দরজা।

↪কুঞ্জ অর্থ – লতাপাতায় ঘেরা বৃত্তাকার স্থান।

↪ বেরিবেরি হলাে – শােথ জাতীয় রােগ। এ রােগে আক্রান্ত হলে হাত পা ফুলে যায়।

↪ শীর্ণ অর্থ – দুর্বল, স্বাস্থ্যহীন, হালকা পাতলা।

↪ফ্যাকাশে অর্থ – রক্তশূন্য মুখমন্ডল।

↪ক্ষুধা হরণের কর্তব্য – ক্ষুধা নিবারনের কাজকে লেখক এখানে ক্ষুধা হরণের কর্তব্য বলেছেন।

↪ বাত ব্যাধিগ্রস্ত – বাত রােগে আক্রান্ত। এ রােগে মানুষ চলৎশক্তিহীন হয়ে পড়ে। এটি বার্ধক্য জনিতরােগ।

↪ মালীর মালিনী বলতে – মালীর স্ত্রীকে বােঝানাে হয়েছে।

↪ খাওয়া সম্পর্কে নির্বিকার চিত্ত – বাগানের মালির স্ত্রী বা মালি বৌ বাছ বিচার হীনভাবে প্রচুর খায় । তাকেই বলা হয়েছে খাওয়ার ব্যাপারে নির্বিকারচিত্ত।

↪ চেঁচেপুঁচে নিয়ে গেছে বলতে – লেখক এখানে পাতিল থেকে সব খাবার পরিষ্কার করে নিয়ে যাওয়াকেই বুঝিয়েছেন।

↪ নানা ছলে অর্থ – নানা উসিলা ।




↪ নিস্তব্ধ মধ্যাহ্ন হলাে – নিরিবিলি দুপুর ।

↪ এ গল্প পাঠের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীরা – মানবেতর প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা পরিহার করে সহানুভূতিশীল হবে।

↪ কোন পাখি সবচেয়ে ভােরে উঠে – দোয়েল।

↪ পাখি চালান দেওয়া – ব্যাধের ব্যবসা।

↪ ব্যাধ’ হলাে যারা পাখি ধরে চালান দিয়ে অর্থ উপার্জন করে।

↪  ভজন গান শুরু হতাে – রাত তিনটে থেকে।

ভজন বলতে বােঝায় – প্রার্থনামূলক সংগীতকে।

↪ পাখিদের মধ্যে একটু দেরী করে আসত – একজোড়া বেনে বৌপাখি।

↪ বেনে বৌপাখি জোড়া ফিরে এসেছিল -তিন দিন পর।

↪ বেনে বৌ পাখি প্রত্যহ হাজিরা হেঁকে যেত – প্রাচীরের ধারের ইউক্যালিপ্টাস গাছের সবচেয়ে উচু ডালটায় বসে।

↪ পাখিদের মধ্যে একটু দেরীতে আসতাে – হলদে রঙের একজোড়া বেনে বৌ পাখি।

↪ দেওঘরে মধ্যবিত্ত গৃহস্থের ঘরে পীড়িতদের মধ্যে সংখ্যায় বেশি ছিল – মেয়েদের।

↪ পা ফুলাে মেয়েদের রােগটির নাম – বেরিবেরি।

↪ লেখকের সবচেয়ে দুঃখ হতাে – একটি দরিদ্র ঘরের মেয়েকে দেখে।

↪ সন্ধ্যার পুর্বেই ঘরে প্রবেশ করা প্রয়ােজন ছিল – বাত ব্যাধিগ্রস্তদের।

↪ অন্ধকারে লেখকের সংগী হয়েছিল – একটি কুকুর।




↪ অতিথিশালায় বাড়তি খাবারের অংশীদার ছিল – মালীর মালিনী।

↪কুকুরটিকে খেতে দেওয়ার জন্য লেখক প্রথম দিনে নির্দেশ দেন – অতিথিশালার চাকরকে।

↪ কুকুরটিকে খেতে দেওয়ার জন্য লেখক দ্বিতীয় দিনে নির্দেশ দেন – অতিথিশালার বামুনঠাকুরকে।

↪ দ্বিতীয় দিনে কুকুরটা বসেছিল – বাইরের বারান্দার নিচে।

↪ কুকুরটি লুকিয়ে বাড়িতে এসেছিল – দুপুর বেলা।

↪ লেখকের ট্রেন স্টেশন ছেড়ে দিলে অতিথি দাঁড়িয়ে ছিল – স্টেশনের ফটকের বাইরে।

↪ শরৎচন্দ্রের শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের সংখ্যা – ৪ খন্ড।

↪ লেখকের ঘুম ভেঙ্গে গেল – একঘেয়েমির জন্য। রাত তিনটায়।

↪ দরিদ্র ঘরের মেয়েটির ছেলেমেয়ে – ৩ জন।

↪ লেখকের দেওঘর ছেড়ে যাবার আগে – বকশিশ পেল সবাই, পেল না কেবল অতিথি।

↪ রাত্রিশেষে আনাগােনা শুরু হয় – পাখিদের।

↪ গল্পকথক দেওঘরে নানা ছলে দেরি করলেন – ২ দিন।

↪ বাড়ির ফটককে বলা হয় – সদর দরজা।

↪ ‘কুঞ্জ’ শব্দটির সমার্থক শব্দ – উপবন।

↪ পান্ডুর’ শব্দের অর্থ – ফ্যাকাশে। দরদ অর্থ – মায়া ।

↪ অতিথির স্মৃতি গল্পের পুর্বনাম – দওঘরের স্মৃতি।

↪ অতিথির স্মৃতি গল্পের অতিথি – একটা কুকুর।

↪ অতিথির স্মৃতি গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র – অতিথি।

কুকুরের সংগে গল্পকথকের সৃষ্টি হয়েছে – মমত্বের সম্পর্ক।

↪ সাধারনত স্নেহপ্রীতির সম্পর্ক গড়ে ওঠে – মানুষে মানুষে ।

↪ মানুষ মমতায় সিক্ত হয় – সম্পর্কের সুত্র ধরে ।

↪ অতিথির স্মৃতি গল্পে প্রকাশ পেয়েছে – সম্পর্কের বিচিত্র রূপ।

↪ অতিথির স্মৃতি গল্পের মূল বিষয় – প্রাণীর প্রতি মমত্ববােধ।

↪ অতিথির স্মৃতি গল্পের পাখিগুলাে – দোয়েল ,বুলবুলি ,শ্যামা,শালিক,টুনটুনি,বেনে-বৌ।

↪ বিকেল হলে কথক বসে থাকে – গেটের বাইরে পথের ধারে।

↪ মধ্যবিত্ত পীড়িতদের মধ্যে – মেয়েদের সংখ্যাই বেশী।

↪ দরিদ্র ঘরের মেয়েটির সাথে – তিনটি ছেলেমেয়ে ছিল।

↪ দরিদ্র ঘরের মেয়েটির বয়স – চব্বিশ পঁচিশ বছর।

↪ দরিদ্র ঘরের মেয়েটির চোখের চাহনি ছিল – ক্লান্ত।

↪ক্ষুধাহরন অর্থ – কিছু খেয়ে ক্ষুধা নিবারন করা।

↪বৃদ্ধ ব্যক্তিরা দ্রুতপদে বাসায় ফিরছিল – সন্ধ্যার আগে।




↪ খাওয়া সম্বন্ধে নির্বিকারচিত্ত কথাটির অর্থ হলাে – বেচে যাওয়া খাবার অন্য কাউকে দিতে নারাজ। 

↪ চাকরদের দরদ বেশী – মালিনীর পরে।

↪ শরীর খারাপ থাকায় কথক নিচে নামতে পারেননি – দিন দুই।

 

অতিথির স্মৃতি – জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তরঃ

১। ‘অতিথি স্মৃতি’ গল্পে একটু দেরি করে আসত কোন পাখি ?

উত্তরঃ ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে একটু দেরি করে আসত হলদে রঙের একজোড়া বেনে-বৌ পাখি।

২। ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে ট্রেন স্টেশন ছাড়তে আর কয় মিনিট দেরি ?

উত্তরঃ  “অতিথির স্মৃতি’ গল্পে ট্রেন স্টেশন ছাড়তে আর এক মিনিট দেরি।

৩। বেনে-বৌ পাখি কোন গাছে বসে হাজিরা হেঁকে যেত ?

উত্তরঃ বেনে-বৌ পাখি ইউক্যালিপটাস গাছের সবচেয়ে উঁচু ডালটায় বসে প্রত্যহ হাজিরা হেঁকে যেত।

৪। বামুন ঠাকুরকে ডেকে লেখক কী বলেছিলেন ?

উত্তরঃ লেখক বামুন ঠাকুরকে ডেকে বলেছিলেন, “ও আমার অতিথি, ওকে পেট ভরে খেতে দিও।”

৫। ‘ভজন’ অর্থ কী ?

উত্তরঃ ‘ভজন’ অর্থ ঈশ্বর বা দেবদেবীর স্তুতি বা মহিমাকীর্তন।

৬। ‘বড় দিদি’ উপন্যাস কোন পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয় ?

উত্তরঃ ‘বড়দিদি উপন্যাস ‘ভারতী’ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়।

৭। পান্ডুর শব্দের অর্থ কী?

উত্তরঃ পান্ডুর অর্থ হলাে ফ্যাকাশে।

৮। কত সালে ‘বড়দিদি’ উপন্যাস প্রকাশিত হয় ?

উত্তর ঃ১৯০৭ সারে ‘বড়দিদি’ উপন্যাস প্রকাশিত হয়।

৯। সবেচেয়ে ভােরে ওঠে কোন পাখি ?

উত্তরঃ সবেচেয়ে ভােরে ওঠে দোয়েল পাখি ।

১০। ভজন শুরু হয় কখন ?

উত্তরঃ ভজন শুরু হয় রাত্রি তিনটে থেকে।




১১। প্রাচীরের ধারের গাছটির নাম কী ?

উত্তরঃ প্রাচীরের ধারের গাছটির নাম ইউক্যালিপটাস।

১২। কার আদেশে লেখক দেওঘরে এসেছিলেন ?

উত্তরঃ চিকিৎসকের আদশে লেখ দেওঘরে এসেছিলেন।

১৩। লেখক দেওঘর গিয়েছিলেন কেন ?

উত্তরঃ লেখক দেওঘরে গিয়েছিলেন বায়ু পরিবর্তনের জন্য ।

১৪। ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পটির পূর্ণ নাম কী ছিল ?

উত্তরঃ ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পটির পূর্ণ নাম ‘দেওঘরের স্মৃতি’ ছিল।

১৫। ‘কুঞ্জ’ অর্থ কী ?

উত্তরঃ কুঞ্জ অর্থ লতাপাতায় আচ্ছাদিত বৃত্তাকার স্থান, উপবন।

১৬। অতিথির স্মৃতি গল্পটি রচনা করেছেন কে ?

উত্তরঃ ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পটি রচনা করেছন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়।

১৭। “অতিথির স্মৃতি’ গল্পটি শরৎচন্দ্রের কোন গল্পের পরিবর্তত নাম ?

উত্তরঃ ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পটি শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘দেওঘরের স্মৃতি’ গল্পের পরিবর্তিত নাম।

১৮। ‘অতিথির স্মৃতি গল্পের অতিথি কে ?

উত্তরঃ ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথি একটি বয়স্ক কুকুর।

১৯। ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পে ‘ভজন’ এর সুরটি কেমন ছিল ?

উত্তরঃ “অতিথির স্মৃতি’ গল্পে ‘ভজন’ এর সুরটি ছিল একঘেয়ে ।

২০। ব্যাধের কাজ কী ?

উত্তরঃ ব্যাধের কাজ পাখি ধরে চালান দেওয়া।

২১। ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের মূল বিষয় কী?

উত্তরঃ ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের মূল বিষয়-একটি অবুঝ প্রাণীর সঙ্গে একজন মানুষের মমত্বের সম্পর্কে বর্ণনা।




 

অতিথির স্মৃতি – অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১। প্রশ্নঃ ‘বেরিবেরি আসামি’ বলতে কী বােঝানাে হয়েছে?

উত্তরঃ বেরিবেরি আসামি বলতে লেখক বেরিবেরি রােগে আক্রান্ত একদল মেয়েকে বুঝিয়েছেন।

অতিথি স্মৃতি’ গল্পে লেখক চিকিৎসকের পরামর্শে দেওঘরে গিয়ে থাকার অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করেছেন। অন্যসব বিষয়ের সঙ্গে তিনি সেখানকার মধ্যবিত্ত গৃহস্থ ঘরে মানুষের জীবনযাপন সম্পর্কেও বলেছেন। মধ্যবিত্ত ঘরের অসুস্থদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। সেখানকার মেয়েরা বেরিবেরি রােগে আক্রান্ত। তাই তারা তাদের ফোলা পা মােঝয় ঢেরেক রাখত। এ বিষয়টি বােঝাতেই লেখক এদেরকে ‘বেরিবরি আসামি’ বলেছেন।

 

২। ‘ওর মতাে তুচ্ছ জীব শহরে আর নেই’ বলতে কী বোঝানাে হয়েছে ?

উত্তরঃ ‘ওর মতাে তুচ্ছ জীব শহরে আর নেই’ বলতে লেখক তার অতিথি কুকুরটির তুচ্ছ অবস্থাকে বুঝিয়েছেন।

লেখক অসুস্থতার জন্য দেওঘরে আসেন বায়ু পরিবর্তনের জন্য। এখানে এসে তার সঙ্গে একটি কুকুরের মমত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লেখক কুকুরটিকে অতিথির মর্যাদা দিয়ে বাড়ি নিয়ে যান। সেই বাড়ির চাকর-মালিনী কুকুরটিকে খেতে দেয় না, মেরে তাড়িয়ে দেয়। তাদের কাছ কুকুরটি অত্যন্ত অবাঞ্চিত । আবার লেখকের দেওঘর ছেড়ে যাওয়ার সময় হলে তিনি এই কুকুরটির কথা ভেবে কষ্ট পান, কিন্তু তাকে সাথে করে নিয়ে যাওয়া তার পক্ষে সম্ভব নয়। তখন লেখকের মনে হয় ‘ওর মতাে তুচ্ছ জীব শহরে আর নেই’।

 

৩। বকশিশ পেল সবাই, পেল না কেবল অতিথি-কেন ?

উত্তরঃ বকশিশ পেল সবাই, পেল না কেবল অতিথি-একথার মধ্যে দিয়ে লেখক দেওঘর থেকে ফিরে আসার সময় সবাইকে বকশিশ দিলেও অতিথি কুকুরটিকে যে কিছুই দিতে পারেননি, সেই বিষয়টিকে বুঝিয়েছেন।

অতিথি স্মৃতি’ গল্পে রাস্তার একটি কুকুরের প্রতি লেখকের সহানুভূতিশীল হৃদয়ের পরিচয় ফুটে উঠেছে। তিনি অভুক্ত কুকুরটিকে সাথে নিয়ে আসেন এবং খাওয়ান। পরবর্তীতে কুকুরটির সাথে তার সখ্য গড়ে ওঠে। তিনি বাড়ির চাকরদেরকে বলে দেন ঐ কুকুরটিকে খেতে দিতে। দেওঘর থেকে ফিরে আসার সময় কুকুরটি প্রতি মায়ায় তার প্রাণ কেঁদে ওঠে। কুকুরটি আগে থেকেই স্টেশন পর্যন্ত আসা লােকদের তিনি বকশিশ দিয়ে বিদায় দেন। গাড়িতে চড়ে দেখেন যে, তার অতিথি কুকুরটি গেটের কাছে দাঁড়িয়ে আছে। তখন লেখক নিজের মনে উপলব্ধি করেন যে, সবাইকে বকশিশ দিলেও তার অতিথিকে কিছু দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গেই প্রশ্নোক্ত কথাটি বলা হয়েছে।

 

৪। মালি-বৌ কুকুরটাকে তাড়িয়ে দিত কেন ?

উত্তরঃ লেখকের অতিথি কুকুরটি বেঁচে যাওয়া খাবারে ভাগ বসাত বলে মালি-বৌ কুকুরটিকে তাড়িয়ে দিত।

লেখক মনে করেছিলেন যে স্বাস্থ্যনিবাসে প্রতিদিন অনেক খাবার ফেলনা যায়। তাই তিনি অতিথিরূপী কুকুরটিকে নিয়মিত খাবার দিতে বলেছিলেন। স্বাস্থ্যনিবাসের মালি-বৌ ছিল খাওয়া সম্বন্ধে নির্বিকারচিত্ত। বেঁচে যাওয়া খাবার সে একাই সাবাড় করত। তাই অতিথিরূপী কুকুরটি তার খাবার অনাকাঙিক্ষত ভাগিদার হওয়ায় সে তাকে তাড়িয়ে দিত।

 

৫। ট্রেন ছেড়ে দিলেও লেখক বাড়ি ফেরার আগ্রহ খুঁজে পাননি কেন ?

উত্তরঃ অতিথির প্রতি মায়া জন্মে যাওয়ার কারণে লেখক বাড়ি যাওয়ার আগ্রহ খুঁজে পাননি।

দেওঘর বেড়াতে এসে লেখক একটি পথের কুকুরকে ডেকে এনে খাবার দেন। ক্রমে ক্রমে তার প্রতি লেখকের মমতা জন্মে। তিনি তার নাম দেন অতিথি। অতিথিও লেখকের খুব ভক্ত হয়ে ওঠে। তারপর একদিন লেখকের বাড়ি ফেরার সময় হয়ে যায় । সেদিন অতিথি রেলস্টেশন পর্যন্ত যায়। ট্রেন ছেড়ে দিরে এক দৃষ্টিতে লেখকের যাত্রাপথের দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রাণীটির প্রতি মমত্বের কারণে লেখক বাড়ি ফেরার আগ্রহ মনের মধ্যে খুঁজে পাননি।




 

৬। মালির বৌ কুকুরটাকে সহ্য করতে পারত না কেন ?

উত্তরঃ মালির বউ কুকুরটাকে সহ্য করতে পারত না, কারণ কুকুরটা তার খাবারে ভাগ বসাত।

লেখক প্রতিদিন বেড়াতে বের হতেন। একদিন একটি কুকুর তাঁর সঙ্গে বাড়ি পর্যন্ত আসেন। লেখক কুকুরটিকে অতিথির মর্যাদা দিয়ে বাড়ির চাকরকে খেতে দিতে বলেন। লেখক মনে করেছিলেন প্রতিদিন তাে অনেক খাবার নষ্ট হয়। সেই খাবারগুলাে অতিথিকে দিতে কারও আপত্তি হবে না। কিন্তু আপত্তি ছিল মালির বউয়ের। কারণ ঐ খাবারের অংশীদার ছিল সে। তাই তার ভাগের খাবারে কুকুরটার ভাগ বসানাের কারণে মালির বউ কুকুরটাকে সহ্য করতে পারত না।

 

৭। ‘ও আমার অতিথি, ওকে পেট ভরে খেতে দিও।’-ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের লেখক কুকুরকে খাবার দেওয়ার জন্য বামুন ঠাকুরকে উপরােক্ত আদেশ করেছেন।

চিকিৎসকের পরামর্শে লেখক বায়ু পরিবর্তনের জন্য দেওঘরে যান। সেখানে একদিন পথে ঘুরতে ঘুরতে সন্ধ্যা হয়ে আসে। অন্ধকার ঘনিয়ে এলে হঠাৎ লেখক পেছনে চেয়ে দেখেন একটি কুকুর তাকে অনুসরণ করছে। তিনি বললেন, “কি রে, যাবি আমার সঙ্গে? ” কুকুরটির লেজ নাড়ার ভঙ্গি দেখে লেখক বুঝলেন যে সে রাজি আছে। তাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি বাসায় ফিরলেন কিন্তু সে ভিতরে ঢােকার সাহস পেল না। পরদিন বামুন ঠাকুরকে ডেকে তিনি বলে দিলেন, ‘ও আমার অতিথি, ওকে পেট ভরে খেতে দিও।’

 

৮। ‘সঙ্গে যারা তুলে দিতে এসেছিল তারা বকশিশ পেল সবাই, পেল না কেবল অতিথি।’-ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ দেওঘর ছাড়ার সময় লেখকের মালপত্র নিয়ে যারা তাকে তুলে দিতে স্টেশনে এসেছিল তারা সবাই বখশিশ পেয়েছে, শুধু লেখকের অতিথি কুকুরটি ছাড়া।

বায়ু পরিবর্তনের জন্য লেখক দেওঘরে যান এবং সেখানকার একটি কুকুরের সঙ্গে তার পরিচয় ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। লেখক তাকে অতিথির মর্যাদা দেন। সময় শেষে লেখক দেওঘর ছেড়ে আসার দিন মালপত্র নিয়ে যারা তাকে তুলে দিতে স্টেশনে এসে বসেছিল তারা সাবই বখশিশ পেয়েছে। সবার আগে স্টেশনে এসে বসেছিল অতিথি কুকুরটি। কিন্তু সে কোনাে বখশিশও পেল না। সে কেবল মমতার টানেই স্টেশনে গিয়েছিল এবং তা নিয়েই সে ফিরেছে।

 

৯। ‘কিন্তু যৌবনে একদিন শক্তিসামর্থ্য ছিল’- কে কাকে উদ্দেশ্য করে এ মন্তব্য করেছেন ব্যাখ্যা কর।

উত্তরঃ ‘কিন্তু যৌবনে একদিন শক্তিসামর্থ্য ছিল’-এ কথা লেখক বলেছিলেন ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের অতিথি বয়স্ক কুকুরকে উদ্দেশ্য করে। 

মানবেতর একটি প্রাণীর সঙ্গে একটি অসুস্থ মানুষের কয়েকদিনের পরিচয়ের মধ্য দিয়ে গড়া ওঠা একটি মমত্বের সম্পর্কই ‘অতিথির স্মৃতি’ গল্পের মূল বিষয়বস্তু। মানুষে মানুষে যেমন স্নেহপ্রীতির সম্পর্ক, অন্য জীবের সঙ্গেও মানুষে তেমন সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে-সেই বিষয়টিই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে এ গল্পে । লেখক অন্ধকারে একাকী পথ চলতে গিয়ে হঠাৎ দেখলেন তার পেছনে পেছনে একটি কুকুর আসছে। কুকুরের লেজ নাড়ানােতে লেখক বুঝলেন কুকুরটি তার সঙ্গে যেতে রাজি আছে। লেখক দয়াপরবশ হয়ে বললেন-তবে আয় আমার সঙ্গে। তখন কুকুরটির বাহ্যিক গড়ন লক্ষ করে লেখক আলােচ্য উক্তিটি করেন।

Leave a Comment